জাগ্রত নিউজ::বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুটিয়া ইউনিয়ন বিএনপির দুই শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহীন ও সাধারণ সম্পাদক লাভলুর বিরুদ্ধে এক আলেমকে মিথ্যা ‘জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে হেনস্তা করাসহ বিভিন্ন অপকর্মের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি এখন বিএনপির কেন্দ্রীয় হাই কমান্ডের টেবিলে পৌঁছানোয় যেকোনো মুহূর্তে তারা দলীয় পদ হারাতে পারেন বলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। বর্তমানে উজিরপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে এটিই এখন প্রধান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি মুফতি মাসুদ হাসান ফিরোজী নামক এক আলেমকে কেন্দ্র করে তাদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড চরমে পৌঁছায়। অভিযোগ রয়েছে, কাঙ্ক্ষিত মোটা অঙ্কের চাঁদা না পেয়ে ওই আলেমকে দমানোর জন্য তাকে ‘জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে এলাকায় নানাভাবে হেনস্তা করা হয়।দলীয় একটি বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, গুটিয়া ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের এই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সার্বিক চিত্র, নথিপত্র এবং ভুক্তভোগীদের অভিযোগের খতিয়ান ইতিমধ্যেই বিএনপির হাই কমান্ডের কাছে জমা পড়েছে। ৫ আগস্টের পর দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী যেকোনো নেতার বিরুদ্ধে দলের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে এই দুই নেতার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।দলীয় এক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দলে কোনো চাঁদাবাজ, আলেম সমাজকে হেনস্তাকারী কিংবা অনৈতিক কাজে জড়িত ব্যক্তির স্থান হবে না। গুটিয়ার দুই নেতার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। দল বিষয়টিকে কঠোরভাবে দেখছে।এদিকে গুটিয়ে বিএনপির সভাপতি শাহীন ও সেক্রেটারি লাভলুর পদ হারানোর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর উজিরপুর ও গুটিয়া ইউনিয়ন বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের দাবি, এদের মতো বিতর্কিত নেতাদের কারণে দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন এবং দলের বদনাম হচ্ছিল।যেকোনো সময় কেন্দ্র বা জেলা কমিটি থেকে তাদের দল থেকে অব্যাহতি বা বহিষ্কারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে-এমন গুঞ্জনে এখন উত্তাল উজিরপুরের রাজপথ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দুই নেতার বিদায় এখন শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র।