তারা হলেন– ডা. জহির উদ্দিন মহাবিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাব্বি (১৮), ছোট বাইশদিয়া দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণির এক ছাত্র (১৭), কৃষিশ্রমিক রিয়ান (২১) ও শাকিল (১৯) এবং নির্মাণশ্রমিক নয়ন সরদার (১৮)।
নয়ন সরদারের ভাষ্য, ‘আমাদের অপরাধ, রাব্বি ও রিয়ানের মারামারি থামিয়েছি। এ কারণে সকালে মেম্বার আমাকে ফোনে ডেকে নিয়ে মাথা ন্যাড়া করে দেন। আমি অনুরোধ করেছি, তিনি কথা শোনেননি। খবর পেয়ে আমার আম্মু গিয়ে জিজ্ঞেস করছেন, আমার ছেলের চুল কে কাটছে? মেম্বার বলছে, আমি কাটছি।’
নয়নের মা ঝর্ণা বেগম বলেন, ‘আমি মানুষের কাছে ঘটনা শুনে গেছি। ছেলে কোনো অপরাধ করলে আমাকে ডাকতো। সে তো কোনো অপরাধ করেনি। মারামারি দেখে থামিয়েছে। কিন্তু গিয়ে মেম্বারকে বলছি–বিনা অপরাধে আমার ছেলের মাথা কে কামিয়েছেন? বলছে, আমি পারছি, কামাইছি। পাঁচজনের কামাইছি।’
রাব্বির ভাষ্য, ‘রিয়ান ভাইয়ার সঙ্গে আমার মারামারি হয়েছে। রেশাদ মেম্বার চৌরাস্তায় সালিশ করে দিছে। ওর (রিয়ান) ও আমারসহ পাঁচজনের চুল কেটে দিছে।’
রিয়ানের বাবা মোজাম্মেল মৃধা বলেন, রাব্বির বাবা মনিরের সঙ্গে তাঁর সমস্যা মিটমাট হয়ে যায়। তারপর মনিরের ছেলে চার-পাঁচজনকে নিয়ে তাঁর ছেলেকে মারধর করছে। তিনি ইউপি সদস্যের কাছে বিচার চাইলে তিনি বিচার করে দেন। সবার চুলও কেটে দেন।
তবে বিষয়টি অস্বীকার করে ইউপি সদস্য রেশাদ খলিফা বলেন, ‘আমি জানি না। আমি ছিলাম না। আমি শুনি নাই। আমি এ ঘটনা জানি না। ভাই, আমি জানি না। আমি জানি না, দাদা।’
বিষয়টিকে আইনবহির্ভূত কাজ হিসেবে উল্লেখ করেন গ্রাম আদালতের উপজেলা কো-অর্ডিনেটর মো. ইমাম হোসেন সায়েম। আর রাঙ্গাবালী থানার ওসি শামীম হাওলাদারের ভাষ্য, খোঁজখবর নিয়ে দেখা হচ্ছে। সত্যতা প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন। রাঙ্গাবালীর ইউএনও রাজিব দাশ পুরকায়স্থ একই রকম মন্তব্য করেন।