পিরোজপুর প্রতিনিধি:: পিরোজপুরে ডিবি পুলিশের কর্মকর্তার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তাদের মেসে অস্থায়ী কেয়ারটেকার মো. ইউনুস ফকির ইউনুস ফকির নামে এক ব্যক্তি। চুরির অপবাদ দিয়ে তাকে মারধর, বৈদ্যুতিক শক এবং গরম মোম ঢেলে গোপনাঙ্গ ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে অন্য এক কর্মীর কাছ থেকে চুরি যাওয়া টাকা উদ্ধার হলে ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় আসে। শুক্রবার ইউনুসকে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।জানা যায়, গত সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটলেও বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগের বিষয়ে এখনও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। ইউনুস ফকির পিরোজপুর সদর উপজেলার খানাকুনিয়ারি গ্রামের মৃত মোবারেক আলী ফকিরের ছেলে। তিনি দুই মেয়ের জনক।পরিবারের সদস্যরা জানান, পিরোজপুর পুলিশ লাইনস এলাকায় কর্মকর্তাদের আবাসিক মেসে অস্থায়ী কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করতেন ইউনুস। ওই মেসের একটি কক্ষে থাকতেন পিরোজপুর ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল ইসলাম। তার কক্ষের দুটি চাবির একটি ইউনুসের কাছে ছিল।অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার দুপুরে আরিফুল ইসলাম হঠাৎ ইউনুসের কাছে থাকা চাবি ফেরত চান। চাবি দিতে ব্যর্থ হলে তাকে জানানো হয়, তার কক্ষ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা চুরি হয়েছে এবং ইউনুসই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। ইউনুস অভিযোগ অস্বীকার করলে তাকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে নিচতলায় নিয়ে মারধর করা হয়।পরবর্তীতে আরও কয়েকজন ডিবি সদস্য এসে তাকে মারধর, বৈদ্যুতিক শক এবং শারীরিক নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগ। একপর্যায়ে তাকে জোর করে রান্নাঘরে নিয়ে গিয়ে গলিত মোম ঢেলে গোপনাঙ্গে নির্যাতন করা হয় বলেও দাবি পরিবারের।পরিবারের অভিযোগ, নির্যাতনের এক পর্যায়ে ইউনুসের স্বজনরা টাকা জোগাড় করে অভিযুক্তদের হাতে তুলে দেন। পরে পিরোজপুরের পুলিশ সুপারের কাছে বিষয়টি জানানো হলে মেসের এক কর্মচারী শাকিলকে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি চুরির কথা স্বীকার করেন এবং টাকা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে ইউনুসের দেওয়া টাকা ফেরত দেওয়া হয়।ঘটনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন ইউনুস। পুলিশের ভয়ে পরিবারটি প্রথমে কোনো অভিযোগ করেনি বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি চাপা দিতে কর্মসংস্থানের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। তবে ভুক্তভোগী পরিবার এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছে।পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. স্বাধীন হাওলাদার জানান, ইউনুসের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং আগুনে দগ্ধ হওয়ার আলামত পাওয়া গেছে। তার অবস্থা বিবেচনায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।ইউনুসের ভাই আনিসুর রহমান বলেন, ‘একজন অপরাধীকেও এভাবে নির্যাতন করা হয় না। আমার ভাইকে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিবি পুলিশের ওসি আরিফুল ইসলাম বলেন, তিনি ছুটিতে রয়েছেন। তিনি সরাসরি নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, ‘রিপন’ নামে এক সোর্স রান্নাঘরে নিয়ে মোমের ঘটনা ঘটিয়েছে। এ ঘটনায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।এ বিষয়ে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।