ই-পেপার জাগ্রত খবর - জুন ১৭, ২০২৬, ১০:৩৪ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ৭, ২০২৫, ১১:৩৫ অপরাহ্ণ
মর্যাদার আসনে’ সরোয়ারের প্রতিদ্বন্দ্বী হাফ ডজন নেতা, অন্য দলে শক্ত প্রার্থী
জাগ্রত খবর::বিভাগের সদরদপ্তর বরিশাল-৫ (সদর) আসন সার্বিক দিক থেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফলে আসনটি মর্যাদার আসন হিসেবে পরিচিত। দেশ স্বাধীনের পর থেকেই আসনটি বিএনপির দখলে ছিল। এই আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতি এবং চিপ হুইপও ছিলেন।তবে ২০১৪ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিএনপির হাতছাড়া ছিল আসনটি। প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনে আসনটি চলে যায় আওয়ামী লীগের ঘরে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে আবারও আসনটি বিএনপির ঘাঁটি প্রমাণ করতে মাঠে নেমেছেন অর্ধ ডজন নেতা।আসনটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত থাকলেও অভ্যুত্থানের পর এখানে জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কার্যক্রম বেড়েছে বহুগুণ। শক্ত প্রার্থী দিয়েছে দল দুটিও। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন আসনটিতে।দু’জনই অভিজ্ঞ, আস্থাভাজন এবং শক্তিশালী প্রার্থী। এই প্রার্থীদের নিয়ে ভিন্ন আলোচনা রয়েছে মর্যাদার আসন বরিশালে। বিএনপিতে প্রার্থী বাছাইয়ে ভুল হলে আসনটি চলে যেতে পারে জামায়াতে অথবা ইসলামী আন্দোলনের ঘরে। এমনটা মনে করছেন সচেতন মহল।১৯৭৩ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত দুটি উপ-নির্বাচনসহ ১০টি নির্বাচনের আটটিতে এই আসন থেকে বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। আওয়ামী লীগ একবার ১৯৭৩ সালে এবং ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টি একবার নির্বাচনে বিজয়ী হয়।এই আসনে নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপির প্রতাপশালী নেতাদের মধ্যে সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাস, তার ছেলে নাসিম বিশ্বাস ও মজিবুর রহমান সরোয়ার একাধিকবার প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তবে এরমধ্যে সব থেকে বেশি নির্বাচিত সাংসদ হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সারোয়ার। তিনি টানা তিনবারসহ চারবার এ আসন থেকে সংসদ সদস্য হয়েছেন।এবারেও তিনি এই আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন চাইছেন। তবে আসনটিতে সরোয়ারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন একাধিক নেতা। তারাও চাইছেন দলীয় মনোনয়ন। তাদের মধ্যে রয়েছেন- বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিএনপির জাতীয় কমিটির সদস্য এবায়েদুল হক চান, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমতউল্লাহ, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক ও যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন।তাছাড়া কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (পদ স্থগিত) বিলকিস আক্তার জাহান শিরিনের নামও আসছে আলোচনায়। তবে তাদের মধ্যে মজিবর রহমান সরোয়ার, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, মনিরুজ্জামান খান ফারুক এবং নাসরিন রাজনৈতিক এবং ব্যক্তিগত কার্যক্রমের মাধ্যমে চালিয়ে যাচ্ছেন প্রচার-প্রচারণা।আলোচনায় একাধিক নাম থাকলেও এরই মধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডে ডাক পেয়েছেন বরিশাল সিটির সাবেক মেয়র ও সদর আসনের একাধিকবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার, আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ এবং মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক। গত ২২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর দলীয় কার্যালয়ে স্কাইপিতে তাদের স্বাক্ষাতকার নিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাদের তিনজনকেই নির্বাচনি এলাকায় কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য বলেছেন দলের এই শীর্ষ নেতা।\আওয়ামী লীগের গত ১৭ বছরে ২৫টির ওপর মামলার আসামি ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান সারোয়ার। ২০২৪ এর আন্দোলনে ঢাকায় হামলা এবং পরবর্তীতে কারাগারেও যেতে হয় তাকে। ২০০৮ সালে বরিশালে যেই দুটি আসনে বিএনপির বিজয় হয়েছিল তার মধ্যে একটি বরিশাল সদর। যেখানে বিজয়ী হন মজিবর রহমান সরোয়ার। তবে ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পর তার ভাইদের বিরুদ্ধে বাসস্ট্যান্ড, টেম্পু স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ ওঠে। তাছাড়া সদর আসন এবং মেয়র, উভয় পদে মজিবর রহমান সরোয়ারের বছরের পর বছর মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে দলের নেতাকর্মী মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।