ঝালকাঠিতে কৃষককে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে
প্রতিনিধির নাম
প্রকাশিত সময়
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬
২২
বার পড়েছেন
ঝালকাঠি প্রতিনিধি::ঝালকাঠির বিনয়কাঠি এলাকায় মো. কামাল মাঝি নামে এক কৃষককে মাদক ব্যবসায়ী আখ্যা দিয়ে হাত-পা ও কোমরে রশি বেঁধে মারধর এবং টেনেহিঁচড়ে গ্রাম ঘোরানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ঝালকাঠি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সরদার এনামুল হক এলিনের বিরুদ্ধে ‘মব’ সৃষ্টি করে নির্যাতনে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর স্ত্রী সোনিয়া আক্তার।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) ঝালকাঠির জেলা প্রশাসকের কাছে এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দেন সোনিয়া আক্তার। অভিযোগের অনুলিপি পুলিশ সুপার ও ঝালকাঠি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছেও দেওয়া হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে কামাল মাঝিকে মাদক ব্যবসায়ী আখ্যা দিয়ে আটক করা হয়। পরে তাঁর হাত-পা বেঁধে জিআই পাইপ ও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম ও ফোলা দেখা দেয় বলে অভিযোগ করেন তাঁর স্ত্রী। একপর্যায়ে কোমরে রশি বেঁধে তাঁকে টেনেহিঁচড়ে গ্রাম ঘোরানো হয়। স্ত্রী-সন্তানের সামনেই তাঁকে নির্যাতন ও অপদস্থ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
সোনিয়া আক্তারের অভিযোগ, বিএনপি নেতা সরদার এনামুল হক এলিন তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের নিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে এলিনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
‘অপরাধী হলে আইন বিচার করবে’
সোনিয়া আক্তার বলেন, আমার স্বামী পাঁচ বছর আগে মাদক ব্যবসা করতেন, কিন্তু এখন আর সেই ব্যবসা করেন না। তিনি যদি অপরাধী হন, তাহলে আইন তাঁর বিচার করবে। মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তাঁকে কেন মারধর করা হলো? আমি এ ঘটনার বিচার চাই।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে গাঁজাসহ কামাল মাঝি পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন এবং এ-সংক্রান্ত একটি মামলা চলমান রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে মামলার বর্তমান অবস্থা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য না হয়েও অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ রয়েছে বলেও দাবি করেছেন অভিযোগকারী।
কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ থাকলেও আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে তাঁকে মারধর বা প্রকাশ্যে অপদস্থ করার অধিকার কারও নেই। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগীর পরিবার।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত বিএনপি নেতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং পুলিশের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে যুক্ত করা প্রয়োজন।