
নিজস্ব প্রতিবেদক::নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে প্রার্থীদের ব্যস্ততা ততই বাড়ছে। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটছে প্রার্থীদের। ভোটারদের হাতে নির্বাচনী প্রতীক ও লিফলেট তুলে দিচ্ছেন প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকরা।নির্বাচনকে ঘিরে চায়ের দোকানগুলোতে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। ফলে সরগরম থাকছে চায়ের দোকান। কেমন প্রার্থীকে ভোট দেবেন ভোটাররা, তা নিয়ে চলছে নানান গুঞ্জন।বরিশাল নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৮টি উপজেলা নিয়ে গঠিত আটটি সংসদীয় আসন। আটটি আসনের প্রতিটিতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না।প্রতিটি নির্বাচনেই চায়ের দোকানগুলোতে মানুষের ভিড় থাকে। আর এ চায়ের দোকানে সব বয়সী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আনাগোনা থাকে। ফলে ভোটাররাও প্রার্থীদের নিয়ে নানান সমালোচনা করার সুযোগ পান। কেমন প্রার্থীকে তারা আগামীতে দেখতে চান এবং কেমন প্রার্থীকে ভোট দেবেন তা নিয়ে মূলত আলোচনা। চায়ের দোকানে ভোট মৌসুমে চাপ থাকায় অনেকে দোকানে কর্মচারীও রেখেছেন।তবে শহরের পাড়া-মহল্লার দোকানে সব সময় ভিড় থাকলেও গ্রামের দোকানে থাকে ভিন্ন চিত্র। গ্রামের কর্মীজীবী মানুষরা চায়ের দোকানে ভিড় করেন সকাল ও সন্ধ্যায়। চা খেতে খেতে টেলিভিশনে সিনেমা দেখা। সঙ্গে চলে ভোটের আলোচনা।ভোটাররা বলছেন, অন্যান্য জেলার তুলনায় বরিশাল সদর এখনো অনেক পিছিয়ে। তাই আগামীতে যারা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন তারা বরিশাল সদর আসন উন্নয়ন নিয়ে ভাববেন।চরমোনাই ইউনিয়নের মোঃ হালিম মজুন্দার(মাস্টার)বলেন, সদরে একজন যোগ্য প্রার্থী বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমীর আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মূফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম। যিনি বরিশাল শহর গ্রাম উন্নয়নে রোল মডেল সৃষ্টি করবেন। বরিশাল সদর হিসেবে খুবই ছোট। রাস্তাঘাটসহ যোগাযোগ ব্যবস্থা তেমন ভালো না। যানজট নিরসনে শহরের পূর্ব ও উত্তর পাশ দিয়ে বাইপাস নির্মাণ করা প্রয়োজন।বরিশাল সদর কৃষি ২য় জেলা। সে হিসেবে এখানে কোনো কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নেই। এছাড়া বরিশালে এখনও গ্যাসের সংযোগ আসেনি। জেলার উন্নয়নের জন্য আগামীতে মূফতি ফয়জুল করিম সংসদ সদস্য হবেন তিনি বরিশালকে নিয়ে ভাববেন।বরিশাল সদর উপজেলার কুন্দিয়াল পাড়া গ্রামের হুমায়ুন বিশ্বাস বলেন, নির্বাচন আসলে সব প্রার্থী এলাকার উন্নয়ন করবে বলে নানান প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন। কিন্তু নির্বাচনের পর এলাকায় তাদের দেখা পাওয়া দায়। আমরা একজন সৎ ও যোগ্য ব্যক্তি ফয়জুল করিমকে চাই। সে তৃণমূল মানুষের দুঃখ-বেদনা বুঝবেন।তিনি আরও বলেন, প্রতিবারই তো প্রার্থী দেখে শুনেই ভোট দেয়া হয়। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। এবার শায়েখে চরমোনাইকে নির্বাচিত করতে চাই ।বরিশালের চন্দ্রমোহন এলাকায় চা দোকানি বলেন, ডিসেম্বর মাসের শুরু থেকেই চায়ের দোকানে মানুষের ভিড় বেড়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে ভোটের আলোচনা ও সমালোচনা। যে যার মতে করে মন্তব্য করছেন। তিনি বলেন, এবার হাতপাখার দিকে মানুষ ঝুকে পরেছে ।দোকানে ভিড় থাকায় চা বিক্রিও বেড়েছে। আগে ৩-৪ হাজার টাকা আয় হতো এখন প্রতিদিন প্রায় ৬-৭ হাজার টাকা আয় হচ্ছ বলে তিনি জানান।