মোঃ মোল্লা শাওন, ঝালকাঠি::টিমের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। “চুইঝাল রেস্টুরেন্ট এন্ড হাজী কাচ্চি ঘর” নামক প্রতিষ্ঠানের প্রোপাইটর মো. শাওন বেপারী এবং পরিচালনায় আছেন মো. সুমন বেপারী। তাদের বাড়ি মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলায়। প্রতিষ্ঠানটির সকল কর্মচারীর বাড়িও মাদারীপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায়।শাওন বেপারী ও সুমন বেপারী প্রায় দুই বছর আগে ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিস মোড় এলাকায় ছোট্ট একটি বিরিয়ানির দোকান চালু করেন। সেখান থেকে মাত্র দুই বছরের মধ্যে তারা ঝালকাঠি জেলা শহরে চারটি দোকানের মালিক হয়ে যান। মজার বিষয় হলো— তাদের চারটি দোকানের কোনটিরই নিরাপদ খাদ্য আইনের অধীনে বৈধ কাগজপত্র নেই। এক দোকানের ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে তারা চারটি দোকান পরিচালনা করছেন।তারা চারটি প্রতিষ্ঠান চালাতে কাঁচাবাজার, মুদি সামগ্রী এবং গরু-খাসির মাংস অল্প কিছু ঝালকাঠি থেকে ক্রয় করেন নামমাত্রে; বাকি সময় দেখা যায় খুব সকালে বস্তাভর্তি গরু ও খাসির মাংস দোকানের পেছনে এনে নিজস্ব কসাই দিয়ে কাটা হয়। এসব মাংসে কোনো রক্ত থাকে না, এবং দেখতে মরা গরুর মাংসের মতো সাদা দেখা যায় । উল্লেখিত বিষয়ে কিছুদিন আগে ঝালকাঠির কয়েকজন সাংবাদিক দোকানের পিছনে বস্তাভর্তি মাংস কাটার ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে প্রকাশ করেছিলেন। তবে কিছুদিন পর হঠাৎ সেই ভিডিও ফেসবুক থেকে উধাও হয়ে যায়।এরপর শুরু হয় যায়যায় বেলা'র অনুসন্ধান। তদন্তে উঠে আসে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য—এই রেস্টুরেন্টে সব ধরনের পণ্যের দাম তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।রান্নাঘরের পরিবেশ অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর।বস্তাভর্তি মরা গরু, খাসি ও মুরগির মাংস রান্নাঘরে নিজস্ব কসাই দিয়ে কাটা হয়।তান্দুরি চিকেন ও গ্রিলের মাংস রাস্তার পাশে ফেলে রাখা হয়। এ সময় কুকুর বিড়াল আশপাশে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায় এসব খাবারে ক্ষতিকর ও বিষাক্ত রং মিশিয়ে রান্না করা হয়।ক্রেতাদের অভিযোগ অনুযায়ী, এক পিস গরুর মাংস দিয়ে “চুইঝাল” বিক্রি করা হয় ২২০ টাকায়, অথচ তাতে চুইঝাল থাকে না— শুধু এক পিস রসুন আর সামান্য ক্ষতিকর রং মেশানো ঝোল থাকে। “স্পেশাল চিকেন বিরিয়ানি” বিক্রি হয় ২০০ টাকায়, কিন্তু মাংস থেকে বাসায় নিলে প্রচন্ড দুর্গন্ধ বের হয়, সালাদে বাজারের নিম্নমানের শসা দেওয়া হয়। এসব নিম্নমানের খাবারের জন্য ক্রেতাদের কাছ থেকে নেওয়া হয় অস্বাভাবিক মূল্য। এতে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন ঝালকাঠির মানুষ— এমনকি সাংবাদিকরাও বাদ যাচ্ছেন না।সচেতন মহলের দাবি:চটকদার নামের আড়ালে মানুষের বিশ্বাস নিয়ে প্রতারণা বন্ধ করতে হবে। ঝালকাঠি জেলা প্রশাসন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উচিত অবিলম্বে তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। খাদ্যে ভেজাল মেশানো অসাধু ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।উল্লেখিত বিষয়ে সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকারে দোকান মালিক সুমন স্বীকার করেছেন যে “ভুল হয়েছে” এবং সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেছেন।
এমন দুর্নীতির কি শাস্তি হওয়া উচিত আপনাদের মতামত জানিয়ে যাবেন এবং লাইক শেয়ার কমেন্ট করে আমাদের পাশে থাকুন।