
জাগ্রত ডেস্ক::চলতি মাসের শুরুর দিকে দক্ষিণ চীন সাগরে চীনা নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের দুটি জাহাজের সংঘর্ষ হয়েছিল। কোস্ট গার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটি বর্তমানে হাইনান দ্বীপে মেরামতের আওতায় রয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রের ভিত্তিতে রয়টার্স বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। জাহাজটি বন্দরে ফেরার এটাই প্রথম নিশ্চিত প্রমাণ।রয়টার্সকে ম্যাক্সার টেকনোলজিসের সরবরাহ করা চিত্রে দেখা যায়, শুকনা ঘাটে নোঙর করা জাহাজটির সামনের অংশ মারাত্মকভাবে চূর্ণ হয়ে আছে এবং পাশে দুটি টাগবোট রয়েছে। ছবিটি হাইনান প্রদেশের সানইয়া শহরের কাছে ইয়ুলিন নৌঘাঁটির।চীনা কর্মকর্তারা কখনোই এই সংঘর্ষ নিয়ে মন্তব্য করেননি। তবে ফিলিপাইন জানিয়েছে, ১১ আগস্ট তাদের কোস্ট গার্ডের জাহাজগুলো যখন স্কারবরো শোলের কাছে ফিলিপিনো জেলেদের কাছে সরবরাহ পৌঁছে দেওয়ার মিশনে ছিল, তখনই সংঘর্ষটি ঘটে।এলাকাটিতে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মধ্যে চীনা জাহাজগুলোর মধ্যে এটাই প্রথম পরিচিত সংঘর্ষ। বেইজিং ফিলিপাইনের বিরুদ্ধে ‘বিপজ্জনক কৌশল’ গ্রহণের অভিযোগ করেছিল, তবে সরাসরি সংঘর্ষের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেনি তারা। অন্যদিকে ম্যানিলার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দুর্ঘটনার জন্য তারা কোনোভাবেই দায়ী নয় এবং এ ঘটনাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক পরিণতি’ হিসেবে বর্ণনা করে। সেই সময় চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জিয়াং বিন বলেছিলেন, ‘আমরা দাবি করছি, ফিলিপাইন অবিলম্বে তার অবৈধ ও উসকানিমূলক বক্তব্য ও পদক্ষেপ বন্ধ করুক।চীনা কোস্ট গার্ডের জাহাজগুলো নিয়মিত স্কারবরো এলাকায় টহল দেয়, যা বেইজিং হুয়াংইয়ান দাও নামে অভিহিত করে এবং দক্ষিণ চীন সাগরের বৃহৎ অংশে ঐতিহাসিক মালিকানা দাবির অংশ হিসেবে দেখায়। তবে স্কারবরো শোলের সার্বভৌমত্ব কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।হেগের স্থায়ী সালিসি আদালত ২০১৬ সালে দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে এক ঐতিহাসিক রায়ে বেইজিংয়ের বিস্তৃত দাবিকে বাতিল করেন, যদিও সার্বভৌমত্ব নির্ধারণ তাদের এখতিয়ারে ছিল না। তবে আদালত রায় দেন, চীনের অবরোধ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে এবং এই এলাকা কয়েকটি দেশের ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরার জায়গা। চীন ওই রায় প্রত্যাখ্যান করে।ম্যাক্সার ও অন্যান্য বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, চিত্রে দেখা জাহাজটি আসলেই সংঘর্ষে জড়িত সেই সিজি৩১০৪ জাহাজ। জাহাজটির অবস্থা, কেউ হতাহত হয়েছে কি না, কিংবা সেটি নিজস্ব শক্তিতে হাইনানে পৌঁছেছে কি না—এসব বিষয়ে চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় রয়টার্সের প্রশ্নের তাৎক্ষণিক জবাব দেয়নি।ফিলিপাইন কোস্ট গার্ডের মুখপাত্র জে তারিয়েলা বুধবার বলেছেন, তারা ঘটনার পর দিন শোল এলাকা থেকে দুটি চীনা জাহাজের প্রস্থান পর্যবেক্ষণ করেছিলেন, তবে সপ্তাহের পরের যাত্রায় সেগুলো আর দেখেননি।তারিয়েলা এর আগে সংঘর্ষের বিস্তৃত ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন, যা ফিলিপাইন কোস্ট গার্ডের জাহাজ থেকে ধারণ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘চীনা কোস্ট গার্ড কোনো সম্ভাব্য হতাহত বা আঘাতের বিষয়ে ফিলিপাইন কোস্ট গার্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।এদিকে অনলাইন শিপ ট্র্যাকারগুলো জানিয়েছে, সংঘর্ষের আগে বা পরে সিজি৩১০৪-এর ট্রান্সপন্ডার চালু ছিল না। তবে আরেকটি কোস্ট গার্ড জাহাজ ও অন্যান্য চীনা জাহাজ পরের দিন শোলের কাছে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছিল বলে মেরিটাইম বিশ্লেষক সি-লাইটের রে পাওয়েল এক্স পোস্টে জানিয়েছেন।সিঙ্গাপুরভিত্তিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক কলিন কোহ বলেন, জাহাজটি আগে নৌবাহিনীর টাইপ ০৫৬ করভেট শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ হিসেবে ব্যবহৃত হতো, তাই কোস্ট গার্ড ঘাঁটির পরিবর্তে নৌঘাঁটিতে মেরামতের জন্য ফেরাটা স্বাভাবিক।সিঙ্গাপুরের এস রাজরত্নম স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের গবেষক কোহ আরো জানান, ইউলিন ঘাঁটি চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলে সবচেয়ে বিস্তৃত স্থাপনা, যেখানে চীনা বিমানবাহী রণতরি ও ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিনও রাখা হয়।