ই-পেপার জাগ্রত খবর - জুন ১৪, ২০২৬, ৪:২১ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ নভেম্বর ১১, ২০২৫, ১:৩৮ অপরাহ্ণ
বরিশালে ছেলে শিবির না করায় সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা জামায়াত প্রার্থী বাবার
নিজস্ব প্রতিবেদক:: বরিশাল-১ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী কামরুল ইসলাম খান নিজের ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন। ছেলের জামায়াতের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়া এবং শিবির না করাকে কেন্দ্র করে এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
রোববার ফেসবুকে ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের একটি পোস্ট দেন কামরুল ইসলাম খান, যা পরে মুছে ফেলা হয়।জানা যায়, গত ৭ নভেম্বর বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচি বিপ্লব ও সংহতি দিবসে গৌরনদীর পাইলট স্কুল মাঠে বিএনপির সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এই সমাবেশে বরিশাল-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপনের উপস্থিতিতে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর ছেলে আরাফাত বিল্লাহ খান বক্তব্য দেন।আরাফাত বিল্লাহ তার বক্তব্যে বলেন, “আমার বাবা জামায়াত থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন। আপনাদের কেউ যদি বলে, আপনি যে বিমানে উঠেছেন সেই বিমানের পাইলট ইউটিউব দেখে বিমান চালানো শিখেছেন, তাহলে আপনারা কি সেই বিমানে ভ্রমণ করবেন?” জনসভা থেকে সমস্বরে ‘না’ শুনতে পাওয়ার পর আরাফাত বিল্লাহ আবার বলেন, “কেন করবেন না? কারণ তার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই, কোনো এক্সপেরিয়েন্স নেই।এই বক্তব্যের পর আরাফাত বিল্লাহের বাবা কামরুল ইসলাম খান ৮ নভেম্বর ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, “আমাকে পিতা পরিচয় দিয়ে ৭ নভেম্বর গৌরনদী পাইলট স্কুল মাঠে বিএনপির পক্ষ নিয়ে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে তাতে কেহ হতাশ হবেন না। আমি আজ চিকিৎসা শেষে ঢাকা থেকে বাসায় ফিরে দুই উপজেলার আমির, আসন পরিচালক ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দদেরকে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেব, ইনশাআল্লাহ। আমরা যখন দাঁড়িপাল্লা মার্কা নিয়ে মাঠে নেমেছি, বিজয়ের মালা জামায়াতে ইসলামীর হবেই হবে।এরপর ৯ নভেম্বর আরেকটি স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, আমার বড় ছেলে আরাফাতকে শিবির করার জন্য অনেক বুঝিয়েছি, অনেক চাপ সৃষ্টি করেছি কিন্তু ব্যর্থ হয়েছি। তাকে দিয়ে শিবির করাতে পারিনি। আমি একজন ব্যর্থ পিতা। আমার বড় ছেলের সঙ্গে আমি সম্পর্ক ছিন্ন করলাম। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার জন্য। যদিও পরবর্তীতে তিনি ফেসবুক পোস্টটি মুছে ফেলেন।কামরুল ইসলাম বলেন, আমার ছেলের দেওয়া বক্তব্যে আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষের পথে। ছেলেটার বক্তৃতায় সব এলোমেলো হয়ে গেছে। বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছি। আমার পরিচয় দেওয়ার পরেই সে কথাটা বলেছে। এই কথাটা সে না বললেও পারতো।কামরুল ইসলাম স্বীকার করেন, আমার ছেলে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সে কেন্দ্রীয় কমিটির পদেও ছিল। আমি জামায়াতের রাজনীতি করি। এজন্য আমার ছেলেও চাপে রয়েছে। কারণ এই খবর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানও জানেন। আমার ইচ্ছা ছিল ছেলে শিবির করবে। আমার মতো জামায়াতের নেতা হবেন। কিন্তু তা না করে বিরোধী পক্ষের রাজনীতি করে আমাকে রাজনৈতিক ও মানসিক চাপে ফেলেছে।বাবা ও ছেলের দুই দলের রাজনীতির বিষয়ে পারিবারিকভাবেও বিপাকে আছেন বলে জানান আরাফাত বিল্লাহ খান। তিনি বলেন, আমি আমার পার্টির প্রতি দায়িত্ববান। বাবা জামায়াত করেন এটা তার পছন্দের বিষয়, আমি বিএনপি করি এটা আমার পছন্দের বিষয়। বাংলাদেশ একটা গণতান্ত্রিক দেশ, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করলে আমাদের এই সুযোগটুকু দেওয়া উচিত।আরাফাত আরও বলেন, আমি ছাত্রদল-যুবদল করে অবশেষে বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত। খুব সচেতনভাবেই এই সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ব্যক্তিগতভাবে আমি খুব উদারচিত্তের মানুষ। অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি বিদ্বেষ আমি করি না। বাবা নমিনেশন পাওয়ার পর থেকেই জামায়াত-শিবিরের যারা আছেন, তারা নানাভাবে আমাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করছেন। স্বাভাবিকভাবে নেওয়ার মত নয়।
Copyright © 2026 জাগ্রত খবর - jagrata Khobor. All rights reserved.