1. admin@jagratakhobor.com : admin-ferdous :
কেরানীগঞ্জে মা-মেয়েকে হত্যার পর ২১ দিন লাশের সঙ্গে বসবাস - জাগ্রত খবর - jagrata Khobor
২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| গ্রীষ্মকাল| বুধবার| রাত ১:১১|
শিরোনামঃ
চরফ্যাশনে ছোট ভাইকে জিম্মি করে অলিখিত ষ্ট্যাম্পে সাক্ষর নিয়েছে বড় ভাইগন,আদালতে মামলা!  মির্জাগঞ্জে বিরোধ মেটাতে গিয়ে শিশু-নারীদের পেটালো বিএনপি নেতা বরিশালে পুলিশের রেশনের চাল বিক্রির সময় গাড়ি আটকে দিল জনতা যুদ্ধ পুঁজি করে সক্রিয় সিন্ডিকেট সংসদের কেনাকাটায় হরিলুট তেল নিয়ে তেলেসমাতি ► পাম্পের বাইরে বিক্রি হচ্ছে লাইনের সিরিয়াল ► অনলাইন ও খোলাবাজারে অকটেন ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা ► চলছে পাচার পিরোজপুরে নিজের বাল্যবিবাহ ঠেকাতে থানায় এসএসসি পরীক্ষার্থী পাথরঘাটায় জমির বিরোধে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর, আহত ৭ ইসরালই-যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে রাজপথে অস্ত্র হাতে ইরানি নারীরা ট্রাম্পের সব দাবিই ভি*ত্তি*হী*ন : ইরান

