প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকালে কোস্টগার্ডের ‘স্বাধীন বাংলা’ নামের জাহাজটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীর তীরে নোঙর করা স্পিডবোটগুলোতে ধাক্কা দেয়। এতে পরপর ৫টি স্পিডবোট ডুবে যায়। এরপর বিআইডব্লিউটিএর একটি জাহাজে ধাক্কা দিয়ে অপর পাশে নোঙর করা খাদ্য বিভাগের গমবোঝাই ‘ডিবি পাপিয়া’ নামের জাহাজটিকে আঘাত করে। এতে গমবোঝাই জাহাজটির তলার অংশ ফেটে যায় এবং দ্রুত ভেতরে পানি ঢুকতে থাকে।
এ সময় জাহাজে থাকা লোকজনের ডাকচিৎকারে আশপাশের এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। পরে ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটি টেনে নিরাপদ স্থানে এনে গমের বস্তা খালাসের ব্যবস্থা করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর কোস্টগার্ডের জাহাজটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বরিশাল থেকে চলে যায়। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শুক্রবার দুপুরে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ ও দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজে থাকা অবশিষ্ট গম দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার কার্যক্রম চলছে।
বরিশাল সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আবু সাঈদ বলেন, জাহাজটিতে প্রায় ৩০০ মেট্রিক টন গম রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। গমগুলো খুলনা থেকে আনা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর জাহাজে পানি ঢুকে পড়ায় দ্রুত বস্তাগুলো সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে প্রায় ২ ট্রাক গম ভিজে গেছে।
দুর্ঘটনায় ৫টি স্পিডবোট ডুবে যাওয়া এবং বিপুল পরিমাণ সরকারি খাদ্যশস্যবোঝাই জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় নদীবন্দরের নিরাপত্তা ও নৌযান চলাচল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণের বিষয়টি উঠে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।







