
নিজস্ব প্রতিবেদক::নির্বাচন সামনে রেখে মাঠ প্রশাসন সাজানোর উদ্যোন নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। যার পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও পুলিশ সুপার (এসপি) ব্যাপক অদলবদল করা হয়েছে।নিরপেক্ষ প্রশাসন করতে গিয়ে লটারির মাধ্যমে এ অদলবদলের কারণে কর্মকর্তাদের ভিতরে-বাইরে অসন্তোষ বিরাজ করছে। কারণ বহু কর্মকর্তাকে জোর করেই পাঠানো হচ্ছে কর্মস্থলে। আর এসব কারণে ভিতরে ভিতরে ক্ষোভ বাড়ছে।রাজনৈতিক তদবির এড়াতে শুরুতে পুলিশের বদলি লটারির মাধ্যমে করার উদ্যোগ নেয় সরকার। পরে লটারির মাধ্যমে ইউএনও পদায়ন করা হয়। এ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে প্রশাসন ও পুলিশ উভয়ের মধ্যেই। এ লটারি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা।এসপি লটারিতে হলেও ডিসিদের পদায়ন কেন সেভাবে হয়নি তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ছাড়া সারা দেশের জেলার ওসিদের জন্য লটারি একবার এবং মহানগরের জন্য কেন সেটি আলাদাভাবে করা হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কর্মকর্তারা।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, যে কোনো পদায়ন-নিয়োগ লটারির ওপর নির্ভর করাটা ভালো প্রক্রিয়া নয়। এটি ভালো কোনো উদাহরণ তৈরি করবে না। এমনকি লটারির মাধ্যমে পদায়নের ফলও ভালো আসে না। মূলত নিজেরা যোগ্য লোককে বাছাই করতে পারছে না বলেই লটারি করছে। স্থানভেদে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বা অপরাধের ধরনে ভিন্নতা রয়েছে। কাজের দক্ষতা বিবেচনায় পদায়ন করাটাই যৌক্তিক।তিনি আরও বলেন, মাঠে দায়িত্ব পালন আর শীতাতপনিয়ন্ত্রণ কক্ষে বসে কাজ করা এক নয়। যিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ জ্ঞান ও দক্ষতার মাধ্যমে ভূমিকা রাখতে পারেন তাদের পদায়ন হওয়া দরকার। পেশাগত পদায়নের ক্ষেত্রে লটারি কখনোই গ্রহণযোগ্য সমাধান হতে পারে না।নির্বাচনে সহকারী রিটার্নিং অফিসার হবেন ইউএনওরা। ইউএনও পদায়ন নিয়ে অভিযোগ অনেক বেশি। কর্মকর্তাদের অভিযোগ- পছন্দের কর্মকর্তাদের ভালো উপজেলায় বসিয়ে বাকিদের নিয়ে লটারি করা হয়েছে। সব উপজেলায় সমান সমস্যা নয়, তেমনি দক্ষতাও সমান নয়। এ ক্ষেত্রে লটারির নামে গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা সামলানোর কৌশল সবার সমান থাকে না।জানা গেছে, এ লটারি করতে গিয়ে অনেকের নিজের বা শ্বশুরবাড়ি উপজেলায় পদায়ন হওয়ায় সেটি আবার জনপ্রশাসনকে সংশোধন করতে হয়েছে। এ ছাড়া চাকরিজীবী স্বামী-স্ত্রীকে ভিন্ন ভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়েছে। পরিবার না চাকরি গুরুত্ব দেবে এসব নিয়ে অনেকেই অস্বস্তিতে আছেন।গত কয়েকদিন সচিবালয়ের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ৩৬ ও ৩৭ ব্যাচের কর্মকর্তাদের নানা বিষয়ে সিনিয়রদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা গেছে। অনেকেই ইউএনও না হতে বা কাছের উপজেলায় রাখতে সিনিয়র কর্মকর্তাদের কাছে তদবিরও করেন। অনেক ইউএনও আদেশ জারির পরও কর্মস্থলে না যেতে নানা ধরনের মানবিক আবেদন করেন জনপ্রশাসনে।