কেরানীগঞ্জে মা-মেয়েকে হত্যার পর ২১ দিন লাশের সঙ্গে বসবাস

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশিত সময় শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ১০০ বার পড়েছেন
কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি::কেরানীগঞ্জে শিক্ষিকার বাসা থেকে শিক্ষার্থী জোবাইদা রহমান ফাতেমা (১৪) ও তার মা রোকেয়া রহমানের (৩২) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদেরকে ২১ দিন আগে হত্যা করে বাসায় লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বলে জানা গেছে।বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মা-মেয়ের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় শিক্ষিকা মীম আক্তার (২৪) ও তার আপন ছোট বোন নুসরাত জাহানকে (১৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।গত ২৫ ডিসেম্বর বিকালে ওই বাসায় প্রাইভেট পরতে যায় সদ্য নবম শ্রেণিতে উঠা ফাতেমা। পরে তাকে খুঁজতে সেখানে যান ফাতেমার মা রোকেয়া। এরপর দুজনই নিখোঁজ হন।কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম জানান, ওই দিনই (২৫ ডিসেম্বর) প্রথমে মেয়েকে, তারপর মাকে হত্যা করে শিক্ষিকা ও তার বোন নুসরাত। এরপর ফ্ল্যাটের একটি রুমের খাটের নিচে মায়ের লাশ ও বাথরুমের ফলস ছাদের ভেতর মেয়ের লাশ লুকিয়ে রাখে। লাশ উদ্ধারের আগ পর্যন্ত তারা ওই ফ্ল্যাটে স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন। এই অবস্থায় গত ৬ জানুয়ারি শিক্ষিকার ৩ বছরের ছেলের জন্মদিন পালন করতে সপরিবারে তারা ফরিদপুরের ভাঙ্গায় নানাবাড়িতে যায়। ১০ জানুয়ারি তারা আবার কেরানীগঞ্জে ফিরে আসে।শিক্ষিকার স্বামী রংয়ের ডিলারের ব্যবসা করেন। তিনি ঘরে গন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে স্ত্রী বলতেন, বাইরের কুকুর মরে পড়ে আছে, সেই গন্ধ আসে। গন্ধে বিরক্ত হয়ে স্বামী বৃহস্পতিবার ঘর খোঁজ করতে থাকেন। ফ্ল্যাটটিতে ৩টি কক্ষ রয়েছে। এক পর্যায়ে একটি কক্ষের খাটের নিচে তিনি লাশ দেখতে পেয়ে চিৎকার করে বেরিয়ে আসেন। তখন বিষয়টি জানাজানি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।জানা যায়, এইচএসসি পাশ ওই শিক্ষিকা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক জব করতেন না। বাসায় থেকে প্রাইভেট পড়াতেন।ওসি জানান, শিক্ষিকার প্রতিবেশী ছিলেন ভিকটিম রোকেয়া। তারা পূর্ব পরিচিত। শিক্ষিকা একটি এনজিও থেকে দেড় লাখ টাকা কিস্তি তুলেছিলেন। এই ঋণের জামিনদার (গ্রান্টার) ছিলেন রোকেয়া। কিন্তু সময়মতো কিস্তির টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হন শিক্ষিকা। এনজিও কিস্তির টাকা না পেয়ে জামিনদার রোকেয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এ নিয়ে রোকেয়া ও শিক্ষিকার মধ্যে চরম বাকবিতণ্ডা হয়। শিক্ষিকার সঙ্গে তার আপন ছোট দুই বোনও থাকতো। ছোট দুই বোনের একজন নুসরাত (১৫)। বোনকে (শিক্ষিকাকে) গালিগালাজ ও অপমান করায় সে রোকেয়ার ওপর প্রচন্ড ক্ষুব্ধ ছিল।তিনি আরও জানান, ঘটনার দিন (২৫ ডিসেম্বর) বিকাল সোয়া ৫টার দিকে রোকেয়ার মেয়ে ফাতেমা প্রাইভেট পড়তে ওই বাসায় গেলে নুসরাতের সঙ্গে ফাতেমার কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে নুসরাত ফাতেমার গলা চেপে হত্যা করে। ফাতেমাকে হত্যার পর শিক্ষিকার বুদ্ধিতে ফাতেমার জামা খুলে সেগুলো নুসরাত পরিধান করে বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। বাড়িতে দুটো সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। সিসিটিভি ফাঁকি দিতে নুসরাত ফাতেমার পোশাক পরে বেরিয়ে যায়। যাতে পরবর্তীতে কেউ সিসিটিভি চেক করলে বুঝতে পারে ফাতেমা শিক্ষিকার বাসা থেকে বেরিয়ে গেছে। এর দুই ঘণ্টা পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রোকেয়াকে শিক্ষিকা ফোন করে। তার মেয়ে ফাতেমা অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে জানায়। তাকে নিয়ে যেতে বলে। ফোন পেয়ে রোকেয়া শিক্ষিকার ফ্ল্যাটে ঢুকলে তাকে পেছন থেকে গলায় ওড়না পেচিয়ে ধরে নুসরাত। এ সময় শিক্ষিকা মীম তাকে ধাক্কা দিয়ে মেঝেতে ফেলে দেন। এরপর দুই বোন মিলে গলায় ওড়না পেচিয়ে শ্বাসরোধে রোকেয়াকে হত্যা করে। মেয়ে ফাতেমার ওজন কম হওয়াতে তাকে দুজন তুলে বাথরুমের ফলস ছাদের ভেতর আর মা রোকেয়ার লাশ বক্স খাটের ভেতর লুকিয়ে রাখে।এদিকে এ ঘটনার তদন্তে পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার। মা-মেয়ে নিখোঁজ হয় ২৫ ডিসেম্বর। ২৭ ডিসেম্বর স্ত্রী ও মেয়ের নিখোঁজের বিষয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন রোকেয়ার স্বামী শাহীন আহমেদ।  এতেও কোনো কাজ না হওয়ায় গত ৬ জানুয়ারি তিনি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি পুরো ঘটনা উল্লেখ করলেও পুলিশ লাশ উদ্ধারের আগ পর্যন্ত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেনি।মামলার বাদী শাহীন আহমেদ পেশায় আইনজীবীর সহকারী (মুহুরি)। তিনি অভিযোগ করেন, আমি বারবার বলার পরও পুলিশ ওই ফ্ল্যাট সার্চ করতে যায়নি। এমনকি সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইল কললিস্ট বিশ্লেষণ করেনি। এগুলো করলে হয়তো ওদের জীবিত পেতাম না। কিন্তু লাশটা অনেক আগেই পেতাম। ওরা যখন পঁচে-গলে গেছে তারপর আমরা ওদের হত্যা ও গুমের বিষয়টি জানতে পারি। তিনি ঘাতকদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতার দুজনই হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছে। শুক্রবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। আসামি নুসরাতের বয়স ১৫ বছর (নাবালিকা)। তাকে গাজীপুরের কোনাবাড়িতে ‘শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে’ পাঠানো হবে।

নিউজটি ফেসবুকে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
রমজান সময়সূচি

আজ ৩০ রমজান

সেহরির শেষ: --

ইফতার শুরু: --

.

Developed by Barishal Host

© All rights reserved © 2025 Jagratakhobor.com