নিজস্ব প্রতিবেদক::পটুয়াখালী সদর সাবরেজিস্টার অফিসে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ বহুদিনের। পুরো দেশেই এসব অফিসে দলিল রেজিস্ট্রেশন, তল্লাশি, নকল উত্তোলনসহ যেকোনো কাজে অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়—এ যেন ওপেন সিক্রেট। বছরের পর বছর অভিযোগ উঠছে ঘুষ, দালালি, হয়রানি ও অসহায় জনগণের সঙ্গে বাণিজ্যের। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হলেও দুর্নীতি দমনে তেমন কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। বর্তমান সরকারের কঠোর অবস্থান ও হুশিয়ারির পরও মাঠপর্যায়ে অনিয়ম থামছে না।তেমনই চিত্র এবার প্রকাশ্যে এসেছে পটুয়াখালী উপজেলা সাব রেজিস্টার অফিসে। সেখানে কর্মরত পেশকার (মহোরার) জুলহাস ও অফিস সহকারী ঘিরে উঠে এসেছে বিস্ময়কর সব অভিযোগ। গ্রেড–১৬ এর পেশকার পদে তার সরকারি বেতন কাঠামো ৯,৩০০ থেকে ২২,৪৯০ টাকা। অথচ তার গ্রামের বাড়িতে রয়েছে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাড়ি। নামে–বেনামে রয়েছে জমিজমাও।পরে আওয়ামী লীগের স্থানীয় প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি সাব রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে অফিস পিয়ন পদে চাকরি নেন। কিছুদিনের মধ্যেই পদোন্নতি পেয়ে হন পেশকার। স্থানীয়দের ভাষায়—পেশকার মানেই আলাউদ্দিনের চেরাগ।অফিস পেশকার জুলহাসের বিরুদ্ধে দুদক কার্যালয়ে রিজওয়ান মোল্লা নামে এক ভুক্তভোগী মৌখিক অভিযোগ জমা দিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়—দলিল রেজিস্ট্রেশন, তল্লাশি, নকল উত্তোলন—যে কাজই হোক, সরকারি ফি ছাড়া অতিরিক্ত টাকা না দিলে কোনো ফাইল নড়াচড়া করে না। টাকা দিলে কাজ হয় মিনিট–ঘণ্টায়, না দিলে ঘুরতে হয় দিনের পর দিন।পটুয়াখালী সাব রেজিস্টার অফিসে গেলে গ্রাহকদের মুখেই শোনা যায় একই অভিযোগ। অনেকে বলেন, ৫% ঘুষ না দিলে জমির দলিল হয় না। সব নিয়ন্ত্রণ করেন অফিস পেশকার জুলহাস। কয়েকজন দলিল লেখকরাও জানান, অফিসে কাজ করতে হলে জুলহাসের অনুমতি লাগে। কেউ তার নিয়মের বাইরে যেতে পারে না। টাকা দিলে রাতেও কাজ হয়, না দিলে ফাইল থেমে থাকে।স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সাবেক আওয়ামী লীগ প্রভাব খাটিয়ে জুলহাস দীর্ঘদিন ধরে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। শুধু তিনিই নন, তার পরিবারও এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে চলেছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জুলহাস সাংবাদিকদের বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। ঘুষের বিষয়ে জানতে চাইলে জুলহাস বলেন, এটা ঘুষ না, সরকারি ফি নিচ্ছি। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, নিউজ–টিউজ হলে আমার কিছু যায় আসে না। সাময়িক একটু ঝামেলা হবে, তারপর সব ঠিক হয়ে যাবে।অভিযোগ রয়েছে, কিছু স্থানীয় সাংবাদিককে মাসিক মাসোহারা দিয়েও নিজের প্রভাব বজায় রেখেছেন তিনি।জনগণের অভিযোগ, ধাপে ধাপে অনিয়ম এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে সাধারণ মানুষ দলিল করতে গেলে আতঙ্কে থাকে। অনেকেই বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে কাজ করাতে রাজি হন। তাই স্থানীয়দের দাবি, জুলহাস ও অফিস সহকারীসহ এ ধরনের দুর্নীতিবাজ কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। নইলে সাব রেজিস্ট্রি অফিসের দুর্নীতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। এব্যাপারে জুলহাস বলেন, একটুতো সব জায়গায়ই চলে ।