
সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল-মামুন-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় প্রতি রাতে বৈঠক
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-আন্দোলন দমনের জন্য তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বাসায় ১৯ জুলাই থেকে প্রায় প্রতি রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক হতো বলে জানান সাবেক আইজিপি। রাত ৮টা, ৯টার দিকে এ বৈঠক হতো। তিনি সদস্য হিসেবে সেখানে উপস্থিত থাকতেন।জবানবন্দিতে সাবেক আইজিপি মামুন বলেন, ‘বৈঠকে স্বরাষ্ট্রসচিব জাহাঙ্গীর সাহেব, অতিরিক্ত সচিব রাজনৈতিক টিপু সুলতান, অতিরিক্ত সচিব রেজা মোস্তাফা, এসবির প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির প্রধান হারুন উর রশীদ, র্যাবের ডিজি হারুন অর রশিদ, ডিএমপি কমিশনার মো. হাবিবুর রহমান, আনসারের ডিজি মেজর জেনারেল এ কে এম আমিনুল হক, এনটিএমসির ডিজি মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, বিজিবির ডিজি ও ডিজিএফআইয়ের প্রধান উপস্থিত থাকতেন। সেখানে আন্দোলন দমন থেকে শুরু করে বিভিন্ন পদক্ষেপের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতো। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন নির্দেশনা জানাতেন এবং পরামর্শ করতেন।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় কোর কমিটির এমন এক বৈঠক থেকেই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়দের আটকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এটা উল্লেখ করে জবানবন্দিতে সাবেক আইজিপি মামুন বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে আটকের দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিজিএফআই এবং ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদকে। পরে তাঁদের (সমন্বয়কদের) আটক করে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয় এবং সরকারের সঙ্গে আপস করার জন্য বিভিন্নভাবে মানসিক নির্যাতনসহ চাপ দেওয়া হয়। তাঁদের আত্মীয়স্বজনকেও নিয়ে আসা হয়। সমন্বয়কদের আন্দোলন প্রত্যাহার করার জন্য টেলিভিশনে বিবৃতি প্রদানে বাধ্য করা হয়।জবানবন্দিতে সাবেক আইজিপি বলেন, ‘কোর কমিটির বৈঠকে তাদের আটকের বিষয়ে আমি বিরোধিতা করি। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে তাদের আটক করা হয়। ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জমান খান কামালের গভীর সম্পর্ক ছিল। আসাদুজ্জামান খান কামাল হারুনকে “জিন’’ নামে ডাকতেন। তিনি হারুনকে খুব কর্মতৎপর এবং সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে রাজনৈতিকভাবে খুব কার্যকর মনে করতেন।এ ছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বাসায় অফিশিয়াল বৈঠকবহির্ভূত হিসেবে কতিপয় পুলিশ অফিসার, ওসি, এনটিএমসির তৎকালীন ডিজি মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, ডিজিএফআই ও এনএসআইয়ের তৎকালীন ডিজি এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা নিয়মিত যাতায়াত করতেন বলেও জবানবন্দিতে এসেছে।জবানবন্দিতে বলা হয়, ‘৪ আগস্ট রাতে হঠাৎ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী গণভবনে বৈঠক ডাকেন। গণভবনে রাত ১০টার দিকে বৈঠক হয়।