পিরোজপুর প্রতিনিধি:: পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলা ইউনিয়নের ভৈরমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও নগদ ২ লাখ টাকা উদ্ধারের দাবি করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় মো. লিমন হোসেন (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় রবিউল হাওলাদার (৩৫) নামে আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে, যিনি পলাতক বলে জানিয়েছে পুলিশ।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ভৈরমপুর এলাকায় রবিউল হাওলাদারের বসতঘরে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। পুলিশের দাবি, লিমন হোসেনের কাছ থেকে ১০০ পিস এবং তার দেখানো মতে ওই ঘরের একটি ওয়ারড্রোবের ড্রয়ার থেকে আরও ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। একই অভিযানে একটি শপিং ব্যাগ থেকে নগদ ২ লাখ টাকা উদ্ধারের কথা জব্দতালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ ওই টাকা মাদক বিক্রির অর্থ বলে দাবি করেছে।তবে নগদ টাকা উদ্ধারের বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে ভিন্ন বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। রবিউল হাওলাদারের স্ত্রী আখি আক্তারের দাবি, ঘরে থাকা টাকা মাদক বিক্রির অর্থ নয়; এগুলো গরু বিক্রি, পোল্ট্রি ফিড, মুরগি ও অন্যান্য ব্যবসায়িক লেনদেনের টাকা।পরিবারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, লিমন হোসেনের প্রায় ৬০ হাজার টাকাও সাময়িকভাবে তাদের কাছে রাখা হয়েছিল। তারা জব্দ করা টাকার প্রকৃত মালিকানা ও উৎস যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশের জব্দতালিকা ও মামলার নথিতে ২ লাখ টাকা উদ্ধারের কথা থাকলেও পরিবারের বক্তব্যের সঙ্গে এ বিষয়ে পার্থক্য রয়েছে। ফলে টাকার প্রকৃত উৎস, মালিকানা এবং তা মাদক বিক্রির অর্থ কি না-এসব বিষয় তদন্ত ও আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় যাচাই হওয়ার বিষয়।এ ঘটনায় ডিবি পুলিশের এসআই পলাশ বিশ্বাস বাদী হয়ে লিমন হোসেন ও রবিউল হাওলাদারের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় পিরোজপুর সদর থানায় মামলা করেছেন। মামলাটি ৩০ সেপ্টেম্বর রুজু করা হয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।পিরোজপুর ডিবি পুলিশের ওসি মো. মাহবুব বলেন, অভিযানে ২০০ পিস ইয়াবা ও নগদ ২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে এবং একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।