নিজস্ব প্রতিবেদক:: বরিশালে বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলে জাল নোট ছাপিয়ে জাল টাকার ব্যবসা করে আসছিল কয়েকজন যুবক। এসব জাল নোট শিশুদের মাধ্যমে চালান করে আসছিল বিভিন্ন এলাকায় তারা। অবশেষে জাল নোট ব্যবসায়ী চক্রের চার সদস্যকে আটক করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন (ডিবি) পুলিশ।এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ জাল টাকার নোটসহ জাল নোট ছাপানোর সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। পাশাপাশি উদ্ধার করা হয় মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম।মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) দিবাগত সাড়ে ১২ টার দিকে নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।আটককৃতরা হলেন- নগরীর হাসপাতাল রোড এলাকার ঝাউতলা ৩য় গলির শাওন (১৭), নথুল্লাবাদ এলাকার আলভী (১৮) ভাটিখানা এলাকার তানভীর (১৮) ও আলিফ (১৬)।জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে শহরের বগুরা রোড এলাকার বেলালের চায়ের দোকানে ১শ টাকার একটি নোট দিয়ে শাওন ও আলিফ নামের দুই কিশোর সিগারেট ক্রয় করেন। এসময় দোকানীর বিষয়টি সন্দেহ হলে তাৎক্ষণিক স্থানীয়দের সহায়তা নেন।বগুড়া রোডের বাসিন্দা মুন্না জানান, দোকানী তাদের নোটটি দেখালে ওই কিশোরদের তল্লাশি করে ১শ টাকার আরো সাতটি নোট পান তারা। পরে তাদের দুজনকে ডিবি পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হয়।বরিশাল মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের উপ-পরিদর্শক ফিরোজ আলম জানান, জাল টাকাসহ আটক দুই কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে কিশোর শাওনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে নগরীর ভাটিখানা কাজী মসজিদ সংলগ্ন একটি ভবনের নিচতলায় তানভীরের বাসায় অভিযান চালানো হয়। এসময় ওই বাসা থেকে বিপুল পরিমান জাল টাকার ১শ ও ৫০ টাকার নোট উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও জাল টাকার নোট তৈরির একটি কম্পিউটার ও প্রিন্টারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।এরপর তানভীরের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে দ্বিতীয় দফায় ডিবি পুলিশ নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের আরেক সদস্য আলভীকে আটক করেন তারা। তবে ওই বাসায় তল্লাশি করতে বাঁধা দেয় আলভীর স্বজনরা।ডিবি পুলিশের ওই কর্মকর্তা আরও জানান, আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে। চক্রের সাথে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদেরকেও আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। তাছাড়া এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নথুল্লাবাদ এলাকা থেকে আটক কিশোর আলভী। তার দাবি- জাল নোট চক্রের সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই। তবে তিনি জাল টাকা তৈরির সকল মালামাল সরবরাহ করেন বলে জানিয়েছেন।