
নিজস্ব প্রতিবেদক::ঘুষ-দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে বরিশালের মেহেন্দগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিস। দিনের পর দিন অসাধু দলিল লেখকদের যোগসাজশে নামমাত্র কাগজপত্র দাখিল করে মোটা অঙ্কের ঘুষের মাধ্যমে চলছে দলিল রেজিস্ট্রির কাজ। এখানে ঘুষ ছাড়া কোনো দলিল রেজিস্ট্রি করা যায় না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার দিয়ে এখানে দলিল রেজিস্ট্রির কাজ চলছে। এতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন জমির ক্রেতা-বিক্রেতারা।খোঁজ নিয়ে মেহেন্দীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার বিরুদ্ধে সরকার নির্ধারিত রাজস্ব ফাঁকি দিতে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে হেবা দলিল রেজিস্ট্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। নালার স্থলে পতিত দেখিয়ে মোটা অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর উপজেলার চানপুর ইউনিয়নের সাবেক হালে মৌজায় ৫৮ শতাংশ নালার জমিকে পতিত জমি দেখিয়ে দলিলমূলে রেজিস্ট্রি করা হয়। দলিলে জমিটির রেজিস্ট্রি মূল্য মাত্র ৪ লাখ টাকা দেখিয়ে ৩২ হাজার টাকায় রেজিস্ট্রি করে নেওয়া হয়। তবে নালা শ্রেণিভুক্ত জমিটির প্রকৃত মূল্য ২৬ কোটি ৪৬ হাজার টাকা। কিন্তু জমিটি পতিত দেখিয়ে ৮ শতাংশ রেজিস্ট্রেশন স্ট্যাম্প ফি (রাজস্ব) ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। কয়েক হাজার টাকা রাজস্ব হারিয়েছে সরকার। সাব-রেজিস্ট্রারের আশীর্বাদপুষ্ট অসাধু দলিল লেখকর গংয়ের যোগসাজশে এ দুর্নীতি করা হয়েছে। সাব-রেজিস্ট্রার একান্ত সহকারী তাপস নামের এক ব্যক্তি এ কাজে সহযোগিতা করেছেন। কয়েক বছর এ সাব-রেজিস্ট্রার দিয়ে এখানে দলিল রেজিস্ট্রির কাজ চলছে। এতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন জমির ক্রেতা-বিক্রেতারা। দলিল লেখক সমিতির সদস্যদের দাবি, বরিশালের প্রতিটি উপজেলায় একজন করে স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার থাকার কথা। উপজেলার চরএকরিয়া এলাকার ভুক্তভোগী জসিম বলেন, জমি বিক্রি করে ছেলেকে বিদেশ পাঠাব। এজন্য বায়না করেছি; কিন্তু এখন সাব-রেজিস্ট্রারের জটিলতায় জমি বিক্রি করতে পারছি না। উলানিয়া এলাকার আকবার নামের একজন বলেন, আমার একটি নালা জমি বিক্রি করে মেয়ের বিয়ে ও নিজের চিকিৎসা নিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রারের জটিলতায় জমি বিক্রি করতে পারছি না। অতিরিক্ত সাব-রেজিস্ট্রার দিয়ে কার্যক্রম চলায় কয়েক বছর ধরে লোকজন জমি কেনাবেচা করতে পারছেন না।স্থানীয়রা জানান, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ঘিরে সক্রিয় স্থানীয় এমপির আশীর্বাদপুষ্ট একটি চক্র। এ চক্রের কারণে এখানে বদলি হয়ে এসে বেশিদিন থাকতে পারেন না কোনো সাব-রেজিস্ট্রার। তাদের চাপে কর্মকর্তারা দুর্নীতিতে জড়িয়ে যাচ্ছেন। গত ৫ ফেব্রুয়ারি এই সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এরপর দুর্নীতি আড়াল করতে সাব-রেজিস্ট্রার বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাঁপ করছেন।এর আগে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের বিভিন্ন দুর্নীতির খবর একাধিকবার স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়, যা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এরপর থেকে চক্রটি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার সাব-রেজিস্ট্রার মোবাইল ফোনে কল দিলেও ফোন ধরেননি তিনি। এ কারণে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।