এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে এজাহার সূত্রে জানা গেছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন বিলগ্রাম উত্তরপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় গৌরনদী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. পারভেজ আহমেদ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইনে একটি মামলা করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন বিকেলে গৌরনদী মডেল থানার একটি পুলিশ দল আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছিল। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, বিলগ্রাম উত্তরপাড়া এলাকার একটি বসতঘরে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং রাজনৈতিক কার্যক্রম পুনরায় সচল করার উদ্দেশ্যে তাঁরা সেখানে বৈঠক করছিলেন।
পরে গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেলের নির্দেশে পুলিশ ওই এলাকায় অভিযান চালায়।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে উপস্থিত ব্যক্তিরা পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে সাতজনকে আটক করা হয়। এ সময় পালানোর চেষ্টা করতে গিয়ে পড়ে কয়েকজন আহত হলে তাঁদের গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—পলাশ হাওলাদার (৩০), ওয়াজ করনী (৫০), মো. মহিবুল আলম (৫৫), মিঠুন হালদার (৩২), মো. মাসুম সরদার (৩৯), মো. সজিব সরদার (২৯) ও সলিল গুহ পিন্টু (৪৫)। এজাহারে তাঁদের বিভিন্ন পর্যায়ের আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে নাম উল্লেখ করা অন্য ব্যক্তিরা হলেন সৈকত গুহ পিকলু (৫০), মনির হোসেন মিয়া (৫৫), ইকতিয়ার হাওলাদার (৫৪), মামুনুর রশিদ ওরফে মনু মোল্লা (৪০), মনির মীর (৪০), মেহেদী আকন (৩৮), জসিম মেম্বার (৩৮) ও জোবায়ের ইসলাম ওরফে সন্টু ভূঁইয়া (৪০)। তাঁদের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা ২৫ থেকে ৩০ জনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রম পুনরায় সচল করা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
এদিকে, মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।







