1. admin@jagratakhobor.com : admin-ferdous :
বরিশাল ভোলা ৬ লেন প্রকল্প: ঘুষ ছাড়া মেলে না জমি অধিগ্রহণের টাকা - জাগ্রত খবর - jagrata Khobor
১২ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ২৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| গ্রীষ্মকাল| শুক্রবার| রাত ৮:০৩|

বরিশাল ভোলা ৬ লেন প্রকল্প: ঘুষ ছাড়া মেলে না জমি অধিগ্রহণের টাকা

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশিত সময় সোমবার, ১১ আগস্ট, ২০২৫
  • ৫৩৭ বার পড়েছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক::বরিশাল ভোলা মহাসড়ক ৬ লেন প্রকল্পে কাজ চলছে দ্রুতগতিতে সমাপ্ত করা হয়েছে। কাজের পর পাশাপাশি চলছে জমি অধিগ্রহণের কাজ। আর এই সুযোগে দালাল ও কুচক্রি মহলের তদবীর ছাড়া মেলে না অধিগ্রহণ করা জমি ও স্থাপনার ক্ষতিপূরণের অর্থ। স্থাপনা ও জমির মূল্য পেতে দিতে হয় ১০ থেকে ৩০ শতাংশ হারে ঘুষ। ঘুষের ওই অর্থ না দিলে পাওয়া যায়না অধিগ্রহণের অর্থ। এমনকি শুরুতে অধিগ্রহণকৃত জমির তালিকা প্রণয়নের সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাথে যোগাযোগ না করলে ও উৎখোচ না দিলে অনেক ক্ষতিগ্রস্থদের ভাগ্যে মেলে না অধিগ্রণকৃত জমি ও স্থাপনার ন্যায্য মূল্য। এসব কারনে বরিশাল ভোলা মহাসড়ক ছয় লেন প্রকল্পে জমি ও স্থাপনা পড়েছে এমন ক্ষতিগ্রস্থদের নাম ও জমি অধিগ্রহণ তালিকায়ও লিপিবদ্ধ হয়নি। সদর উপজেলার চরকাউয়া, চাদপুরা, টুঙ্গিবাড়িয়া ইউনিয়নের বরিশাল ভোলা মহাসড়কের কুন্ডবাড়ি বাসষ্ট্যান্ড এলাকার একাধিক ক্ষতিগ্রস্থ ভূমি মালিক এরকম অভিযোগ করেন। তাদের অভিযোগ ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কানুনগো,সার্ভেয়ার ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা এসব স্বেচ্ছাসারিতা ও অনিয়মের সাথে জড়িত ছিলেন। তাদের সেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের কারনে অধিগ্রহণকৃত ভূমি ও স্থাপনার ন্যায্যমূল্য না পেয়ে সর্বশান্ত হচ্ছেন তারা। ভুক্তভুগীরা জানান, তাদেরকে অধিগ্রহণ করা জমির ক্ষতিপূরণের অর্থ ছাড় করাতে দিতে হচ্ছে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ হারে ঘুষ। এমনকি তাদের কথামত ক্ষতিগ্রস্থরা উল্লেখিত হারে ঘুষের পরিমান দিতে চুক্তিবদ্ধ হলে জমি ও স্থাপনার দাম দরের হয় বেশ পার্থক্য।জানা যায়,বরিশাল – ভোলা মহাসড়কের ছয় লেন প্রকল্পের জন্য বরিশাল সদর উপজেলায় ১৮ কিলোমিটার অংশে অধিগ্রহণ করা হচ্ছে একর একর জমি। এর মধ্যে বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া, চাদপুরা, টুঙ্গিবাড়িয়াসহ বেশ কিছু এলাকা জমি ও স্থাপনা অধিগ্রহণের আওতাধীন। এসব এলাকার মধ্যে শুধু উপজেলার চরকাউয়া বাসষ্ট্যান্ড সহ দুর্গাপুর বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় মহাসড়ক সম্প্রসারণ আওতাধীন প্রায় কয়েকশ বাসিন্দাদের জমি, স্থাপনা ও বাসষ্ট্যান্ড এলাকার দোকানপাঠ অধিগ্রহণরে আওতায় পড়েছে।ক্ষতিগ্রস্থদের অভিযোগ,বরিশাল জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কানুনগো জমিতে থাকা গাছপালা দোকানপাঠ ও স্থাপনা লিপিবদ্ধ করে নিয়ে যায়। পরে তাদের কাছে অধিগ্রহণের টাকা উত্তোলনের জন্য শতকরা ১০ থেকে ৩০ শতাংশ হারে ঘুষ দাবি করেন।