ই-পেপার জাগ্রত খবর - জুন ২০, ২০২৬, ১১:০২ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারি ৩১, ২০২৬, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ
পাটের কৃত্রিম সংকটে ধুঁকছে জুটমিল
নিজস্ব প্রতিবেদক::আর্থিক সংকট, অপরিশোধিত বকেয়া ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে খুলনা অঞ্চলের পাটকলে কাঁচা পাটের সংকট তীব্র হয়েছে। প্রায় অচল পর্যায়ে রয়েছে পাটকলগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম। কৃত্রিম সংকটে কাঁচা পাটের দামও গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। মিল মালিকরা বলছেন, গত বছরের জুলাই-আগস্টে মণপ্রতি কাঁচা পাটের দাম ছিল ২২০০-২৪০০ টাকা। দাম বেড়ে সেপ্টেম্বরে কাঁচা পাট বিক্রি হয় ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ চার হাজার টাকায়। চলতি বছরের শুরুতেই দাম ছাড়িয়ে যায় ৫ হাজার টাকা। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে মজুতদারদের বাজার নিয়ন্ত্রণের কারণে সংকট তৈরি হয়েছে। খুলনার চুকনগর, তেরখাদা, চুকনগর, তালা, সাতক্ষীরার কলারোয়া, পারুলিয়াসহ আশপাশের বাজারে পাটের সরবরাহ অনেক কমেছে। এ ছাড়া আর্থিক সংকটের কারণে চাহিদা অনুযায়ী কাঁচা পাট কিনতে পারছেন না পাটকল মালিকরা। মিলগুলোতে পাট সরবরাহকারীদের বিপুল বকেয়া থাকায় তারাও সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছেন।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গুদামে কাঁচা পাট না থাকায় খুলনার বেসরকারি এফ আর জুট, সাগর জুট মিল, জুট টেক্সটাইল, জয় জুট, হাবিব অ্যাগ্রো জুট, আইয়ান জুট, ওহাব জুট, ফারুক জুটসহ খুলনা অঞ্চলের ২৪টির মতো পাটকল বন্ধের ঝুঁকিতে পড়েছে। ইলিয়াস উদ্দিন ফকির নামে এক কাঁচা পাট বিক্রেতা জানান, এ বছর অতিবৃষ্টিতে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন অঞ্চলে পাট উৎপাদন কম হয়েছে। তাছাড়া মজুতদাররা মজুত রেখে সংকট তৈরি করে কাঁচা পাটের দাম বৃদ্ধি করেছেন।পাট রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজেএএর সাবেক চেয়ারম্যান ফরহাদ আহমেদ আকন্দ বলেন, দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় পাটকল মালিকদের পক্ষে বাজার থেকে কাঁচা পাট কেনা সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া মজুতদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারাও বাজারে পাট ছাড়ছেন না। বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএসএ) চেয়ারম্যান তাপস প্রামাণিক বলেন, মজুতদাররা এখন বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের কারসাজির কারণে মূল্য আরও বাড়তে পারে। এতে মিল মালিকরা বিপাকে পড়েছেন।
Copyright © 2026 জাগ্রত খবর - jagrata Khobor. All rights reserved.