1. admin@jagratakhobor.com : admin-ferdous :
মব সন্ত্রাসে আক্রান্ত শিল্পকারখানা এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান - জাগ্রত খবর - jagrata Khobor
২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| গ্রীষ্মকাল| মঙ্গলবার| সন্ধ্যা ৭:৪৯|
শিরোনামঃ
চরফ্যাশনে ছোট ভাইকে জিম্মি করে অলিখিত ষ্ট্যাম্পে সাক্ষর নিয়েছে বড় ভাইগন,আদালতে মামলা!  মির্জাগঞ্জে বিরোধ মেটাতে গিয়ে শিশু-নারীদের পেটালো বিএনপি নেতা বরিশালে পুলিশের রেশনের চাল বিক্রির সময় গাড়ি আটকে দিল জনতা যুদ্ধ পুঁজি করে সক্রিয় সিন্ডিকেট সংসদের কেনাকাটায় হরিলুট তেল নিয়ে তেলেসমাতি ► পাম্পের বাইরে বিক্রি হচ্ছে লাইনের সিরিয়াল ► অনলাইন ও খোলাবাজারে অকটেন ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা ► চলছে পাচার পিরোজপুরে নিজের বাল্যবিবাহ ঠেকাতে থানায় এসএসসি পরীক্ষার্থী পাথরঘাটায় জমির বিরোধে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর, আহত ৭ ইসরালই-যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে রাজপথে অস্ত্র হাতে ইরানি নারীরা ট্রাম্পের সব দাবিই ভি*ত্তি*হী*ন : ইরান

