1. admin@jagratakhobor.com : admin-ferdous :
ঘুষ-কমিশন বাণিজ্যঃ বিতর্কে বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আল ইমরান - জাগ্রত খবর - jagrata Khobor
৩রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| গ্রীষ্মকাল| বুধবার| সন্ধ্যা ৭:৩৪|

ঘুষ-কমিশন বাণিজ্যঃ বিতর্কে বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আল ইমরান

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশিত সময় মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬
  • ৭৩ বার পড়েছেন
মোঃ ফেরদাউস:: চলমান ও সম্পন্ন হওয়া বিভিন্ন রাস্তা ও ব্রিজের বিল ঘুস না পেলে আটকে রাখা,ঠিকাদারদের জরিমানা মওকুফের নাম ১০ থেকে ২০ লাখ টকা ঘুস দাবী,ঘুষ আদায়কারী অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মোঃ এনামুল হকের বদলী আদেশ আটকে রাখা,এলজিইডির বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর আদেশ না মানা,ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ দেয়ার সাথে শতকরা ১ ভাগ কমিশন আদায় করা,রিভাইস স্কিম অনিমোদনে চাহিদা অনুযায়ী কমিশন নেয়া ও বিল প্রদানের ক্ষেত্রে শতকরা ২ থেকে ৩ ভাগ কমিশন আদায়সহ অসংখ্য অভিযোগ। দুর্নীতি ও ঘুসসহ বিভিন্ন অভিযোগে সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে এলজিইডি। ঢাকা থেকে ঐ তদন্তকারী কর্মকর্তা বরিশালে এসে তদন্ত শুরু করলে তাকে ঘুস দিয়ে তার পক্ষে রিপোর্ট প্রদানের জন্য ব্যাপক তদবীর করেন।তার দুর্নীতি, অনিয়ম, ঘুসকান্ডসহ বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য নেতিবাচক রিপোর্ট প্রদান করেছেন।যার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ তিনি হলেন,বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান।তবে সকল অভিযোগ অস্বিকার করে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান বলেন, আমি আমার কার্যালয়কে পরিস্কার করতেছি।তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর আদেশ প্রসঙ্গে বলেন,আমি ঢাকায় কথা বলে কাজ করছি।অভিযোগের কেন্দ্রে ‘কমিশন বাণিজ্য’ : রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহারবরিশাল এলজিইডিতে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর মোহাম্মদ আল ইমরান যোগদান করেন।যোগদানের পরেই বিতর্ক যেন তার পিছু না ছাড়ে। যোগদানের পরেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের বিপরীতে প্রদেয় পিসি – কমিশন বাণিজ্যের কারনে প্রথমেই সমালোচিত হোন। নিজের দাপট দেখাতে তিনি লক্ষ্মীপুর -৩ আসনের এমপি ও পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির আত্মীয় পরিচয় দেয়া শুরু করেন।খোজ নিয়ে জানা গেছে মোহাম্মদ আল ইমরান পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির কোন আত্মীয় নন এমন কি কোন সম্পর্কও নেই।তিনি মোহাম্মদ আল ইমরানকে চিনেনও না।তবে মোহাম্মদ আল ইমরান কার্য্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগের সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের একজন অনুসারী।তার বাড়ি কিশোরগঞ্জে।ঘুষ সংগ্রাহক’ হিসেবে এনামুল হক !বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান যোগদান করেই অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মোঃ এনামুল হককে অনৈতিক পথে ঘুষ গ্রহন ও ঘুস সংগ্রহ এবং সমস্যা সমাধানের জন্য নিয়োগ করেন।বিল ও কার্যদেশের ব্যাপারেও এনামুল হকের সাথে আগেভাগেই ঠিকাদারদের যোগাযোগ করতে হয়।এনামুলের গ্রীন সিগনাল ছাড়া নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান কোন ফাইলে স্বাক্ষর করেন না।চলতি বছরের মার্চ মাসে সকল ঠিকাদার ক্ষুব্ধ হন এনামুলকে দিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর ঘুস আদায়ের বিরুদ্ধে।এমনকি ঠিকাদাররা নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরানের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করার উদ্যোগ গ্রহন করেন।পরে ঠিকাদারদের সাথে সমঝোতা করেন নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান।এনামুলকে বদলী,তিনদিন পর জানলেন নির্বাহী প্রকৌশলী: বদলি আদেশ নিয়েও বিতর্ক অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মোঃ এনামুল হকের বিরুদ্ধে নির্বাহী প্রকৌশলীর অনৈতিক সুবিধা আদায়কারী প্রমানিত হওয়ার পরেই গত ১৪ মে এলজিইডির বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শরীফ মোঃ জামাল উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এনামুল হককে পিরোজপুর উপজেলার কাউখালী উপজেলা এলজিইডিতে এবং অপর এক অফিস আদেশে বরিশাল সদর উপজেলা এলজিইডি থেকে নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে রেহেনা আখতারকে বদলী করা হয়।আদেশগুলোতে উল্লেখ করা হয়,১৯ মে তারিখ হতে ষ্ট্যান্ড রিলিজ হিসেবে গণ্য হবে।নির্বাহী প্রকৌশলীর অফিস ও বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর অফিস একই দেয়ালে ঘেরা।দুরত্ব একশত হাতেরও কম।তবুও ১৪ মে তারিখের আদেশ নির্বাহী প্রকৌশলী পেলেন ১৭ মে। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর অফিস আদেশ পেয়েও এনামুল হককে ছাড়তে নারাজ নির্বাহী প্রকৌশলী। এ ব্যাপারে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান বলেন,আমি ঢাকায় কথা বলেছি।আমার অফিসের ব্যাপার বাইরে কেন।তবে তিনি বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর আদেশকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য’র সুরে বলেন,আমার অফিসের ব্যাপারে আমি সিদ্ধান্ত নিব।