জাগ্রত খবর:: গত শনিবার ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় আশুলিয়ার বিরুলিয়া এলাকা থেকে আবু হানিফ গাজী (৩৫) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মরহুম হারুন শেখের বড় ছেলে হানিফ গাজীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় বরিশালের মুলাদী উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের নাতিরহাট গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।জানা যায়, হানিফ গাজী সেদিন দুপুর ২টার দিকে রায়েরবাজারের ভাড়া বাসা থেকে বের হন এবং এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে দুই নাবালিকা কন্যা সন্তান বাবাহীন হয়ে পড়ল।সাভার থানা পুলিশ মৃতদেহটি শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। রবিবার রাত ৯টায় নিজ গ্রামের বাড়ি নাতিরহাট গ্রামে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।বর্তমানে নিহতের মোবাইল ফোনটি সাভার থানার সাব-ইন্সপেক্টর আব্দুল ওয়াহ্হাবের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। মামলার ফরেনসিক রিপোর্টের দায়িত্বে আছেন মো: বোরহান। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের ভার সাভার মডেল থানার ওসি মো: জুয়েলের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।নিহত আবু হানিফ গাজীর হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার দাবিতে তার নিজ গ্রাম নাতিরহাট-এ এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে এই কর্মসূচিতে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন।মানববন্ধনে নিহতের মেজো ভাই হাফেজ আরিফুল ইসলাম সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, যেমন: মুহাম্মদ বেলাল হোসাইন, মো: সওকত সরদার, মো: আশরাফুল আলম, মো: সহিদ তালুকদার, মো: বায়েজিদ হোসাইন, এবং অসংখ্য গ্রামবাসী উপস্থিত ছিলেন।বক্তারা বলেন, “হানিফ গাজী একজন নিরীহ মানুষ ছিলেন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে হত্যাকারীদের শনাক্ত করা হয় এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হয়। দোষীরা দ্রুত গ্রেপ্তার না হলে আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন তারা।”এই মানববন্ধনে গ্রামবাসীদের চোখে-মুখে ছিল ক্ষোভ ও হতাশা, যা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে তাদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানেরই প্রমাণ।