
নিজস্ব প্রতিবেদক::বরিশাল সদর উপজেলায়তেই গড়ে উঠেছে ১৪ টি অবৈধ বাংলা ইটভাটা। ৬টি রয়েছে চিমনি চুলায় ইটভাটা ।চরকাউয়া ইউনিয়নের চরকরমজি গ্রামের বসত বাড়ি ঘড়ের মধ্যেই গরে উঠেছে ফাইভ স্টার নামে একটি চিমনি চুঙ্গার ইটভাটা । গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পাশ্ববর্তি খালে থেকে কৃষি জমি কেটে ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে । স্থানীয়রা বলেন, আমরা ভয়ে কিছু বলতে পারছি না । দুটি ভেকু দ্বারা কৃর্ষি জমি কেটে মাটির নিয়ে ইটভাটায় তোলার চিত্র দেখা গেছে । কিছু পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি অভিযানে হালকা মোবাইল কোর্ট করে ইটভাটা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । দুই তিন দিন পরে ফাইভ স্টার ইটভাটার মালিকদের বরিশাল বিভাগীয় অফিসে দেখা গেছে । তাও দ্বিতীয় তলায় দিদারের কক্ষে । এরপর থেকে হরদমে এই অবৈধ ইটভাটা পরিচালনা করছেন মালিক পক্ষ । এই খবর পরিবেশ অধিদপ্তর এবং সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলেও কোনো প্রকার পদক্ষেপ নেই ।ফসলি জমি নষ্ট করে এসব অবৈধ ইটভাটা তৈরি করা হয়েছে। ইটভাটায় পোড়ানো কাঠের কালো ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষিত হওয়ার পাশাপাশি ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র্য।অনুমোদনহীন এসব ইটভাটা বন্ধে স্থানীয়রা নানা অভিযোগ থাকলেও জেলা-উপজেলা প্রশাসন কোনো উদ্যোগ নেয়নি। পত্রপত্রিকায় কালোকালিতে বার বার অবিহিত করা হলেও রহস্যজনক কারনে অবৈধ ইটভাটাগুলো বন্ধ করা হয়না ।বরং ইটভাটার কয়েকজন মালিক জানালেন,তারা প্রশাসনকে মোটাছোটা অংকের টাকা দিয়েই এসব অবৈধ ইটভাটা পরিচালনা করছেন।এমন ভাটার মালিক উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকার ।একজন ইটভাটার মালিক বলেন, আমরা হাইকোর্ট থেকে অনুমতি নিয়ে ভাটা চালাই। স্থানীয় প্রশাসন আমাদেরকে এখন পর্যন্ত কিছুই বলেনি, আর বলবেও না ।অবৈধ ইটভাটাগুলো- হরদমে বুক ফুলিয়ে কাট দ্বারা পোরানো হচ্ছে ।স্থানীয় লোকজন বলছেন, ভাটার চারপাশে থাকা ফসলি জমিতে বেড়ে ওঠা ধান, সয়াবিন, বাদামগাছসহ বিভিন্ন রবিশস্য ঝুঁকিতে পড়েছে। ইট তৈরিতে ব্যবহৃত মাটির সবকটাই যাচ্ছে ফসলি জমি থেকে। তাদের অভিযোগ, কৃষিজমি রক্ষায় কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ, নজরদারি নেই পরিবেশ অধিদপ্তরেরও।গ্রামের কৃষক জামাল হাওলাদার ভাষ্য, একটি ইটভাটা থেকে অন্যটির দূরত্ব বেশি নয়। সব ভাটা স্থাপন করা হয়েছে ফসলি জমি ও বসত ঘড়বাড়ি এবং বিদ্যালয়ের মাঝখানে। এভাবে চলতে থাকলে তারা ফসল ফলাবেন কী করে? ফসলের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত। এভাবে চলতে থাকলে এক সময় অবৈধ ইটভাটার দাপটে বরিশাল সদর উপজেলা মরুভূমিতে রূপান্তরিত হবে বলে মনে করেন একই গ্রামের কলেজছাত্র তরিকুল ইসলাম।বাসিন্দারা বলছেন, ইটভাটা বাড়তে থাকায় দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিভিত্তিক ও নদী ভাঙ্গনকবলিত এলাকার গ্রামীণ সড়ক এক বছরও টিকছে না। মাটি আনা হয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্মিত গ্রামীণ সড়ক দিয়ে। ফলে এসব সড়ক লন্ডভন্ড হয়ে যাচ্ছে। তৈরি হয়েছে পরিবেশগত ব্যাপক বিশৃঙ্খলা।তিনি বলেন, এক গ্রামে এতগুলো ইটভাটা ভাবতেই অবাক লাগে। ভাটার পাশেই বসতবাড়ি, হাটবাজার ও গাছপালার বাগান।ভাটার কারণে গ্রামে আর বসবাসের পরিবেশই থাকবে না।ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৯ থেকে জানা গেছে, একটি ইটভাটা স্থাপনের আগে সরকারের ১০টি দপ্তরের নজর পার হতে হয়।এ আইনের উদ্দেশ্য ছিল ২০২০ সালের মধ্যে পোড়া ইট শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা। তবে এ অঞ্চলে উলটো প্রতি বছরই ভাটার সংখ্যা বাড়ছে।বিশেষ কোনো স্থাপনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও ক্লিনিক এবং লোকালয়ের অন্তত এক কিলোমিটারের মধ্যে ভাটা স্থাপনের বিধিনিষেধ রয়েছে। তাছাড়া আবাদি জমিতে ভাটা তৈরি, কৃষিজমির মাটি ব্যবহার, এলজিইডির সড়ক ব্যবহার ও কাঠ পোড়ানোতেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে এর কিছুই মানছেন না স্থানীয় ভাটার মালিকরা। সরকারী কাগজপত্র বিহীন ইটভাটাগুলোর মালিকদের ভাষ্য, আমরা অনেকে বৈধ কাগজপত্রের জন্য আবেদন করেছি। এখন আপাতত প্রশাসনকে ম্যানেজ করে চালাচ্ছি। সংগঠনের সভাপতি বলেন, এ অঞ্চলের অধিকাংশ ইটভাটা অবৈধ। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানের মালিক লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছেন। প্রশাসন অভিযান চালালে কী করবেন- এমন প্রশ্নে বলেন,চেয়ে চেয়ে দেখব। আর কী করব। বিভিন্ন দিবস পালনের নামে প্রশাসন ও পুলিশ আমাদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে। আমাদের ভাটাগুলো ম্যানেজের দায়িত্বে থাকা পরিবেশ অধিদপ্তরের দায়ীত্বে থাকা দিদারুল ইসলামের সঙ্গে আপনারা কথা বলেন।বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বলেন, বরিশাল সদর উপজেলায় কৃষি জমি নষ্ট করে গড়ে উঠেছে প্রায় ১৪ টির মতো অবৈধ ইটভাটা। তাদের কয়েকজনকে ছারপত্র দিয়েছি ।আমাদেরকে অবহিত না করে কীভাবে তারা ইটভাটাগুলো স্থাপন করছেন এমন প্রশ্ন রাখেন তিনি।বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী এ উপজেলায় ১৪ টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে লাইসেন্স রয়েছে মাত্র দুটির। তবে কয়েকটির মালিকপক্ষ আবেদন করেছে।