সরকারি গুদামে চাল প্রবেশ না করলেও ডিলারদেরকে বিল দেওয়ার জন্য কাগজপত্র তৈরি হয়ে গিয়েছিল। যা ছিল গুদামে চাল না দিয়েই অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা। নোয়াখালী চৌমুহনী খাদ্য গুদামের খানসামায় এলএসডি খাদ্য গুদাম থেকে সরকারী চাল আত্মসাতের এমন চেষ্টার অভিযোগে উঠেছে গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল করিমের বিরুদ্ধে । এই ঘটনায় স্হানীয় জনগন তাকে প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছে।জানা যায়, চৌমুহনী খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা করিম বেগমগঞ্জের চৌমুহনী আলমদিনা মিলসহ বিভিন্ন মিলে ও সেতু ভাঙ্গার বিভিন্ন গুদামে দীর্ঘদিন থেকে আমদানিকৃত ভালো চাউল বিক্রি করে নিম্নমানের পচা চাউল বিতরণ করে আসছে। গতকাল দুপুরে ১৪৪১৭০ নাম্বারের গাড়িটি সদরের সুধারাম থানার ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টি আই) চাউলের গাড়িটি আটক করলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সুপারিশে মোটা অংকের রফাদফার মাধ্যমে ঘটনাটি দাওয়া চাপা দেওয়া হয়।পরে দুপুরে খাদ্য গুদামে এই অনিয়ম করার চেষ্টার বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করেন। অভিযোগ রয়েছে, করিম চট্টগ্রাম থেকে আমদানি চাউল গোডাউনে রেখে মিল থেকে নিম্ন মানের চাউল চৌমুহনীর হাজীপুর ও দূর্গাপূরে নিয়ে যায়। করিমের নেতৃত্বে সটের বস্তুার চাউল রেখে দিয়ে সাদা বস্তার চাউল গাড়িতে তুললে সাধারণ জনগনের তোপের মুখে গাড়িটি সোনাপুর নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে জেলা অফিসের কিছু কর্মকতার সহযোগিতায় রাত ৪ টায় রফাদফার মাধ্যমে পুনরায় গাড়িটি ফেরত আনা হয়।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, অভিযুক্ত চৌমুহনী খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা আবদুল করিম অতীতে সেনবাগ, সোনাপুর, বাসখালীসহ অনেক জায়গায় তার বিরুদ্ধে অর্থ ও সরকারি চাউল আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। অতীতে ধানের ক্ষেএে ও তিনি অনিয়ম দূর্ণীতি ও বিধি বহিভূত কাজ করার পর ও তার বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না তা অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেলে স্হানীয় জনগণ তাকে প্রত্যাহার করা ও দাবী জানান এই সময়।
মো.আলা উদ্দিন নামের ভুক্তভোগী এক কৃষক জানান, সরকারি খাদ্য গুদাম (LSD) থেকে পাচারের উদ্দেশ্যে সরকারি চটের বা শালার বস্তা পরিবর্তন করে বেসরকারি বা সাদা প্লাস্টিকের বস্তায় চাল ভরে আত্মসাতের অভিযোগ একটি গুরুতর অপরাধ। করিম দীর্ঘদিন থেকে এই ধরনের অপকর্মে জড়িত। গত কাল করিমের নেতৃত্বে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সিলযুক্ত বা সরকারি শালার (চটের) বস্তা থেকে উন্নত মানের চাল সরিয়ে ফেলা হয় পরে খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে সরকারি চাল সাধারণ প্লাস্টিকের বস্তায় বা বিভিন্ন নামী ব্র্যান্ডের নকল সাদা বস্তায় ভরা হয়। এই ঘটনায় করিমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্হা গ্রহন করার দাবি জানান।
বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাইসুর রহমান বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বেগমগঞ্জের চৌমুহনী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল করিমের বক্তব্য নিতে তার মুঠোফোনে চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি।