ওয়েবিনারে বিশ্লেষকরা বলেন, নবনিযুক্ত অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালিলুর রহমানের অভিজ্ঞতা দেশকে এই কঠিন সময় অতিক্রমে সহায়তা করতে পারে।বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত শহীদ আখতার বলেন, নতুন সরকারে ‘জ্যেষ্ঠ ও জেনারেশন জেডের প্রতিনিধিদের ভালো সমন্বয়’ রয়েছে এবং মন্ত্রী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় মেধার প্রতিফলন দেখা গেছে।দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পরও বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্বাভাবিকীকরণ এখনও অনেক দূরের পথ। যদিও বড় ধরনের সহিংসতা ও সরবরাহ বিঘ্ন অনেকটাই কমেছে, তবু স্থানীয় আইনশৃঙ্খলার সমস্যা এবং বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে বিক্ষোভ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব ফেলছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নীতিগত অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগও মন্থর রয়েছে।তবে মুডিস ইতিবাচক দিকও উল্লেখ করেছে— ব্যাংক ও সংসদে সুশাসন জোরদার এবং বিনিময় হার আরও নমনীয় করার অগ্রগতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হতে পারে।বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে অক্সফোর্ড ইকোনোমিকস জানায়, বিএনপি বাজারমুখী অর্থনৈতিক নীতি বজায় রাখবে, যদিও বাস্তবায়নে ঝুঁকি রয়েছে।একটি বড় উদ্বেগ হলো- নভেম্বরে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উত্তরণ করবে। এর ফলে বাণিজ্য সুবিধা প্রত্যাহার হলে রফতানি আয়ে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদায় বাংলাদেশ বহু বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নমনীয় বিধি উপভোগ করেছে, যা তৈরি পোশাক খাতকে শক্তিশালী করেছে।অক্সফোর্ড ইকোনমিক্সের প্রধান অর্থনীতিবিদ আলেক্সান্দ্রা হারম্যান বলেন, মর্যাদা পরিবর্তনের পর বাংলাদেশকে ভিয়েতনাম ও ভারতের মতো দেশের সঙ্গে সরাসরি ব্যয় ও মানসম্মত প্রতিযোগিতায় নামতে হবে।পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে বিশ্লেষকরা মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে পদক্ষেপ নেবেন। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ শ্রীরাধা দত্ত বলেন, দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের পরও প্রকাশ্য বৈরিতার লক্ষণ দেখা যায়নি।ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পতন হয় ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। ওই দিন পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে। শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণে নয়াদিল্লির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা। নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।শ্রীরাধা দত্ত বলেন, তারপরও দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বাড়াতে পারে- আমাদের একসঙ্গে করার মতো অনেক কিছু আছে। মিলের জায়গাগুলোয় আমাদের এক হতে হবে।







