ই-পেপার জাগ্রত খবর - জুন ১৭, ২০২৬, ১০:৫৫ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ৪, ২০২৫, ৭:০২ পূর্বাহ্ণ
তথ্যের অভাবে ঠেকানো যাচ্ছে না আসামিদের বিদেশে পলায়ন
জাগ্রত খবর::গত বছর চলা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় যেসব মামলা হয়েছে, পর্যাপ্ত তথ্যের অভাবে সেসব মামলার আসামিদের বিদেশে পলায়ন ঠেকাতে পারছে না ইমিগ্রেশন পুলিশ। সন্দেহভাজন আসামিদের ক্ষেত্রেও একই দশা। এমন প্রেক্ষাপটে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকালের মামলার আসামি ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিদেশ গমন রোধে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে গত ১১ সেপ্টেম্বর পুলিশের সব ইউনিটের কাছে বিশেষ লিখিত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এতে বিদেশ গমন রোধের চিঠিতে সংশ্লিষ্ট আসামি ও ব্যক্তির পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর সংযুক্ত করতে বলা হয়েছে।পুলিশ সদর দপ্তরের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে রুজুকৃত মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা আসামিদের বিদেশ গমন রোধের চিঠি দিয়ে থাকে ইমিগ্রেশন পুলিশকে। কিন্তু বেশিরভাগ চিঠিতে সংশ্লিষ্ট আসামির পাসপোর্ট নম্বর ও এনআইডি নম্বর থাকে না। ফলে ইমিগ্রেশন পুলিশ এসব আসামির বিদেশযাত্রা ঠেকাতে পারছে না। বিশেষ করে, সমাজে যাদের পরিচিতি কম, তাদের ইমিগ্রেশন পুলিশও চেনে না। এ সুযোগে তারা বিদেশে পালিয়ে যাচ্ছে।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পর্যাপ্ত তথ্যের অভাবে আসামিদের বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার দায় এসে পড়ছে ইমিগ্রেশন পুলিশের ওপর। যে কারণে ইমিগ্রেশন পুলিশ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে, বিদেশযাত্রা ঠেকানোর চিঠিতে যেন তদন্ত কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট আসামি ও সন্দেহভাজন ব্যক্তির পাসপোর্ট ও এনআইডি নম্বর সংযুক্ত করেন। এ ছাড়া বিদেশযাত্রার নিষেধাজ্ঞার চিঠিতে আদালতের আদেশের কপি সংযুক্ত করারও অনুরোধ করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। এ ব্যাপারে স্পেশাল ব্রাঞ্চ থেকে পুলিশ সদর দপ্তরে একটি চিঠি পাঠানো হয়।জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে ১ হাজার ৭৭৫টি মামলা রুজু করা হয়। এর মধ্যে হত্যা মামলা রুজু হয়েছে ৭৭০টি। ইতোমধ্যে মোট ৫৭টি মামলার চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। এগুলোর মধ্যে ১৮টি হত্যা মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হয়েছে। এতে মোট আসামি ১ হাজার ৯৪১ জন। অন্যদিকে অন্যান্য ধারার ৩৯টি মামলা তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে। এতে মোট আসামি ২ হাজার ২৮৩ জন।ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গত বছরের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয় আওয়ামী লীগ সরকার। এরপর ক্ষমতাচ্যুত এ সরকারের মন্ত্রী, এমপি ছাড়াও আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃস্থানীয়রা দেশ ছেড়ে পালান। শুধু তাই নয়। সিটি করপোরেশনের মেয়র, পৌরসভার মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যান, পুলিশ কর্মকর্তা, ব্যবসায়ীসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগীদের অধিকাংশই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। তাদের অধিকাংশই আবার চোরাই পথে ভারতে ঢোকেন। এরপর সেখান থেকে পালান অন্য দেশে। কেউ কেউ ভারতে থেকে যান। এদিকে পলাতকদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা হতে থাকে। কিন্তু অধিকাংশ মামলাতেই আসামিদের পাসপোর্ট ও এনআইডি নম্বর নেই। আবার তদন্ত কর্মকর্তারাও আসামিদের বিদেশযাত্রা ঠেকানোর চিঠিতে পাসপোর্ট ও এনআইডি নম্বর যুক্ত না করায় দেশের সব ইমিগ্রেশন চেক পয়েন্টে তাদের বিদেশ গমন ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ে।ইমিগ্রেশন পুলিশের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা আমাদের সময়কে বলেন, যেসব আসামি পরিচিত ব্যক্তি নন, পাসপোর্ট ও এনআইডি নম্বর ছাড়া তাদের বিদেশযাত্রা ঠেকানো অনেকটাই দুরূহ।
Copyright © 2026 জাগ্রত খবর - jagrata Khobor. All rights reserved.