নিজস্ব প্রতিবেদক:: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে উঠে এসেছে ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল (দাউদ খান)। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তার স্থায়ী ঠিকানা পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নে হলেও পরিবারটি অন্তত পাঁচ দশক আগে এলাকা ছেড়ে গেছে।পুলিশ জানায়, ফয়সাল করিম মাসুদের স্থায়ী ঠিকানা বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে কেশবপুর কলেজ সংলগ্ন এলাকায়। তার বাবার নাম হুমায়ুন কবির। বর্তমানে ফয়সাল ঢাকার আদাবর থানাধীন পিস কালচার হাউজিং সোসাইটিতে বসবাস করেন। তার বিরুদ্ধে আদাবর থানায় মামলা রয়েছে।ফয়সাল করিম মাসুদ রাজধানীর আদাবর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ছিলেন। এর আগে গেল মাসে আদাবরে একটি স্কুলে ঢুকে অস্ত্রের মুখে ১৭ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় তিনি গ্রেপ্তার হন। তবে এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে তিনি জামিনে মুক্তি পান।স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ফয়সালের পরিবার বহু আগেই কেশবপুর এলাকা ছেড়ে ঢাকায় চলে যায়। স্থানীয়রা জানান, এখানকার জমিজমা বিক্রি করে তারা ঢাকায় বসবাস শুরু করেন। হুমায়ুন কবির পড়াশোনা শেষ করার পর থেকেই ঢাকায় থাকেন বলে জানান তারা। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ফয়সালকে তারা কখনো দেখেননি। অন্তত ৫০ বছর আগে পরিবারটি এলাকা ছাড়ে এবং ১০–১২ বছর আগে পুরোনো বসতঘরটিও হুমায়ুন কবির বিক্রি করে দেন।বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে কেশবপুর এলাকায় খোঁজ নিয়ে তেমন কিছু পাওয়া যায়নি। পরিবারটি অন্তত ৫০ বছর আগে এলাকা ছেড়ে গেছে এবং ১০–১২ বছর আগে পুরোনো বসতঘরও তার বাবা বিক্রি করে দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আমরা আরও খোঁজখবর রাখছি।পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকেই আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাউফলসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।তিনি বলেন, সম্ভাব্য যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় এলাকায় বাড়তি নজরদারি রাখা হয়েছে। এখানে তার উপস্থিতি পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।