কিছুটা এগিয়ে গেলেই সেন্ট হেলেনস কার্ক গির্জা। ২৩৮ বছর আগে হাটন যখন এখানে এসেছিলেন, তখনই লাল বেলেপাথরে নির্মিত গির্জাটি প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় ছিল। গির্জাটির চারপাশে রয়েছে গ্রেওয়াকি দিয়ে তৈরি ডাইক (পাথরের উঁচু দেয়াল)। গ্রেওয়াকি হলো গাঢ় রঙের শক্ত ধরনের বেলেপাথর, পুরো উপকূলে এ ধরনের বেলেপাথর দেখতে পাওয়া যায়।আরও সামনে এগোতে থাকলে একটি খাঁজকাটা পাথরের ডাইক লেখককে একটি বেঞ্চের কাছে নিয়ে যায়। ওই বেঞ্চে বসে স্কটল্যান্ডের পূর্ব উপকূলের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করা যায়। স্কটল্যান্ডের পশ্চিম উপকূলের তুলনায় পূর্ব উপকূলের প্রাকৃতিক দৃশ্য অনেক কোমল। কারণ, পশ্চিম উপকূলটি আটলান্টিক মহাসাগরের পূর্ণ শক্তির আঘাতে গড়ে উঠেছে।উপকূল বরাবর তাকালে দেখা যায়, ঢেউখেলানো সবুজ পাহাড় ও কৃষিজমি বর্ডারল্যান্ডের খাড়া উপকূলের দিকে নিচে নেমে গেছে। সেখান থেকে খাড়া ঢাল নেমে গেছে সোনালি সৈকত ও নির্জন ছোট ছোট উপসাগরে। দেয়ালে বসানো একটি ইটে খোদাই করা হাটনের একটি উক্তিতে লেখা রয়েছে, ‘প্রকৃতির মধ্যে প্রজ্ঞা, শৃঙ্খলা ও ধারাবাহিকতা রয়েছে।’
সিকার পয়েন্টের দিকে তাকিয়ে আমি বিশালতার অনুভূতি পাই। কয়েক শ মিলিয়ন বছর পুরোনো শিলার ওপর, একটি প্রাচীন পর্বতমালার অবশিষ্টাংশের ওপর দাঁড়িয়ে আছি। কেন এই ভূদৃশ্য বিজ্ঞানের অন্যতম বড় অগ্রগতির অনুপ্রেরণা হয়েছিল, তা সহজেই বোঝা যায়
-
*স্টুয়ার্ট কেনি, লেখক ও সাংবাদিক* হাটন তাঁর গবেষণায় পর্যবেক্ষণনির্ভর পদ্ধতি অনুসরণ করেছিলেন, যা সে সময় অস্বাভাবিক ছিল। তিনি কাছাকাছি থাকা তাঁর দুটি খামারকে কর্মশালাভিত্তিক গবেষণাগারে পরিণত করেন এবং কীভাবে ধীরে ধীরে চক্রাকারে মাটি ক্ষয় হয় এবং আবার পুনর্গঠিত হয়, তা পর্যবেক্ষণ করতেন।হাটন স্কটল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে শিলার নমুনাও সংগ্রহ করেছিলেন। আইল অব অ্যারান এবং কাছের জেডবার্গে হাটন আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ‘আনকনফরমিটির’ সন্ধান পান। তবে সিকার পয়েন্টই হয়ে ওঠে তাঁর তত্ত্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
*সিকার পয়েন্ট বেয়ে ওঠা*জুন মাসের এক রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে সাংবাদিক স্টুয়ার্ট কেনি সিকার পয়েন্টে যান। ঝলমলে নীল আকাশের নিচে দিগন্তজুড়ে বিস্তৃত সূর্যালোকের পটভূমিতে দাঁড়িয়ে আছে স্থানটি। তীরে আছড়ে পড়া ঢেউয়ের ওপর দিয়ে ভেসে আসছে স্কাইলার্ক ও সুইফট পাখির ডাক। খাড়া উপকূলের চূড়ায় দাঁড়িয়ে কেনির মনে হয়, যেন তিনি এমন এক সীমারেখায় এসে পৌঁছেছেন, যেখানে জলরাশি মিলেছে শিলার সঙ্গে, আর শিলা মিলেছে মানুষের উপলব্ধির সঙ্গে।ট্রেইলের শেষ দিকে রয়েছে আকর্ষণীয় অর্ধবৃত্তাকার একটি দর্শনস্থল। সেখান থেকে নিচের শিলাগুলো দেখা যায়। সেখানে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, কীভাবে সেগুলো পৃথিবী সম্পর্কে মানুষের ধারণা বদলে দিয়েছে।
- কিছুটা এগিয়ে গেলেই সেন্ট হেলেনস কার্ক গির্জা। লাল বেলেপাথরে নির্মিত গির্জাটি ২৩৮ বছর আগে হাটন যখন এখানে এসেছিলেন, তখনই প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় ছিল। গির্জাটির চারপাশে রয়েছে গ্রেওয়াকি দিয়ে তৈরি ডাইক (পাথরের উঁচু দেয়াল)। গ্রেওয়াকি হলো গাঢ় রঙের শক্ত ধরনের বেলেপাথর, পুরো উপকূলে এ ধরনের বেলেপাথর দেখতে পাওয়া যায়।প্রকৃতপক্ষে আমরা এখন জানি, গ্রেওয়াকি শিলাগুলো সাড়ে ৪৩ কোটি বছর আগে একটি প্রাচীন মহাসাগরের তলদেশে তৈরি হয়েছিল।
হাটনের তত্ত্ব অনুযায়ী, ধীরে ধীরে ভূগাঠনিক প্লেটগুলোর একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষ হওয়ার পর এবং সেই মহাসাগর বিলীন হয়ে যাওয়ার সময় এগুলো ওপরের দিকে উঠে একটি পর্বতমালা তৈরি করেছিল। বর্তমানে যা অবশিষ্ট রয়েছে, তা হলো সেই পর্বতমালার ক্ষয়প্রাপ্ত অংশ। ওপরের বেলেপাথর তৈরি হয়েছিল আরও সাড়ে ছয় কোটি বছর পরে, যখন বর্তমান স্কটল্যান্ড নিরক্ষরেখার দক্ষিণে অবস্থিত ছিল।*ভূতত্ত্বকে সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া*ডিপ টাইম ট্রেইলের একটি লক্ষ্য হলো সিকার পয়েন্টকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজে পৌঁছানোর উপযোগী করে তোলা। ভূতত্ত্ববিদদের জন্য এটি আন্তর্জাতিক তীর্থস্থান হলেও এত দিন এটি বেশির ভাগ পর্যটকের নজরের বাইরেই রয়ে গিয়েছিল। এমনকি স্কটল্যান্ডের পর্যটকেরাও সিকার পয়েন্টে খুব একটা যেতেন না।