৪ আগস্ট শেখ হাসিনার দুই বৈঠক-ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগের দিন ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট গণভবনে শেখ হাসিনা দুই দফা বৈঠক করেছিলেন বলে সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল-মামুন তাঁর জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘৪ আগস্ট বেলা ১১টায় গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর (শেখ হাসিনা) সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়।সেখানে তৎকালীন আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ তিন বাহিনীর প্রধান এবং আমিসহ নিরাপত্তাসংক্রান্ত জাতীয় কমিটির বৈঠক হয়। আন্দোলন পরিস্থিতি এবং তা দমন করার বিষয়ে আলোচনা হয়। গোয়েন্দা প্রতিবেদন জানায়, আন্দোলন গুরুতর পর্যায়ে চলে গেছে। তা দমন করা প্রয়োজন। সরকারের পরিবর্তন বা পতন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। আমরা চেষ্টা করেছি সরকারকে সঠিক তথ্য দিতে। সরকার তার দুর্বলতা শুনতে প্রস্তুত ছিল না। এই মিটিংয়ে থাকাবাস্থায় পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে ও বিভিন্ন স্থানে সমস্যা দেখা দেয়। পরে বৈঠক মুলতবি হয়।’দ্বিতীয় বৈঠকের বিষয়ে জবানবন্দিতে বলা হয়, ৪ আগস্ট রাতে হঠাৎ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী গণভবনে বৈঠক ডাকেন। গণভবনে রাত ১০টার দিকে বৈঠক হয়।তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী, তাঁর বোন শেখ রেহানা, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, তিন বাহিনীর প্রধান, র্যাবের ডিজি এবং আইজি হিসেবে আমি উপস্থিত ছিলাম। জেনারেল মুজিব (লে. জেনারেল মুজিবুর রহমান) উপস্থিত ছিলেন বৈঠকে। সেখানে খোলামেলা কথা হয়। এসবির প্রধান মনিরুল ও ডিজিএফআইয়ের ডিজি বাইরে ছিলেন।৪ আগস্টের ওই বৈঠকে কীভাবে পরদিনের অর্থাৎ ৫ আগস্টের আন্দোলন ও গণজমায়েত দমন করা যায়, তা নিয়ে কথা হয় জানিয়ে সাবেক আইজিপি জবানবন্দিতে বলেন, ‘ওই বৈঠকে ফোর্স মোতায়েন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠক ৩০-৪৫ মিনিট হয়। বৈঠক শেষে আমরা সেনাবাহিনীর অপারেশন কন্ট্রোল রুমে চলে যাই। তিন বাহিনীর প্রধান, মেজর জেনারেল মুজিব, র্যাবের ডিজি, গোয়েন্দা সংস্থা, ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, আমি নিজে ছিলাম। সেখানে ফোর্স মোতায়েন নিয়ে কথা হয়। বৈঠক প্রায় রাত সাড়ে ১২টায় শেষ হয়। বৈঠকে ঢাকা শহর, ঢাকার প্রবেশমুখে কঠোর অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে বিস্তারিত কোনো আলোচনা হয়নি। পুলিশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়।র্যাবের সাবেক এই মহাপরিচালকের জবানবন্দিতে উঠে আসে, ‘কাউকে উঠিয়ে আনা, গুম করে রাখার মতো বিষয়গুলো মেজর জেনারেল (অব.) তারিক সিদ্দিক (শেখ হাসিনার নিরাপত্তা উপদেষ্টা) সরাসরি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতেন।৫ আগস্ট সেনাবাহিনী বাধা দেয়নি ।সাবেক আইজিপি মামুনের জবানবন্দিতে বলা হয়, ‘৫ আগস্ট সকাল ১০টা পর্যন্ত ঢাকার ভেতরে আমাদের (পুলিশ) শক্ত অবস্থান ছিল। ঢাকার প্রবেশমুখে উত্তরা-যাত্রাবাড়ী এলাকায় লাখ লাখ মানুষ জড়ো হয়। আমি তখন পুলিশ হেডকোয়ার্টারে অবস্থান গ্রহণ করি। ডিএমপি কমিশনারসহ ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ পুলিশ অফিসাররা ঢাকা পুলিশ কন্ট্রোল রুমে ছিলেন। সেখান থেকে তাঁরা নির্দেশনা প্রদান করেন।ওই দিনের ঘটনার বিষয়ে জবানবন্দিতে বলা হয়, ‘বেলা ১১টার দিকে উত্তরা থেকে লাখ লাখ লোক ঢাকার ভেতরে আসতে শুরু করেন। তখন জানতে পারি যে সেনাবাহিনী বাধা দেয়নি। সেনাবাহিনীর মাঠপর্যায়ের অফিসার ও ফোর্স আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেন। এর ফলে গণভবনমুখী জনস্রোতকে দমন ও আটকানো সম্ভব হয়নি। বেলা একটার দিকে ঢাকার ভেতরে মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। পিএমও (প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়) থেকে আমাদের বলা হয় মহাখালী এলাকায় জনস্রোত আটকানোর জন্য। আমি ৫ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে বুঝতে পারি যে সরকারের পতন হবে। প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতা ছেড়ে দেবেন, এটা আমি এসবির মাধ্যমে জানতে পারি। তিনি ভারত যাবেন কি না, তা জানতে পারিনি। সেনাবাহিনী তা জানায়নি।জবানবন্দিতে সাবেক আইজিপি বলেন, ‘৫ আগস্ট বিকেল বেলায় জানতে পারি পুলিশ অফিসারদের নেওয়ার জন্য পুলিশ হেডকোয়ার্টারে হেলিকপ্টার আসবে। আমি উক্ত হেলিকপ্টারে করে তেজগাঁও বিমানবন্দরে যাই এবং সেখান থেকে সেনাবাহিনীর অফিসার্স মেসে আশ্রয় গ্রহণ করি।রাতে ব্যালট বাক্স ভরে রাখার নির্দেশ।২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন রাতের ভোট হিসেবে পরিচিত। এই নির্বাচনের আগের রাতেই তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ব্যালট বাক্স ভরে রাখার নির্দেশ দিয়েছিল বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন সাবেক এই আইজিপি। তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় আমি ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে কর্মরত ছিলাম।তৎকালীন আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাতের বেলায় ব্যালট বাক্সে প্রায় ৫০ শতাংশের মতো ব্যালট পেপার ভরে রাখার পরামর্শ দেন বলে শুনেছি। মাঠপর্যায়ে সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে রাতে ব্যালট বাক্সে ভোট দেওয়ার (ব্যালটে সিল মেরে ভরে রাখা) ব্যাপারে নির্দেশনা প্রেরণ করা হয়। রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতায় ও উদ্যোগে জেলা প্রশাসন, ডিসি, ইউএনও, এসি ল্যান্ড, এসপি ও থানার ওসিগণ মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তী সময়ে পুলিশের বিপিএম ও পিপিএম পদক নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্বাচনসহ রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সক্রিয় পুলিশ অফিসারদের বিবেচনা করা হতো। এ ক্ষেত্রে সঠিকভাবে পেশাদারত্ব দেখানো হয় নাই।গুম ও গোপন বন্দিশালা।২০২০ সালের ১৪ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে র্যাবে গুম ও গোপন বন্দিশালার বিষয়ে নিজের অভিজ্ঞতাও জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন সাবেক আইজিপি মামুন। তিনি বলেন, ‘র্যাবের মহাপরিচালক থাকার কারণে আমি জানি যে টিএফআই সেল র্যাবের সদর দপ্তরের অধীনে পরিচালিত হতো। এটির অবস্থান হলো উত্তরার র্যাব-১-এর কম্পাউন্ডের ভেতরে। এ ছাড়া র্যাবের বিভিন্ন ইউনিটের অধীনেও আলাদা আলাদা সেল বা বন্দিশালা ছিল। যেগুলো সংশ্লিষ্ট র্যাব ইউনিটগুলোর প্রধানদের অধীনে পরিচালিত হতো।