

কোন খাতে কত মাশুল, কত বাড়ছেবন্দরে বর্তমানে ট্যারিফ লাইনে ৫২টি খাত রয়েছে। জটিলতা কমাতে তা ২৩টি খাতে আনা হয়েছে। পাঁচটি নতুন খাত যুক্ত করা হয়েছে। ব্যবহার না থাকায় চারটি খাত বাদ দেওয়া হয়েছে।জাহাজ, কনটেইনার ও সাধারণ পণ্য খাতে বন্দরের অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার বাবদ সেবার বিনিময়ে মাশুল আদায় করে বন্দর। বন্দরের সবচেয়ে বহুল পরিচিত মাশুল আদায়ের একটি খাত হলো জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো–নামানো। এই খাতে প্রতি ২০ ফুট লম্বা কনটেইনারের মাশুল হচ্ছে ৪৩ ডলার ৪০ সেন্ট। এই মাশুল বাড়িয়ে ৭০ ডলার ১১ সেন্ট করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আরেকটি খাত হলো বন্দর চত্বরে কনটেইনার রাখার মাশুল। জাহাজ থেকে কনটেইনার নামানোর চার দিন পর এই মাশুল আদায় হয়। এ ক্ষেত্রে প্রথম সপ্তাহের জন্য প্রতিদিনের মাশুল প্রতি ২০ ফুট লম্বা কনটেইনারের জন্য ৬ ডলার। এটি বাড়িয়ে ৬ দশমিক ৯০ ডলার প্রস্তাব করা হয়েছে।ব্যবহারকারীরা কী বলছেন?বাংলাদেশ কনটেইনার শিপিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফাইয়্যাজ খন্দকার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা ১৫ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে মাশুল বাড়ানোর প্রস্তুাব দিয়েছিলাম। এখন শুনেছি, এর চেয়ে অনেক বেশি বাড়ানো হচ্ছে। একলাফে এত বেশি হারে মাশুল বাড়ানো হলে তাতে ব্যবসার খরচ হঠাৎ করেই বাড়বে।’বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ প্রথম আলোকে বলেন, শিপিং এজেন্ট থেকে ১০ শতাংশের কম–বেশি বাড়ানোর দাবি ছিল। এ নিয়ে আরেকটা আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এরই মধ্যে মাশুল বাড়ানোর বিষয়টি দুঃখজনক। কারণ, মাশুল বাড়লে তা দিন শেষে ভোক্তার কাছ থেকেই আদায় হবে। ভোক্তার কাঁধে পড়বে বাড়তি খরচের বোঝা।বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সহসভাপতি খায়রুল আলম বলেন, বন্দর ডলার হিসেবে মাশুল আদায় করে। অর্থাৎ ১৯৮৬ সালে ডলারের দর ছিল ৩০ টাকা ৪১ পয়সা। এখন ডলারের দর ১২২ টাকা। অর্থাৎ মাশুল না বাড়ালেও ডলারের দর বাড়ায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাশুল চার গুণের বেশি বেড়েছে। এ অবস্থায় সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বন্দরের মাশুলের হার বাড়ানোর দরকার ছিল না। কারণ, বন্দর এখন লাভজনক প্রতিষ্ঠান।