নিজস্ব প্রতিবেদক:: বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার বামরাইল ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী সোনার বাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কতিপয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, বিদ্যালয় এর কম্পিউটার, সোলার প্লান্ট, লোহার রড সহ গুরুত্বপূর্ণ মালামাল লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। লুটপাটকৃত মালামাল ও বিদ্যালয় এর আর্থিক হিসাব-নিকাশের দাবীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় এর সভাপতি মোঃ আলী সুজার দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন ছাত্র অভিভাবক সহ সংস্থানীয় জনতা। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের সভাপতি মোঃ আলী সুজার স্বাক্ষরিত এক আদেশে, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কাপিল বিশ্বাস, মৎস্য বিষয় কর্মকর্তা প্রসেন মজুমদার ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদকে নিয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায় বিদ্যালয়ের কতিপয় শিক্ষকদের সীমাহীন আর্থিক দুর্নীতি, অনিয়ম পাঠদানে ফাঁকি সহ বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ মালামাল লুট করা হয়েছে। সম্প্রতি এসএসসি পরীক্ষায় ভয়াবহ ফল বিপর্যয় হয়েছে। বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য আব্দুল লতিফ মোল্লা জানান, বিদ্যালয়টির বিগত কয়েক বছরের হিসাব নিকাশ বিদ্যালয় কমিটির সহ স্থানীয়দের না দেখিয়ে শিক্ষক বৃন্দ বিদ্যালয় থেকে আয় কৃত সকল টাকা ভাগাভাগি করে নিয়ে যান। বিদ্যালয় এর উন্নয়নে এক টাকাও খরচ করেন নি শিক্ষক বৃন্দ। এমন কি শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের পাঠদানের অমনোযোগী।লেখাপড়ার উপরে নজর না দিয়ে শিক্ষকরা নিজেদের মাঝে গ্রুপিং করে বেড়ায়। স্থানীয় মোঃ ইউসুফ রাড়ী জানান বিদ্যালয় এর সহকারি শরীরচর্চা ও ক্রিড়া শিক্ষক সাদিকুল ইসলাম ফরহাদ মাস্টার তিনি বিদ্যালয়ের সংরক্ষিত লোহার রড নিজ বাড়িতে নিয়ে তার ভবনির্মাণে ব্যবহার করেছেন কর্তৃপক্ষের কোন প্রকার অনুমতি ছাড়াই। অপরদিকে সাবেক প্রধান শিক্ষক নুরুল হক সরদার বিদ্যালয় থেকে পানির ট্যাংক ও সোলার প্লান্ট নিজ বাড়িতে নিয়ে স্থাপন করেছেন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই। একজন সংবাদকর্মী জানান বিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষক নাজমা ম্যাডাম তিনি কম্পিউটারের টাইপও জানেন না। সাংবাদিকরা তাকে কম্পিউটারের ব্যাপারে প্রশ্ন করলে সে উল্টো বলে তাকে সাংবাদিকরা হয়রানি করেছেন। এক অভিভাবক বলেন এই শিক্ষকের সার্টিফিকেট চেক করার জন্য সভাপতি মহোদয়কে বিশেষভাবে অনুরোধ করছি। এমনকি বিদ্যালয়ের কম্পিউটারটি তার নিজের বাসায় রেখেছেন এবং সে কম্পিউটার দিয়ে তার ছেলে গেম খেলেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায় বিদ্যালয়ের হিসাব সহকারী কে বিদ্যালয় থেকে উত্তোলনকৃত টাকা ব্যাংকে না পাঠিয়ে সিনিয়র শিক্ষক দেবাশীষ দাসের হেফাজতে রেখে ভাগ বাটোরা করে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে বিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তারিক আল মামুন জানান, আমার পূর্ববর্তী প্রধান শিক্ষকের আমল থেকেই এ নিয়ম চলে আসছে, আমি কয়েকদিন পূর্বে প্রধান শিক্ষক অবসরে যাওয়ার পরে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় সভাপতিকে আমি অবহিত করেছি। অভিযোগ থেকে আরো জানা যায় সাবেক প্রধান শিক্ষক নুরুল হক সরদার ও ক্রীড়া শিক্ষক মিলে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ৩০০ পুরস্কারের পরিবর্তে ৫০০ পুরস্কার ক্রয় করেন, বাকি ২00 পুরস্কার লুটপাট করে নিয়ে যান। বিদ্যালয়ের শিক্ষা সফরে নাম করে আয়কৃত অর্থের কোন হিসাব দেননি এই দুই শিক্ষক। এ বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে ক্রীড়া শিক্ষক ফরহাদ হোসেন বিদ্যালয়ে থেকে সংরক্ষিত কয়েকটি পুরস্কার তাদেরকে অফার করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সাংবাদিকরা তা গ্ৰহন করে নি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের সভাপতি মোঃ আলী সুজা জানান, বিদ্যালয়ের কয়েক জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে আমি একাধিক লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটির গঠন করেছি। তদন্ত করে সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।