তবে সওজের সংখ্যার সঙ্গে একমত নন পরিবহন মালিকরা। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির বরিশাল বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক ও পটুয়াখালী জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার ইমাম হোসেন নাসির বলেন, পায়রা সেতু থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত প্রায় ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক রয়েছে। শীত মৌসুমে কুয়াশার কারণে এসব বাঁকে দুর্ঘটনা আরও বাড়ে।বরিশাল অংশেও ঝুঁকি
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বরিশাল অংশেও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক ও সরু সড়ক নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের সাবেক চালক কালাচাঁদ দাস জানান, নথুল্লাবাদ থেকে ভূরঘাটা পর্যন্ত প্রায় ৪০টি বাঁক রয়েছে। এর মধ্যে ১৮ থেকে ১৯টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।তিনি বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর দ্রুতগতির যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে। ভাঙা এক্সপ্রেসওয়ে পার হয়ে মাত্র ২৪ ফুট প্রশস্ত সড়কে ঢোকার পর অতিরিক্ত গতি ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংয়ের কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে।বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, বরিশাল অংশের ৫৬ কিলোমিটার মহাসড়কে ৪০ থেকে ৪২টি বাঁক রয়েছে। এসব বাঁকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়া কিংবা মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণহানি ঘটছে।বরিশাল সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম বলেন, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বরিশাল অংশে ৩৬টি বাঁক চিহ্নিত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মহাসড়ক ২৪ ফুট থেকে ৩২ ফুট পর্যন্ত প্রশস্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে কাজও চলছে।তিনি বলেন, দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় ‘ধীরে চলুন’, ‘বামে মোড়’, ‘ডানে মোড়’ ও গতিসীমাসহ সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। এরপরও চালকদের অসচেতনতা ও অতিরিক্ত গতির কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে।পদ্মা সেতুর পর বেড়েছে যানবাহনের চাপ সওজের বিভিন্ন টোল প্লাজার তথ্য অনুযায়ী, পদ্মা সেতু চালুর আগে ভূরঘাটা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত প্রতিদিন ১৬ থেকে ১৯ হাজার যানবাহন চলাচল করত। সেতু চালুর পর এ সংখ্যা বেড়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। ঈদ বা উৎসবের ছুটিতে চাপ আরও বাড়ে।সওজ অধিদপ্তর বরিশাল জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কটি দুই লেনের এবং গড়ে মাত্র ২৪ ফুট প্রশস্ত। পদ্মা সেতু চালুর পর যানবাহন চলাচল প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। সরু সড়কে অতিরিক্ত চাপের কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে।তিনি বলেন, দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় সড়ক প্রশস্ত করা হচ্ছে। বাজার এলাকায় স্পিড ব্রেকার ও সতর্কতামূলক চিহ্নও দেওয়া হয়েছে। তবে ছয় লেনের সড়ক নির্মাণ হলে এ মহাসড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি অনেকাংশে কমে আসবে।বরিশাল বিআরটিএর বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক জিয়াউর রহমান বলেন, দুর্ঘটনায় চালকের অসচেতনতা প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রয়োজন হলে ড্রাইভিং লাইসেন্সও বাতিল করা হয়। চালক ও মালিকদের সচেতন করতে নিয়মিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে।