জানা গেছে, আগামী নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে সর্বোচ্চ শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াত। তারা ইসলামী দলগুলোকে পাশে চায় এবং ইসলামপন্থি ভোটারদের একত্রিত করার চেষ্টা করছে। সমাবেশ থেকে নির্বাচনসংক্রান্ত অবস্থান, বিচার ও সংস্কার প্রশ্নে বার্তা দেওয়া হতে পারে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
গণ-অভ্যুত্থানের পর জামায়াত অনেকটা সক্রিয় ভূমিকায় রয়েছে। তারা এরই মধ্যে দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লাসহ নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন ফিরে পেয়েছে। এবার তাদের লক্ষ্য নির্বাচনে শক্তি প্রদর্শন।৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের পর এটি হবে জামায়াতের সবচেয়ে বড় জনসমাবেশ। রাজনৈতিক মহলে এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। কেউ কেউ এটিকে নির্বাচনপূর্ব কৌশলগত অবস্থান হিসেবেও দেখছেন। জামায়াত বলছে, এটি শুধু দলীয় সমাবেশ নয়, বরং দেশের সাধারণ মানুষের ন্যায্য দাবির প্রতিচ্ছবি।দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ সমাবেশ হবে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জমায়েত। এজন্য ট্রেন ও লঞ্চ বাদ দিয়ে ভাড়া করা হয়েছে প্রায় ১০ হাজার বাস। সমাবেশে ১০ লাখের বেশি নেতাকর্মী উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে থাকবেন ৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক।সমাবেশস্থলে থাকবে ১৫টি মেডিকেল বুথ, ১৫টি পার্কিং স্পট এবং সমাবেশ বাস্তবায়নে গঠিত হয়েছে ৮টি উপ-কমিটি।শনিবার বেলা ২টায় মূল সমাবেশ শুরু হবে। তবে সকাল ১০টা থেকে জামায়াতের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলবে। সমাবেশে উপস্থিত থাকবেন বিভিন্ন ইসলামী দল ও রাজনৈতিক দলের নেতা, জুলাই শহীদ পরিবার এবং আহত ব্যক্তিরা।সমাবেশকে ঘিরে রাজধানীতে সম্ভাব্য যানজট বা ভোগান্তির জন্য নগরবাসীর কাছে আগাম দুঃখপ্রকাশ করেছে জামায়াত এবং এটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখতে অনুরোধ জানিয়েছে।
জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আমরা ঐতিহাসিক জমায়েত করতে চাই সোহরাওয়ার্দীতে। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করার জন্য যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দরকার, তা নিশ্চিত করতে হবে। জুলাই গণহত্যার বিচার দ্রুত শেষ করতে হবে। যেন এ বিচার নির্বাচনের আগে দৃশ্যমান হয়। কোনো ষড়যন্ত্র যেন এই সংস্কার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে না পারে।জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এককভাবে জামায়াতের এটাই প্রথম জনসভা। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড, সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতি এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জনমত গঠন করাই আমাদের লক্ষ্য।