চরকাউয়া কুন্ডবাড়ি বাসষ্ট্যান্ড এলাকার আঃ ওহাব হাংর স্ত্রী রিনা বেগম বলেন, বরিশাল ভোলা মহাসড়কে আমার ১৩ শতাংশ জমি পড়েছে। উল্লেখিত জায়গার মধ্যে আমার ওয়াল করা দিয়ে একটি বিল্ডিং করেছি যা বর্তমানে কমপ্লিট আছে। জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের এল এ শাখার জামাল ও হালিম আমার কাছে বলেছে তাকে ২০% ঘুষ দিলে আমার জায়গা সুন্দর করে ন্যায্যমূল্য দিয়ে দিবে। কিন্তু আমি তার কথামত তাকে ঘুষের টাকা না দেয়ায় সে বিল একেবারে পাশ করেনি। আমার এর তথ্য ও ক্ষতিপূরণের অর্থ পাশই করে নাই।আমাকে বলে আপনার জমি সড়কে পরে নাই । অতচ ৬/০৮/২০২৩ ইং তারিখ এল এ ০৭/২০২২-২৩নং কেচের ১১৬৮ নোটিশ জারি করেছে । ২১ তারিখ ৪৩৮২ নাম্বারে নোটিশ জারি করেন এবং ২১/০৩/২০২৪ ইং তারিখ ৪৩২৭ নং কেচে নোটিশ জারি করেন । শুধু জায়গা ও অন্যান্য স্থাপনা বাবদ আমার  একটি টাকাও পাশ করেনি রিনা বেগমের। অথচ বরিশাল ভোলা মহাসড়কের আমার জায়গার বর্তমান মূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা।আমি যদি তাকে ২০% হারে ঘুষ দিতে পারতাম তাহলে আমার তিন কোটি টাকার বিলই পাশ করতো সে। এ ব্যাপারে আমি ন্যায্যমূল্য পাবার জন্য কোর্টে মামলা দায়ের করবো বলে জানান রিনা বেগম।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দিনারপোল এলাকার আরেকজন ভুক্তভোগী জানান, কানুনগো শাখার এল এ শাখায় কয়েকজনকে চাহিদা মতো ঘুষের টাকা না দেয়ায় আমার জমি অধিগ্রহণ তালিকায় লিপিবদ্ধ করেনি।এ সকল অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কানুনগো জানান, দালালরা কাজ নিয়ে আসলে তাদের কাজ কিছু হলেও করে দিতে হয়। আমার নিজেরতো সেফটির বিষয় আছে। এই অফিসের ভিতরে আমি অফিসার। অফিসের বাইরে তো আর আমি অফিসার না।এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে জেলা প্রশাসনের এল এ শাখার প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অধিগ্রহনের পর থেকে এল এ শাখার অনেকে পকেট ভারী করে নিয়েছেন ।এই চাকরি করে এতো অর্থ সম্পদের মালিক হলেন কিভাবে জানতে চাইলে এল এ শাখার একজন সার্বেয়ার জানান,বাড়ি আমার বাবা কিনেছে। এসব বিষয়ে আমার বাবার সাথে কথা বলতে হবে। এগুলো পারিবারিক বিষয় বলে এড়িয়ে যান তিনি। বিলের অর্থ ছাড় করাতে ঘুষের বিষরেয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব আমার দায়িত্ব না। আমার কোন সাইন স্বাক্ষর নাই কোথাও। এসব বিষয়ে আমি কথা বলতে চাইনা।ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার জানান, জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে পার্সেন্টেজ রাখার কোন নিয়ম নাই। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিয়ে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

 

 

নিউজটি ফেসবুকে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
রমজান সময়সূচি

আজ ৩০ রমজান

সেহরির শেষ: --

ইফতার শুরু: --

.

Developed by Barishal Host

© All rights reserved © 2025 Jagratakhobor.com