
নিজস্ব প্রতিবেদক::বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কাটাদিয়া এবং পার্শ্ববর্তী বগা খেয়াঘাটে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি আদায় করা হচ্ছে। ভাড়া চার টাকা হলেও জনসাধারণের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। গত সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে খেয়াঘাট ইজারা নিয়ে নৈরাজ্য চালান সুধীর বাবু ও তার লোকজন। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরও তিনি বিএনপি নামধারী কিছু লোকজন দিয়ে ঘাট পরিচালনা করছেন। জানা যায়, কলসকাঠি ইউনিয়নের সুধীর বাবু উপজেলার সব ঘাট ও ফেরির ইজারা নিয়ে আবার বিক্রি করে দেন স্থানীয়দের কাছে। জেলা পরিষদ থেকে ইজারা নিয়ে বাড়তি দামে ঘাট বিক্রি করেন তিনি। এভাবে চলছে বছরের পর বছর। তিনি কাটাদিয়া খেয়াঘাট ইজারা নিয়ে এক বছরের চুক্তিতে বিক্রি করেন এলাকার হালিম, কালাম, খোকন, কবির, সোহেল হাবিব কাজিসহ সাতজনের কাছে। ইজারা নেওয়ার পর থেকেই খেয়াঘাটে চলছে নৈরাজ্য। সরেজমিন দেখা যায়, বরিশাল নগরী পূর্বাঞ্চলে কাটাদিয়া খেয়াঘাট দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ পারাপার হন। এর জন্য রয়েছে একটিমাত্র ট্রলার। পার হতে জনপ্রতি চার টাকা আর মোটরসাইকেলের জন্য বিশ টাকা নেওয়ার কথা। ইজারাদাররা জনপ্রতি পনেরো থেকে বিশ টাকা করে নিচ্ছেন। আর মোটরসাইকেল পারাপারের জন্য নিচ্ছেন ষাট টাকা। রাত ৮টার পর কেউ পারাপার হলে তাকে পঞ্চাশ থেকে একশ টাকা গুনতে হয়। বাকেরগঞ্জ উপজেলার একাধিক বাসিন্দা জানান, একটি মাত্র ট্রলারে খেয়ালখুশিমতো লোক পারাপার করা হয়। ট্রলারের এপার থেকে ওপারে যাত্রী নিয়ে আসা-যাওয়া করতে কমপক্ষে ৩০ মিনিট সময় লাগে। তাই নদীর দুই পারে সব সময় যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হয় কখন ট্রলার আসবে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে সুধীর বাবুর ফোন নম্বরে বারবার কল দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।