নিজস্ব প্রতিবেদক:: পবিত্র রমজানকে কেন্দ্র করে বরিশালের বাজারে লেবুর দামে অস্বাভাবিক উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। মাত্র একদিনের ব্যবধানে খুচরা বাজারে হালি প্রতি ২০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে লেবু। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।বরিশাল নতুন বাজার ঘুরে দেখা যায়, রমজানকে ঘিরে লেবুর চাহিদা ও বেচাবিক্রি বেড়েছে। তবে পাইকারি দামের তুলনায় খুচরা বাজারে অস্বাভাবিক হারে দাম বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।শফিকুর রহমান নামের এক ক্রেতা বলেন, প্রথম রোজায় লেবুর সরবত দিয়ে ইফতার করতে চাই। কিন্তু ২০ টাকার লেবু ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, এভাবে মানুষ কিভাবে কিনবে? একই অভিযোগ করেন ক্রেতা নাসির উদ্দীন ও শাকিল মাহমুদ।খুচরা বিক্রেতা রফিক জানান, তারা বেশি দামে লেবু কিনে আনছেন বলেই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। পাইকারি বাজারে দাম কমলে খুচরাতেও কমবে বলে দাবি তার।এ বিষয়ে বরিশালের বৃহত্তম পাইকারি মোকাম বহুমুখ সিটি মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, সেখানে আগে হালি ১০ টাকা দরে বিক্রি হওয়া লেবু এখন ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ পাইকারি বাজারে হালি প্রতি ২০ থেকে ২৫ টাকা বেড়েছে, কিন্তু খুচরায় বেড়েছে ৩০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত।সবজির পাইকারি ব্যবসায়ী হারুন বানিজ্যালয়ের মালিক মো. হারুন মিয়া বলেন, সাধারণত পাইকারি বাজারের চেয়ে ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি দামে খুচরা বিক্রি হয়। কিন্তু এখন দ্বিগুণ দামে কেন বিক্রি হচ্ছে, তা আমরা জানি না।তিনি আরও জানান, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে সারা দেশে লেবু সরবরাহ হয়। রমজানকে কেন্দ্র করে চাহিদা বাড়ায় দামও বেড়েছে। তবে রমজান শেষে দাম স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।বহুমুখ সিটি মার্কেট মালিক সমিতির সদস্য মো. মামুন বলেন, আমরা বেশি দামে কিনে আনছি বলেই বেশি দামে বিক্রি করছি। তবে খুচরা বাজারে যেভাবে দাম বাড়ানো হচ্ছে, তা ঠিক নয়। আমরা দাম কমিয়ে আনার চেষ্টা করছি।এদিকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সুমি রাণী মিত্র বলেন, লেবুর মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দ্রুত এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।রমজান সামনে রেখে নিত্যপণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতির এই চিত্রে স্বস্তি ফেরাতে দ্রুত বাজার মনিটরিং জোরদারের দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা।