গোলাম কিবরিয়া,বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি::প্রতি বছরের ন্যায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা এবারও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হতে যাচ্ছে। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর মহাষষ্ঠী দিয়ে শুরু হয়ে ২ অক্টোবর মহাদশমী ও বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ উৎসব।উৎসব যত ঘনিয়ে আসছে, ততই জেলায় মন্দিরে মন্দিরে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন প্রতিমাশিল্পীরা। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পটুয়াখালীর বাউফলসহ বিভিন্ন উপজেলায় প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে পুরোদমে। মাটির প্রলেপের কাজ শেষ করে এখন চলছে রং তুলি দিয়ে প্রতিমাকে দৃষ্টিনন্দন করার প্রস্তুতি। শিল্পীরা বলছেন, ভক্তদের আগ্রহ ও আপ্যায়নে তারা উৎসাহিত হয়ে কাজ করছেন।বাউফল পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের দীনবন্ধু গাঙ্গুলী মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক সমীর কর্মকার জানান, “প্রতি বছর আমাদের মন্দিরে সাড়ে তিন থেকে চার লাখ টাকা খরচ হয়। সরকারি বরাদ্দ হিসেবে ৫০০ কেজি চাল পাওয়া যায়, তবে তা এক টন করলে আমরা অনেক বেশি উপকৃত হতাম। পূজার কাজ প্রায় শেষ, আশা করি দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হবে।বাউফল পূজা উদযাপন ফ্রন্ট সভাপতি বাবু নিতাই দেবনাথ বলেন, “আমরা জেলার প্রতিটি মন্ডপের খোঁজখবর নিচ্ছি। সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে পূজা উদযাপন করবে। এবার সরকারি বরাদ্দ সুষমভাবে বন্টন নিশ্চিত করা হবে। বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরাও পূজার খোঁজখবর নিচ্ছেন।”পটুয়াখালী জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক আশীষ কুমার সাহা জানান, জেলায় মোট ১৭৬টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২৬টি, বাউফলে ৬৫টি, দশমিনায় ১৩টি, দুমকিতে ১০টি, গলাচিপায় ২৮টি, কলাপাড়ায় ১৪টি, মির্জাগঞ্জে ১৫টি এবং রাঙ্গাবালীতে ৫টি মন্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হবে।এদিকে পূজাকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ আখতারুজ্জামান সরকার জানান, পূজার সার্বিক নিরাপত্তায় একাধিক পুলিশ টহল দল মোতায়েন থাকবে। এছাড়া আনসার ও চৌকিদাররাও নজরদারিতে থাকবেন। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা প্রস্তুত।ধর্মীয় পঞ্জিকা মতে, এ বছর দেবী দুর্গার আগমন হবে দোলায় চড়ে এবং বিসর্জনের পর কৈলাশে প্রত্যাবর্তন হবে ঘোটকে (ঘোড়া) চড়ে। যা আগামী বছরের জন্য অশুভ সংকেত হিসেবে ধরা হয়।শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে এখন পুরো জেলায় চলছে আনন্দ, প্রস্তুতি আর ভক্তিময় পরিবেশ। প্রতিমা তৈরির শেষ স্পর্শে ব্যস্ত শিল্পীরা, আর ভক্তদের মাঝে বিরাজ করছে মায়ের আগমনের উচ্ছ্বাস।