নিজস্ব প্রতিবেদক::বরিশালের বেসরকারি আরিফ মেমোরিয়াল হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের পর এক প্রসূতি নারীর মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসার কারণেই সুস্থ নারীটি প্রাণ হারিয়েছেন।
মারা যাওয়া প্রসূতি তানজিল তাসনিন (৩০) বরিশাল সিটি করপোরেশনের কাউনিয়া থানার ৩নং ওয়ার্ডের ছোট বটতলা এলাকার বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম ফারুকের স্ত্রী। মৃত্যুর সময় তিনি রেখে গেছেন ছয় বছরের এক পুত্রসন্তান ও মাত্র এক দিনের নবজাতককে।
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, ২৬ অক্টোবর বিকালে ৪.৩০ প্রসববেদনা নিয়ে আরিফ মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি হন তানজিল তাসনিন। দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. নজরুল ইসলাম সিজার অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু অপারেশনের সময় তিনি রোগীর রক্তনালী কেটে ফেলেন, এতে শুরু হয় মারাত্মক রক্তক্ষরণ।
অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়লে টানা ১৬ ব্যাগ রক্ত সঞ্চালন করা হয়। এরপরও রোগীর অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর ছয় দিন পর পরিবারের সদস্যরা মৃত্যুর কারণ জানতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করতে গেলে বাগবিতণ্ডার জেরে হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তানজিলের স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসক নজরুল ইসলামের নির্দেশে হাসপাতালের কয়েকজন কর্মী অতর্কিতে তাদের ওপর হামলা চালায়, এতে অন্তত কয়েকজন আহত হন।
ঘটনার পর স্থানীয়রা বিক্ষুব্ধ হয়ে হাসপাতালের সামনে ভিড় করেন, এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
স্থানীয়দের দাবি, ডা. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এর আগেও ভুল চিকিৎসা ও রোগী মৃত্যুর একাধিক অভিযোগ উঠেছিল, তবে অর্থ ও প্রভাবের জোরে” কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. নজরুল ইসলাম বলেন,আমাদের কোনো ভুল হয়নি। চিকিৎসা ক্ষেত্রে এমন দুর্ঘটনা কখনো কখনো ঘটে যায়।
তিনি আরও দাবি করেন,রোগীর স্বজনদের সঙ্গে স্থানীয় কিছু লোকের ঝামেলা হয়েছিল। আমাদের হাসপাতালের কেউ এতে জড়িত নয়।”
বরিশালের সিভিল সার্জন ডা. এস.এম. মনজুর এলাহী বলেন,ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি। একটি তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমি নিজেও বিষয়টি তদন্ত করে দেখব। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
একজন তরুণী মায়ের মৃত্যুতে এখন ছোট বটতলা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সদ্য জন্ম নেওয়া নবজাতক ও শোকাহত পরিবারের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
স্থানীয়দের ভাষায়—একজন মা সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে প্রাণ হারালেন—এর দায় কেউ এড়িয়ে যেতে পারে না।