
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল::পুলিশের হাতে কামড় দিয়ে পালিয়ে গেছে সাংবাদিকের মোটর সাইকেল পুড়িয়ে দেয়াসহ হত্যা চেষ্টার মামলার আসামী ছাত্রদল নেতা। এছাড়াও তার পরিবারের সদস্যদের হামলায় আরো তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। পরে পুলিশ ছাত্রদল নেতার স্ত্রী, ভাই, বোন ও ভগ্নিপতিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার দিনগত গভীর রাতে নগরীর ডিসিঘাট এলাকায়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে নামধারী ১৫ জনসহ অজ্ঞাত আরো ৭০ জনকে আসামী করে কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা করেছে বলে ওসি মিজানুর রহমান জানিয়েছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো-নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ড ভাটারখাল এলাকার বাসিন্দা রুস্তুম আলী হাওলাদারের ছেলে বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মাসুদ হাওলাদার মাসুমে স্ত্রী নাসরিন জাহান রিমি (২৫), ভাই সোহেল হাওলাদার (৩০), বোন শিল্পি বেগম (৪০) ও তার স্বামী রুবেল মিয়া (৪০)।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন-কোতয়ালী মডেল থানার এসআই নাসিম হোসেন, এএসআই বোরহানউদ্দিন ও এটিএসআই জাইদুর রহমান। এরমধ্যে এসআই নাসিম হোসেন রক্তাক্ত জখম ও এএসআই বোরহানউদ্দিন এবং এটিএসআই জাইদুর রহমান লাঠিপেটা ও ইটের আঘাত পেয়েছেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
মামলার বাদী হয়েছেন মামলার বাদী কোতয়ালী মডেল থানার এসআই মাহবুব আলম। আসামীদের বিরুদ্ধে বেআইনী জনতায় পুলিশের সরকারী কাজে বাধা দেয়া, আক্রমন ও অপরাধমুলক বল প্রয়োগ করে এলোপাতারিভাবে মারধর করে গুরুতর ও সাধারন জখম করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার বাদী কোতয়ালী মডেল থানার এসআই মাহবুব আলম জানান, নগরীর ডিসিঘাট কাচাবাজারের সামনে মামলার গ্রেপ্তারী পরোয়ানার আসামী হিসেবে মাসুমকে গ্রেপ্তার করেন তারা। তখন অন্যান্য আসামীরা আক্রমনাত্মক ও মারমুখী আচরন শুরু করেন। তাদের শান্ত করার চেষ্টা করলে আসামীরা তাদের উপর ইটের টুকরো নিক্ষেপসহ লাঠি, বাঁশ ও রড নিয়ে আক্রমন করে। এতে তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়। তখন মাসুম এক পুলিশ সদস্যদের হাতে কামড় দিয়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স এলে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, পুলিশের উপর হামলা ও মারধরের ঘটনায় মামলার করা হয়েছে। মামলার আসামী হিসেবে চারজনকে আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক মো. হুমায়ন কবির বলেন, বিষয়টি শুনেছি। যারা আইন হাতে তুলে নেবেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।