1. admin@jagratakhobor.com : admin-ferdous :
নলছিটিতে শিক্ষক ও সাংবাদিক মিলন কান্তি কর্তৃক মুসলিম হিন্দু ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত প্রমাণিত বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ - জাগ্রত খবর - jagrata Khobor
১২ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ২৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| গ্রীষ্মকাল| শুক্রবার| বিকাল ৫:৪৫|

নলছিটিতে শিক্ষক ও সাংবাদিক মিলন কান্তি কর্তৃক মুসলিম হিন্দু ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত প্রমাণিত বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশিত সময় মঙ্গলবার, ১২ আগস্ট, ২০২৫
  • ১০২ বার পড়েছেন

ঝালকাঠি প্রতিনিধি::নামাজ শারীরিক ব্যায়াম,জান্নাত,জাহান্নাম ও ফেরেশতা বলতে কিছু নেই। এগুলো স্বপ্নে দেখা। দেব-দেবীও বলতে কিছু নেই। এগুলোও স্বপ্নে দেখা। মুহাম্মদ(স:) এর মা,বাবা ও দাদা ইহুদি ছিলেন। পৃথিবীর এক কোটিরও বেশি মানুষ ধর্ম পালন করে না,কিন্তু তারাও সত্য কথা বলে। ধর্ম বলতে কিছু নেই” একথাগুলো ঝালকাঠি জেলার নলছিটি গার্লস স্কুল এ্যান্ড কলেজের হিন্দু ধর্মীয় শিক্ষক ও সাংবাদিক মিলন কান্তি দাসের। বিগত ১৫ মে-২৫ তারিখ ভোকেশনাল ১০ম শ্রেণির ছাত্রীদের বাংলা বিষয় “মানুষ মুহাম্মদ(স:) পাঠদানকালে নামাজ কি? প্রশ্নের জবাবে ছাত্রীরা বেহেশতের চাবী বললেও মিলন কান্তি দাস উপরোক্ত কথাগুলো বলে মুসলিম ও হিন্দু ধর্মের অবমাননা করে ছাত্রীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেন। এ ঘটনায় উল্টো ছাত্রীদের দিয়ে মিলন কান্তির পা ধরে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করার ঘটনায় নলছিটিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় উপজেলা প্রশাসন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দকে নিয়ে বৈঠক করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটি দীর্ঘ প্রায় দুই মাস পর মিলন কান্তি কর্তৃক মুসলিম ও হিন্দু ধর্ম অবমাননা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের ঘটনা সত্য বলে প্রতিবেদন দাখিল করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করলেও তিনি এখনও বহাল তবিয়তে আছেন। এছাড়াও ৪ জন শিক্ষক ছাত্রীদের ভয়-ভীতি ও অভিশাপের কথা বলে পা ধরে ক্ষমা চাইতে বাধ্য ও ভিডিও করার ঘটনা তদন্তে প্রমাণিত হলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। তবে ওই ঘটনার পর মিলন কান্তি দাসের নলছিটি প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতির পদ স্থগিত করে।তদন্ত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, নলছিটি গার্লস স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক মিলন কান্তি দাস কর্তৃক শ্রেণি কক্ষে পাঠদানের সময়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের ঘটনায় নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের স্মারক নং-৪১৮ তারিখ ২৮/৫/২৫ এ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আনোয়ারুল আজিম, নলছিটি থানার অফিসার ইন চার্জ মো: আ: ছালাম, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো: ওবায়দুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো: আল আমিন মোল্লা ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো: বদরুল আমীনের সমন্বয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে উক্ত ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গত ১ জুন নলছিটি গার্লস স্কুলের ১০ম শ্রেণির ভোকেশনাল শাখার ১৯ ছাত্রীর (যার মধ্যে ২ জন হিন্দু ছাত্রী স্মৃতি দাস ও ঝিলিক দাস) লিখিত ও মৌখিক বক্তব্য গ্রহণ করে। এছাড়াও অভিযুক্ত শিক্ষক ও সাংবাদিক মিলন কান্তি দাসেরও লিখিত ও মৌখিক বক্তব্য গ্রহণ করে। তদন্তকালীন নলছিটি উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। যার মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় নেতা ও ঝালকাঠি-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ্ব ডাঃ সিরাজুল ইসলাম সিরাজী, বিএনপি নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন,নলছিটি পৌর জামায়াত আমীর আলমগীর হোসেন খান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর নলছিটি উপজেলা সভাপতি মাওলানা শাহজালাল হোসাইন জিহাদী, নলছিটি উপজেলা হেফাজতের সাধারণ সম্পাদক মুফতি হানজালা নোমানী, ভলান্টিয়ার শাহাদাত আলম ফকির, নলছিটি উপজেলা মডেল মসজিদের ইমাম মাওলানা আতিকুর রহমান, হেফাজতে ইসলাম নলছিটি উপজেলা সভাপতি মাওলানা মুফতি শফিকুল ইসলাম, নলছিটি গার্লস স্কুলের অভিভাবক সদস্য আব্বাস শিকদার, নলছিটি উপজেলা হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি শ্রী কৃষ্ণ লাল চক্রবর্তী ও নলছিটি উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সালাহ উদ্দিন শাহিন।তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে গত ১৫ মে সিনিয়র শিক্ষক মিলন কান্তি দাস বাংলা বিষয়ে মানুষ মুহাম্মদ(স:) এর পাঠদান করার সময়ে মুসলিম ও হিন্দু ধর্ম অবমাননা ও ছাত্রীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার বিষয়ে ১৭ জন মুসলিম ও ২ জন হিন্দু ছাত্রীর বক্তব্য প্রায় একই রকম। এ ঘটনার পর গত ২৪ মে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সালমা আক্তার ছাত্রীদের বলেন তোমাদের প্রতিবাদ করা ঠিক হয়নি এতে মিলন কান্তি দাসের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এজন্য তোমাদের(ছাত্রীদের) মিলন কান্তি দাসের অভিশাপ লাঘবে। তখন শিক্ষক রুনা লায়লা থাপ্পড় দেখিয়ে ছাত্রীদের মিলন কান্তি দাসের পা ধরে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেন। পা ধরে ক্ষমা চাওয়ার ভিডিও করেন শিক্ষক মাওলানা ফেরদৌস। অপর শিক্ষক শাহনাজ রহমান ছাত্রীদের মিলন কান্তি দাসের পক্ষে লিখিত দিতে বলেন। এ ঘটনা নলছিটিতে জানাজানি হলে শিক্ষক মিলন কান্তি দাস ও জড়িত অপর শিক্ষকদের বিচার দাবীতে নলছিটি শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম ও অফিসার ইন চার্জ মো: আ: ছালাম নলছিটি উপজেলার রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দকে নিয়ে জরুরি বৈঠক করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঠেকাতে সবাইকে অনুরোধ করে দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার ঘোষণা দেন এবং উক্ত ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে দেন। তদন্ত কমিটি অল্প সময়ের মধ্যে রিপোর্ট রেডি করলেও অপরাধীদের রক্ষার জন্য কোন পদক্ষেপ নেয়নি। তবে নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম নলছিটি থেকে বদলী হয়ে যাওয়ার আগে গত ২২ জুলাই তদন্ত প্রতিবেদন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবরের প্রেরণ করেছেন। তদন্ত কমিটি ধর্ম অবমাননা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের ঘটনায় নলছিটি গার্লস স্কুলের শিক্ষক মিলন কান্তি দাসের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা উল্লেখ করেছেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শিক্ষক মিলন কান্তি দাসের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি কিম্বা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও কোন পদক্ষেপ নেয়নি বলে জানা গেছে। তদন্ত রিপোর্টে ধর্ম অবমাননার ঘটনায় মিলন কান্তি দাসের পা ধরে ক্ষমা চাওয়ার ও ভিডিও করার ঘটনায় ৪ জন শিক্ষক দায়ী উল্লেখ করলেও তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কোন সুপারিশ করা হয়নি।এদিকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের ঘটনার পর নলছিটি প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে মিলন কান্তি দাসের সহ-সভাপতি পদ স্থগিত করে তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে সদস্য পদ থেকেও স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রেসক্লাবের সদস্য শাহাদাত হোসেন মনু। এ বিষয়ে নলছিটি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আনোয়ারুল আজিম এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন যে, তারা ৫সদস্যের তদন্ত কমিটি শিক্ষক মিলন কান্তি দাস কর্তৃক মুসলিম ও হিন্দু ধর্ম অবমাননা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের ঘটনার সত্যতা পেয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নিকট সুপারিশ করেছেন। নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের ষ্টাফ মো: আনিসুজ্জামান বলেন, গত ২২ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয় তদন্ত প্রতিবেদন ঢাকায় পাঠিয়েছেন।

নিউজটি ফেসবুকে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
রমজান সময়সূচি

আজ ৩০ রমজান

সেহরির শেষ: --

ইফতার শুরু: --

.

Developed by Barishal Host

© All rights reserved © 2025 Jagratakhobor.com