তিনি বলেন, ‘র্যাবের মাধ্যমে রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বী এবং সরকারের জন্য হুমকি হয়ে ওঠা কোনো ব্যক্তিকে তুলে আনা, জিজ্ঞাসাবাদ, নির্যাতন এবং গোপন বন্দিশালায় আটক রাখার বিষয়টি র্যাবের ভেতরে একটা কালচার (সংস্কৃতি) হিসেবে বিবেচিত হতো। তবে এই কাজগুলো প্রধানত র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি, অপারেশনস) এবং র্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালকেরা সমন্বয় করতেন।র্যাবে কাজ করা পুলিশের সাবেক এই প্রধান জবানবন্দিতে বলেন, ‘র্যাবের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে উঠিয়ে আনা বা গুম করার নির্দেশনা বা ক্রসফায়ারে হত্যা করার মতো সিরিয়াস নির্দেশনাগুলো সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে আসত বলে শুনেছি। আমার সময় আমি এ ধরনের আদেশ পাই নাই। কিছু কিছু নির্দেশনা নিরাপত্তা ও সামরিক উপদেষ্টা তারিক সিদ্দিকের পক্ষ থেকে আসত বলে জানতে পারি। র্যাব যদিও আইজিপির অধীনে ছিল, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে চেইন অব কমান্ড মানা হতো না। র্যাবের প্রধানেরা আইজিপিকে উপেক্ষা করেই কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নির্দেশে কাজ করত।দীর্ঘদিন গুম থাকা ব্যারিস্টার আরমানের বিষয়ে জবানবন্দিতে বলা হয়, টিএফআই সেলে কতজন বন্দী আসত বা কারাবন্দী আছে, এসব বিষয়ে সবকিছু আমাকে জানানো হতো না। এ বিষয়গুলো র্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক দেখভাল করতেন। ব্যারিস্টার আরমান টিএফআই সেলে বন্দী আছেন, এ বিষয়টি আমি জানতাম। তবে তাঁকে আমার সময় তুলে আনা হয়নি। অনেক আগে তুলে আনা হয়। র্যাবের আমার পূর্ববর্তী ডিজি বেনজির আহমেদ (সাবেক আইজিপি) দায়িত্ব হস্তান্তরকালে ব্যারিস্টার আরমান যে টিএফআইতে আটক আছেন, তা আমাকে অবহিত করেন।র্যাবের সাবেক এই মহাপরিচালকের জবানবন্দিতে উঠে আসে, ‘কাউকে উঠিয়ে আনা, গুম করে রাখার মতো বিষয়গুলো মেজর জেনারেল (অব.) তারিক সিদ্দিক (শেখ হাসিনার নিরাপত্তা উপদেষ্টা) সরাসরি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতেন।জবানবন্দিতে আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, ‘আমি র্যাবের দায়িত্ব পালনকালে টিএফআই সেলে বিনা বিচারে বন্দীদের আটক রাখা এবং নির্যাতন করা বা কাউকে কাউকে ক্রসফায়ারে হত্যা করার কিছু কিছু বিষয় জানতাম। কিন্তু আমি কোনো তদন্ত করিনি বা এগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করিনি। কারণ, এসব ব্যাপারে সিদ্ধান্তগুলো অন্যান্য বাহিনীর এবং গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে আসত এবং তারা সেগুলো বাস্তবায়ন করত। এমনকি (পরে) পুলিশপ্রধান হয়েও আমি র্যাবের এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করিনি বা করতে পারিনি।ক্ষমা প্রার্থনা।পাঁচ পৃষ্ঠার জবানবন্দি শেষে সাবেক আইজিপি বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে দমন করতে গিয়ে সরকারের নির্দেশনায় এবং অতি উৎসাহী পুলিশ অফিসার ও পুলিশ বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং জনগণের ওপর গুলি করাসহ নির্বিচার নির্যাতন, গ্রেপ্তার ও অসংখ্য মানুষকে আহত ও হত্যা করায় সাবেক পুলিশপ্রধান হিসেবে আমি লজ্জিত, অনুতপ্ত ও ক্ষমাপ্রার্থী। আমি আমার ভূমিকাসহ সার্বিক চিত্র বর্ণনা করার উদ্দেশ্যে এই জবানবন্দি প্রদান করলাম।