নিজস্ব প্রতিবেদক:: বরিশালের নদীঘেরা হিজলা উপজেলার ভূমিহীনদের মাঝে সরকারের বন্দোবস্ত দেওয়া কয়েকশ’ একর জমির ধান জোরপূর্বক কেটে লুট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্তরা মূলত পাশ্ববর্তী শরীয়তপুর জেলার চিহ্নিত প্রভাবশালী ভূমিদস্যুদের বলে জানা গেছে।খবর পেয়ে হিজলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ভূমিদস্যুরা ধান ফেলে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।জানা গেছে, হিজলা উপজেলার হরিনাথপুর ইউনিয়নের কোলচরী-পাতারচর মৌজায় স্থানীয় ভূমিহীনরা সরকারের বন্দোবস্তকৃত জমিতে আমন ধান রোপণ করেছেন।পাকা ধান ওঠার পর গত কয়েকদিন ধরে পাশ্ববর্তী শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট উপজেলার কুচাইপট্টি এলাকার চিহ্নিত ভূমিদস্যু জসিম মোতাইত ও দুলাল মোতাইতের নেতৃত্বে তাদের অর্ধশতাধিক সহযোগী জোরপূর্বক ধান কেটে নিয়েছে।বন্দোবস্ত পাওয়া ভূমিহীনরা খবর পেয়ে থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। পরে হিজলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ভূমিদস্যুরা ধান ফেলে ট্রলারযোগে পালিয়ে যায়।স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সরকার ২০১২-১৩ সালে ৫১ জন ভূমিহীনকে ১১০ একর চরের জমি বন্দোবস্ত দিয়েছে।ভূমিহীন কৃষক মো. ইয়াসিন বলেন, এই জমি আমাদেরকে সরকারের পক্ষ থেকে বৈধভাবে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে। আমরা নিয়মিত এখানে ধান চাষ করে আসছি।”তিনি অভিযোগ করেন, গত ৮ ডিসেম্বর থেকে দুই দিন ধরে পাশ্ববর্তী জেলার চিহ্নিত ভূমিদস্যুরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ট্রলারযোগে এসে আমাদের পাকা ধান কেটে লুট করছে। আমরা ১০ ডিসেম্বর দুপুরে থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ দিই।”স্থানীয় ভূমিহীন আবুল কাশেম মাতুব্বরসহ অন্যান্যরা বলেন, সরকারি বন্দোবস্ত পাওয়া জমিতে আমরা ধান রোপন করেছি। কিন্তু পাকা ধান কেটে ভূমিদস্যুরা লুটপাট করেছে।প্রবীণ স্থানীয় নুরুল ইসলাম আকন বলেন, গরীব ও অসহায় ভূমিহীনরা চরের জমিতে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তবে সরকারের বন্দোবস্ত দেওয়া সেই জমির ধান ভূমিদস্যুরা জোরপূর্বক কেটে নিয়ে যাচ্ছে।ধান কেটে নেওয়ার সত্যতা স্বীকার করে হিজলা উপজেলার হরিনাথপুর ইউনিয়নের সাওরা সৈয়দখালী পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) শহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে পাশ্ববর্তী জেলা থেকে আসা লোকেরা ধান ফেলে ট্রলারযোগে পালিয়ে যায়।এ বিষয়ে সদ্য যোগদানকারী হিজলা উপজেলা সরকারি কমিশনার (ভূমি) অভ্র জ্যোতি পোদ্দার বলেন, বিষয়টির খোঁজখবর নিয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ধান লুটের অভিযোগে সরাসরি অভিযুক্ত শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট এলাকার জসিম মোতাইত ও দুলাল মোতাইতের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোন মন্তব্য প্রদান করেননি।