জাগ্রত খবর ডেস্ক::চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বাসচাপায় হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মাওলানা মো. সোহেল চৌধুরী নিহতের ঘটনায় অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা।বুধবার (৮ অক্টোবর) ভোর থেকে হাটহাজারী- রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। অবরোধে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও পথচারীরা।ভোর থেকেই হেফাজতের নেতাকর্মীরা হাটহাজারী মাদ্রাসার সামনে, কলেজগেট, জাগৃতি মোড় ও বাসস্টেশন এলাকায় অবস্থান নেন। তারা কাঠের টোল, বেঞ্চ ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে সড়ক অবরোধ করেন। তবে সকাল পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।হেফাজতের নেতাকর্মীরা জানান, মঙ্গলবার রাউজানের একটি মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলযোগে যাত্রাকালে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাতেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল করে হেফাজতের নেতাকর্মীরা। পরে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বুধবার ভোর থেকে উত্তর চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলে সর্বাত্মক সড়ক অবরোধের ঘোষণা দেন।নেতৃবৃন্দ দাবি করেন, ঘাতক চালককে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুব বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা কামরুল ইসলাম কাসেমী বলেন, মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) হেফাজতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মাওলানা সোহেল চৌধুরীকে হাটহাজারী-রাউজান মহাসড়কের শান্তিরদ্বীপ এলাকায় একটি বাস পেছন থেকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে হেফাজত নেতা মারা যান। এঘটনায় গাড়ি এবং মরদেহ নিয়ে রাউজান হাইওয়ে থানায় গিয়ে মামলা করতে চাইলে পুলিশ তাদের নিজেদের মতো করে মামলার এজাহার লেখার প্রস্তাব দেয়। এতে হেফাজত নেতারা রাজি না হয়ে মামলার এজাহারে এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করতে বলেন। এতে পুলিশ অস্বীকৃতি জানিয়ে মামলা নেয়নি। যার প্রতিবাদে আজ সকাল থেকেই হাটহাজারীতে হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভ মিছিল ও অবরোধ কর্মসূচি চলছে।হাটহাজারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মনজুরুল কাদের ভুঁইয়া বলেন, বাসচাপায় হেফাজতের একজন নেতার মৃত্যুর ঘটনায় হেফাজতের নেতাকর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে হাটহাজারীতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক গুলো অবরোধ করে রেখেছে। আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি। এই ঘটনায় দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।