মব সন্ত্রাসে আক্রান্ত শিল্পকারখানা এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশিত সময় মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২২৩ বার পড়েছেন
মোঃ ফেরদাউস::মব সন্ত্রাসের কারণে গত ১৬ মাসে দেশের অর্থনীতি অচল হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন শিল্পকারখানায় আগুন ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চালানো হয়েছে মব সন্ত্রাস এবং লুটপাট। চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা ।সংবাদপত্রের হিসাব অনুযায়ী, গত ১৬ মাসে ১২৪৩টি শিল্পকারখানা আক্রান্ত হয়েছ। এর মধ্যে বড় ধরনের হামলা এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে ৪৮টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা ছিল গাজী টায়ারসে আগুন। আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সাবেক পাট ও বস্ত্রমন্ত্রীর গাজী টায়ারস কারখানায় হামলা, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অন্তত ১৮২ জনের মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হয়। কারখানাটির মালিক আওয়ামী লীগ সরকারের প্রাক্তন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী এবং নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী। তাকে গত বছরের ২৫ আগস্ট ভোরে রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওইদিন রাতে রূপগঞ্জের রূপসী এলাকায় দেশের বৃহৎ টায়ার প্রস্তুতকারী কারখানাটিতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। টানা পাঁচ দিন পর ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আগুন নেভাতে সক্ষম হন। টানা পাঁচ দিন ধরে জ্বলা আগুনে ভবনটি ভিতরে থাকা কেউ যে আর রক্ত-মাংসে আস্ত থাকবেন না; সেটা ধরে নিয়েই স্বজনরা নিখোঁজদের অন্তত লাশটুকু চেয়েছিলেন; কিন্তু সেটাও তাদের ভাগ্যে জোটেনি। কারণ আগুনে পোড়া ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে সেখানে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।নারায়ণগঞ্জের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহমুদুল হক আগুনের সূত্রপাত ও দায়ীদের চিহ্নিত করতে ২৭ অগাস্ট তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হামিদুর রহমানকে প্রধান করে আট সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। গত ১২ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকের কাছে ৩২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটি দাখিল করেন কমিটির প্রধান।ওই ঘটনাকে প্রতিবেদনে নিছক দুর্ঘটনা নয়, অগ্নিসংযোগ’ হিসেবে বর্ণনা করা হলেও কারা ওই কাজ করেছে সুনির্দিষ্টভাবে তাদের চিহ্নিত করা হয়নি।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় পর্যায়ে গাজীর গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ওইদিন লোকজন আনন্দ মিছিল বের করে। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে খাদুন এলাকার খাঁপাড়া জামে মসজিদ থেকে মাইকে কয়েকজন ব্যক্তি ‘কারখানার ভিতরে যাদের জমি জোর করে দখল করা হয়েছে তাদের বিকাল ৩টার দিকে রূপসী বাসস্টেশনে জড়ো হওয়ার’ ঘোষণা দেন।বেলা ১২টার দিকে লুটপাট করার উদ্দেশ্যে ‘দুষ্কৃতকারীরা’ কারখানায় প্রবেশ করে। তারা কারখানার ভিতরে থাকা শ্রমিক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বের করে দিয়ে লুটতরাজ শুরু করে। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে আরেক দল ‘দুষ্কৃতকারী’ দেশি অস্ত্র নিয়ে কারখানায় প্রবেশ করে। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে লুটপাটকারীদের একাধিক দলের মধ্যে কারখানার বাইরে ও ভিতরে বাগবিতণ্ডা ও সংঘর্ষ হয়।পরে খাঁপাড়া মসজিদ থেকে পুনরায় ‘গাজীর কারখানায় ডাকাত ঢুকেছে’ ঘোষণা দিয়ে এলাকাবাসীকে তাদের প্রতিহত করার আহ্বান জানানো হয়। তাতে লুটপাট আরও বেড়ে যায়। লুটপাটকারীরা তখন কারখানা ছয়তলা ভবনটির বিভিন্ন তলায় ছড়িয়ে পড়ে এবং লুটপাট চালিয়ে যেতে থাকে। আগুন দেওয়ার ঘটনার পর কারখানার এক কর্মকর্তা বলেছিলেন, দুপুর থেকে রাতে আগুন দেওয়ার আগ পর্যন্ত টানা লুটপাট চলে। এই পুরো সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্য সেখানে যাননি।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে লুটপাটকারীদের একটি দল ভবনের নিচতলায় আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে গেটের শার্টারে তালা ঝুলিয়ে চলে যান। ওই সময় অনেকে ভবনটির ওপরের অংশে লুটপাটে ব্যস্ত ছিলেন। ভবনটিতে দাহ্য পদার্থ থাকায় দ্রুত প্রতিটি তলায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে।ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিটের টানা ২২ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুন পুরোপুরি নেভে পাঁচ দিন পর। দীর্ঘ সময় ধরে জ্বলতে থাকা আগুনে ভবনটি ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হওয়ায় সেখানে উদ্ধার অভিযান চালানো যায়নি।এ ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে মামলা হয়নি, কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এমনকি এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করাও হয়নি। একইভাবে, আরও যেসব কারখানায় হামলা এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে, সেসবেরও কোনো বিচার হয়নি। মামলাও হয়নি। এ বিচারহীনতার কারণে অনেকেই আতঙ্কে কারখানা বন্ধ করে দেন। বন্ধ হওয়া অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান আর চালু হয়নি।ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, গত ১৬ মাসে ঢাকায় সংঘটিত ‘দাঙ্গা’র ঘটনাগুলোর প্রায় তিন-চতুর্থাংশই হয়েছে মতিঝিল, গুলশান ও তেজগাঁও অঞ্চলে। এসব মব বা দাঙ্গার মধ্যে আলোচিত কিছু ঘটনার একটি হলো ব্যাংকপাড়াখ্যাত মতিঝিলে একটি বাণিজ্যিক ভবন দখলের চেষ্টায় ২৯ জুলাই ৩০ থেকে ৩৫ জনের মবকে পুলিশ থামাতে গেলে মবকারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এরপর থানার ভিতরেই হামলার চেষ্টা করে এ মব চক্র। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।গুলশানে ঘটে যাওয়া মব অ্যাটাকের একটি হলো শেখ হাসিনার সাবেক রাজনৈতিক উপদেষ্টা প্রয়াত এইচটি ইমামের ছেলে এবং সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সাংসদ তানভীর ইমামের সাবেক স্ত্রীর বাসায় মব হামলা। অর্থ লুটপাটের উদ্দেশ্যে গত ৫ মার্চ গুলশান-২ নম্বরে ৮১ নম্বর সড়কে অবস্থিত তানভীর ইমামের সাবেক স্ত্রীর বাসাটি ঘেরাও করে মব।এ ছাড়া রাজধানীর অভিজাত আবাসিক এলাকায়ও মবের ঘটনা ঘটেছে। বারিধারা কূটনৈতিক জোনের ২ নম্বর ইউএন রোডের ছয়তলা একটি বাড়ির দুটি ফ্ল্যাট দখলে পরিকল্পিত হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। ক্যাপিটাল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোকাররম হোসেইন খান ও তার মেয়ে ক্যাপিটাল্যান্ডের নির্বাহী পরিচালক মাহিরা হোসেইন খান ফ্ল্যাট দুটিতে বাস করেন।দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অর্থনীতির অনুকূলে নেই বলে মনে করে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) সভাপতি ফজলে শামীম এহসান। তিনি বলেন, কর্মসংস্থান হচ্ছে না বিনিয়োগ পরিবেশ না থাকায়। বিনিয়োগ না হওয়ার অন্যতম কারণ সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা। পরিবেশ তৈরি হচ্ছে না বলে বিনিয়োগকারীরা আস্থা পাচ্ছেন না, ভয় পাচ্ছেন। তারা একটি নির্বাচিত স্থিতিশীল সরকার চান।রাজধানীর বাণিজ্যিক ও অভিজাত আবাসিক এলাকাগুলোতে বিভিন্ন সময় মবের ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে সৃষ্ট আস্থার সংকটে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, মতিঝিল, গুলশান ও তেজগাঁওসহ বাণিজ্যিক এলাকায় মবের ঘটনা ব্যবসায়িক আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে। ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ সব ধরনের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, পাশাপাশি ভোক্তারাও ঝুঁকিতে পড়ছেন। এ ধরনের পরিস্থিতি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সংকুচিত করছে এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ঢাকা চেম্বার মনে করে আইনশৃঙ্খলা স্থিতিশীল রাখা ও সঠিক সময়ে নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে এ ধরনের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

নিউজটি ফেসবুকে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
রমজান সময়সূচি

আজ ৩০ রমজান

সেহরির শেষ: --

ইফতার শুরু: --

.

Developed by Barishal Host

© All rights reserved © 2025 Jagratakhobor.com