বরিশালে বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ। আন্দোলন করতে গিয়ে ২০২৪ এর ৩ জুলাই সদর রোডে পুলিশের হামলার শিকারও হয়েছেন একবার। সরকারবিরোধী আন্দোলনে গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। তাদের আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন এই নেতা।২০২৪ এর জুলাই অভ্যুত্থানের সময় আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলায় জীবন সংকটে পড়তে হয়েছিল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক ও সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদারকে। ১৯ জুলাই আওয়ামী লীগের সশস্ত্র হামলার শিকার হওয়ার পর তাদের মৃত্যুর গুজবও ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। বেঁচে গিয়েও তাদের শরীরজুড়ে রয়েছে গভীর ক্ষত। তাছাড়া হামলার শিকার চিকিৎসা পাননি তারা। গ্রেপ্তার করা হয় চিকিৎসাধীন অবস্থায়। ৫ আগস্ট অভ্যুত্থানের দিন জিয়াউদ্দিন সিকদার এবং পরে মুক্তিপান মনিরুজ্জামান খান ফারুক।তাছাড়া তৃণমূল থেকে দাবি ওঠা আফরোজা খানম নাসরিনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তৈরি। একজন নারী হয়েও পতিত আওয়ামী সরকারবিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে সম্মুখভাগে ছিলেন তিনি। বিরোধী আমলে হাতে গোনা যে কজন রাজপথে আন্দোলনের ঝড় তুলেছিলেন তাদের মধ্যে নাসরিন অন্যতম। এটা করতে গিয়ে পুলিশি হামলা এবং একাধিক মামলার শিকার হয়েছেন তৃণমূল থেকে উঠে আসা সাবেক এই ছাত্রদল নেত্রী।এদিকে, সাড়ে চার লাখ ভোটারের এ আসনে ভিন্নতা রয়েছে আলোচনায় থাকা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীর ক্ষেত্রে। ২০১৮ সালের মতো এবারেও এ আসনে দলের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের নাম প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। গেল বরিশাল সিটি নির্বাচনে ভোটের দিন মেয়র প্রার্থী মুফতি ফয়জুল করীম আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়েছিলেন।অপরদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল পরিচ্ছন্ন ইমেজের এবং দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা। ইতঃপূর্বে প্রার্থীও হয়েছিলেন সদর আসনে। স্বৈরাচারী সরকারের আমলে একাধিক মামলার শিকার হয়েছেন হেলাল।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইতঃপূর্বে বরিশাল সদর আসন বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে গত ১৭ বছর জামায়াতে ইসলামী রাজপথে দাঁড়াতে না পারলেও ভেতরে ভেতরে নিজেদের অবস্থান গড়েছে, যা সামনে আসে ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পর। তাছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সমর্থকও বেড়েছে অনেকগুণ। যে কারণে আসন্ন নির্বাচনে ইসলামী দলগুলোতে ঐক্য হলে এ আসনটি বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্চ হয়ে দাঁড়াবে। তাই বিএনপিকে প্রার্থী মনোনয়নে যেমন গুরুত্ব দিতে হবে, তেমনি দলের অভ্যন্তরে দ্বন্দ্ব গুছিয়ে নেওয়া জরুরি বলেও মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।সদর আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল- বাসদের প্রার্থী করা হয়েছে দলটির বরিশাল জেলার সমন্বয়ক ডা. মনীষা চক্রবর্তীকে। যিনি বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে সরকার বিরোধী আন্দোলনে রাজপথে ভূমিকা রেখেছেন। আন্দোলন করতে গিয়ে মামলা এবং কারাবরণও করেছেন তিনি। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন এবং করোনা মহামারিতে ডা. মনীষার অবদান অনেক ক্ষেত্রে স্মরণীয় হয়ে আছে নাগরিকদের কাছে।তাছাড়া খেলাফত মজলিস একাংশে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন অধ্যাপক একেএম মাহবুব আলম এবং খেলাফত মজলিস (মামুনুল হক) অংশ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে মুফতি সুলতান মাহমুদকে। যদিও ইসলামীক দলে ঐক্যের প্রশ্নে তারা ছাড় দিতে রাজি বলে জানিয়েছেন দলটির দায়িত্বশীল নেতারা। এর বাইরে সুযোগ পেলে জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেন তাপসও প্রার্থী হতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।
Copyright © 2026 জাগ্রত খবর - jagrata Khobor. All rights reserved.