আমি ঢাকায় কথা বলেছি।ঢাকা যে সিদ্ধান্ত দিবে তা পালন করবো।কারন হিসেবে জানা গেছে,মোহাম্মদ আল ইমরান এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া তিনি সাবেক বিতর্কিত প্রধান প্রকৌশলী জাবেদ করিমের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর আদেশ পালনে ইচ্ছুক নন।তিনি বলেন রেহেনা আখতার এখানে আসতে চান না। রেহেনা আখতার জানালেন কে বলেছে আমি যেতে চাইনা। আমিতো নির্বাহী প্রকৌশলী স্যারকে বলিনি যে আমি নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে যোগদান করবোনা। এ ব্যাপারে এলজিইডির বরিশাল সদর উপজেলা প্রকৌশলী সৈয়দ মাইনুল মাহমুদ বলেন, রেহেনা আখতারকে আলাদা ছাড়পত্র দেয়ার কিছু নাই।তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর আদেশই যথেষ্ট।জরিমানার অর্থ মওকুফের নামে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা-এ দিকে নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের থেকে জরিমানার অর্থ মওকুফের নামে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে। প্রতি বিল থেকে শতকরা ২ থেকে ৩ পারসেন্ট ঘুসের ব্যাপারে ঠিকাদররা ক্ষুব্ধ।কমিশন আদায়ের অভিজ্ঞ নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান -নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান এলজিইডি র প্রধান কার্যালয় সারাদেশে খাল-পুকুর প্রকল্পের উপ- প্রকল্প পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন।তিনি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের রাষ্ট্রপতির জেলা কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা।এ কারণে প্রধান কার্যালয়ের উক্ত প্রকল্পে তার প্রভাব ছিল অপ্রতিরোধ্য।তৎকালীন সময়ে প্রকল্পের স্কিম গ্রহণ,অনুমোদন এবং রিভাইজ ও অর্থছারের কমিশন বাণিজ্যে ছিল হস্ত সিদ্ধ।পরবর্তীতে সাবেক অভিযুক্ত প্রধান প্রকৌশলী জাবেদ করিম দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপদেষ্টা কে ম্যানেজ করে বরিশাল জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর পথটি ভাগিয়ে নেন। অভিযোগ জানা গেছে, জেলা পর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা না থাকলেও স্থানীয় ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন আদায়ের যথেষ্ট অভিজ্ঞ।রিভাইস স্কিম অনুমোদনে ২ থেকে ৩ পারসেন্ট কমিশন-এছাড়া রিভাইস স্কিম অনুমোদনে চাহিদা অনুযায়ী কমিশন নেয়া ও বিল প্রদানের ক্ষেত্রেও ২ থেকে ৩ পারসেন্ট কমিশনের দাবি পূরণের বিষয়টি ঠিকাদারদের কাছে অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছে গেছেন। নির্বাহী প্রকৌশলীর এই অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা বিব্রত ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।নির্বাহী প্রকৌশলীদের ফিল্ড পর্যায়ে কাজ পরিদর্শনের রীতি থাকলেও তিনি দপ্তরে বসেই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন।ঠিকাদারদের কাছ থেকে অধীনস্থ প্রকৌশলীর মাধ্যমে কমিশন আদায় চাপ প্রয়োগ করার কারণে নির্বাহী প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারীরা চরম ক্ষুব্ধ। নাম প্রকাশে অনুচ্ছুক এক কর্মচারী বলেন, বিগত সময় কোন নির্বাহী প্রকৌশলী এভাবে ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন আদায়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করতে না। এছাড়া কমিশনের টাকা এককভাবে নেওয়ার অভিযোগ ও রয়েছে।বিভিন্ন বাহানায় অর্থ প্রাপ্তির কৌশল-নাম প্রকাশে অনচ্ছুক এক ঠিকাদার অভিযোগ করে বলেন,একটি রিভাইস স্কিম অনুমোদনের জন্য প্রধান কার্যালয়ে প্রেরণের ক্ষেত্রে মোটা অংকের অর্থ দাবি করেছেন।যা বিগত সময়ের কোন নির্বাহী প্রকৌশলী এ অর্থ দাবি করেনি।অন্য একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক বলেন, হঠাৎ করে নির্বাহী প্রকৌশলী তার সাইট পরিদর্শনের কথা বলে সরে জমিনে পরিদর্শন পূর্বক ত্রুটির বিচ্যুতির কথা উল্লেখ করে বিভিন্ন বাহানায় অর্থ প্রাপ্তির কৌশল অবলম্বন করেন। এক্ষেত্রে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো তার অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নেয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও মানববন্ধন করার স্থির করেছেন। নির্বাহী প্রকৌশলী আল ইমরানের অনৈতিক পথে অর্থ সংগ্রহের বিষয়টি তদারকি করেন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মোঃ এনামুল হক।নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরানকে বদলী ও শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী-অভিজ্ঞজনদের মতে, জনস্বার্থে সরকারের আর্থিক সদ্ব্যবহার ও কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে অর্থলোভী ও কমিশন বাণিজ্যের হোতা বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরানকে বদলী ও শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন।নচেৎ এলজিইডি বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়সহ বিভগের সকল জেলা ও উপজেলা এলজিইডি অফিসে চেইন্ড অব কমান্ড ভেঙ্গে পড়বে। তাকে বদলী করা না হলে বরিশাল জেলায় জনদুর্ভোগ ও জনরোষ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাবে।

নিউজটি ফেসবুকে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
রমজান সময়সূচি

আজ ৩০ রমজান

সেহরির শেষ: --

ইফতার শুরু: --

.

Developed by Barishal Host

© All rights reserved © 2025 Jagratakhobor.com