
স্টাফ রিপোর্টার:: বরিশাল বিএনপি রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষফোঁড়ার রূপান্তরিত হয়েছে, বরিশাল নগরীর ১৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও সাবেক কাউন্সিলার মো. জিয়াউল হক মাসুম। জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিপক্ষে নগরীর রাজপথে আ.লীগের পক্ষে সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন। ছড়িয়ে রয়েছে আওয়ামী লীগের চিহ্নিত একাধিক নেতার সাথে মাসুমের ঘনিষ্ঠতার ছবি। ফ্যাসিস্টের দোসর সেই মাসুম সম্প্রতি বরিশাল-৫ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো. মজিবর রহমান সরওয়ার কে ধানের শীষ এর প্রতীক দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।তথ্য প্রমাণে ফুটে উঠেছে, আওয়ামী লীগ শাসনামলে দলের নির্দেশ অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ১৮ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলার পদে নির্বাচিত হন জিয়াউল হক মাসুম। জয়ের কিছুদিন পরই আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানককে মিষ্টি মুখ করান মাসুম। পরে ১৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলার অফিস উদ্বোধন করেন বিসিসি’র সাবেক মেয়র মো. আবুল খায়ের খোকন সেরনিয়াবাত। নানক ও তার ভাইকে সহ একাধিক আ.লীগ নেতার বাসভবনে গিয়ে ফুলের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি আ.লীগের নেতাদের ছবি দিয়ে ব্যানার, ফেস্টুন ঝুলিয়ে নগরীর মোড়ে মোড়ে নববর্ষ ও ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন মাসুম।সর্বশেষ জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আ.লীগের পক্ষ হয়ে মাসুমের নেতৃত্বে তার লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রাজপথে আন্দোলনে নেমে পড়ে। যার ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল হয়।হঠাৎ চলিত বছরের ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়- দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি কার্যকলাপের জন্য বরিশাল মহানগরের অন্তর্গত ১৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব জিয়াউল হক মাসুম কে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল, আবেদনের প্রেক্ষিতে দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাদের বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করে প্রাথমিক সদস্য পদ ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে।জানতে চাইলে জিয়াউল হক মাসুম বলেন, এখানে ফ্যাসিস্ট এর প্রশ্নই উঠে না। কারণ, ব্যানার-ফেস্টুনে শুধু মেয়রের ছবি ছিল। শেখ হাসিনা বা বঙ্গবন্ধুর ছবি ছিল না। তখন আ.লীগ সবাইকে জোরপূর্বক দিতে বলতো। আর এগুলো নিয়ে আমাদের নিজ দলের কিছু লোক খোঁচাখুঁচি করে। মানে কাউকে উপরে উঠতে দেবে না।