নিজস্ব প্রতিবেদক::বরিশালের নেহালগঞ্জ ফেরির ইজারা বিহীন প্রতিদিন টাকার হিসেব নেই কর্তৃপক্ষর কাছে বলে জানালেন সড়ক ও জনেপদের নির্বাহী কর্মকর্তা । নেহালগঞ্জ সেতু মেরামত কাজ শেষ করে বাউফল রুটে যানবাহন চলাচল শুরুর পরিকল্পনা নতুন করে লুটপাটের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে এই ফেরিঘাট। ব্রিজের কাজ সময় ক্ষেপন করে ফেরি থেকে দুর্নিতীর দাবি করেছেন এলাকাবাসী ।নেহালগঞ্জ ফেরিঘাট আড়িয়াল খা নদীতে ফেরি চালু করা না গেলে বিদ্যমান নেহালগঞ্জ সেতুর সংস্কার কাজ শেষ করা যাচ্ছেনা। কারণ নেহালগঞ্জ সেতু মেরামতের কাজ শুরু হলে ফেরি দিয়ে সকল ধরনের যানবাহ চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। তখন বেশির ভাগ গাড়ি নিচে ফেরি দিয়ে পারাপার হবে। তাই ব্রিজের কাজ যত ঢিলে হবে ততই লাভবান হবে সড়ক ও জনপদের অসাধু কর্মকর্তারা । এরপরও সেতুটির ওপর দিয়ে চলাচল করবে বাস ট্রাক থেকে শুরু করে সব ধরনের হালকা ও ভারী যানবাহন। এ সেতুতে ১০ টনের বেশি ভারি যানবাহন নিষিদ্ধ থাকবে ।কিন্ত নেহালগঞ্জ ফেরি থেকে টোল আদায়ের জন্য বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগ পরপর পাঁচ দফা টেন্ডার আহ্বান করার পরও টেন্ডারে একটি সিন্ডিকেট কেউই অংশ নিতে পারে নি বলে জানায় সড়ক নির্বাহী। সরকারি অর্থ লুটপাটের পরিকল্পনা অনুযায়ী ফেরি ইজারায় আভ্যন্তরীণ সমঝোতা হয়েছে । প্রথম তিন দফা টেন্ডারে কোন প্রতিষ্ঠানই আগ্রহ দেখান নি ফেরির ইজারা নিতে। চতুর্থবার রি টেন্ডারে দুটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেন। চতুর্থ বারের টেন্ডারে দুটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দেয়। পঞ্চম দফা টেন্ডার আহবান করা হলে জমা পড়ে একটি প্রতিষ্ঠানের দরপত্র। দফা টেন্ডার আহ্বান করা হলে ছয়টি প্রতিষ্ঠান সিডিউল ক্রয় করে কয়েকজন। অনুসন্ধানে জানা যায় চার প্রতিষ্ঠানের নামে দরপত্র ক্রয় তরে একই ব্যক্তি ।পরের বার রি টেন্ডার করার কথা থাকলেও পঞ্চম দফা টেন্ডারে অংশ নেয়া একটি প্রতিষ্ঠানের দরকে বিবেচনায় নিয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফেরিটির ইজারা চুড়ান্ত করার সুপারিশ করেছেন। ফলে প্রতিযোগিতামুলক দরে ফেরির ইজারা প্রক্রিয়া সিন্ডিকেটের ছক অনুযায়ী বাধাগ্রস্ত হয়।সড়ক ও জনপদ বিভাগের তথ্য মতে, নেহালগঞ্জ সেতু মেরামতের কাজ শুরু হলে মেরামত করে বাউফলর রুটে যানবাহন চালাতে সময় লাগবে তিন মাস। ৬ থেকে ৭ বছরের জন্য ফেরির টোল আদায়ের টেন্ডারে কোনো প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখাচ্ছে না এমন অজুহাতে ওই ফেরি সিন্ডিকেটটি দরপত্র ক্রয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে।পরপর তিন দফা টেন্ডার আহ্বান করা হলেও তাতে কোন প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়নি বলে জানান সড়ক ও জনপথ বিভাগ বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী ।তিনি বলেন, ফেরির রক্ষণাবেক্ষনসহ ইজারা আদায়ের জন্য আমরা পরপর তিন দফা টেন্ডার আহ্বান করেছি, কিন্তু কেউ অংশ গ্রহণ করেনি। এখন পর্যন্ত পাঁচবার টেন্ডার (পঞ্চম দফা) আহ্বান করছি।সুত্রমতে, নতুন করে রি টেন্ডার না করে শামিম হাওলাদারসহ আওয়ামীলীগ কয়েকজন দোসর ইজারা দেয়া সুপারিশ করতে ঘুষ লেনদেন করা হয়েছে । সিন্ডিকেটের পরিকল্পনা মতো তড়িঘড়ি করে ইজারা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুপারিশ করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী ।কিন্তু ইজারা না দিয়ে ফেরি ইজারাদার শামিম তার দাপট খাটিয়ে কয়েকজন মিলে প্রতিদিন ইজারা আদায় করছেন ।জানতে চাইলে সড়ক ও জনপদ বিভাগ বরিশালের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বলেন, এই বিষয়ে কোন অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে যাচাই করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সড়ক নির্মানের নাম করে এমন নজিরবিহীন লুটপাটের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক সড়ক ও জনপদ বিভাগের তিন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। স্থানীয়দের দাবি ব্রিজের কাজ একমাত্র ধীরগতি হচ্ছে ইচ্ছাকৃত । বরিশাল সড়ক ও জনপদের নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, মাস শেষে বলা যাবে কত টাকা কালেকশন হয়েছে । এক বছরের কালেকশন জানতে চাইছে তিনি এড়িয়ে গেছেন । স্থানীয় একটি সুত্র বলেছেন, সড়ক ও জনপদের এসও মুজাম্মেল হক শামিম হাওলাদার, বাদল, রফেজকে দিয়ে ফেরির কালেকশন করে প্রতিদিন ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকায় ভাগবাটোয়ারা করছেন । দায়সারা হয়তো কিছু টাকা সরকারী ফান্ডে জমা দিয়ে থাকেন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী ।