নিজস্ব প্রতিবেদক:: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ঢাকা বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষার্থীরা। এতে করে কয়েক কিলোমিটার পথে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সামনে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। সেখানে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও দাবি আদায়ে অনড় বিভিন্ন কলেজের পরীক্ষার্থীরা বোর্ডের সামনে অবস্থান নেয়।পরে শিক্ষার্থীরা ঢাকা বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে তাদের দাবী আদায়ের লক্ষ্যে বিক্ষোভ শুরু করে। এতে করে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে।সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের পরীক্ষার্থী আলিফ মাহামুদ বলেছেন, সোমবার বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে। তাছাড়া কঠিন পরীক্ষার আগেও পর্যাপ্ত বন্ধ দেয়া হয়নি।অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয়ের পরীক্ষা সাইফুর রহমান অমি মন্তব্য করেন, বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবারে বেশ কঠিন প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। আমাদেরকে পোল্ট্রি মুরগি বলে আখ্যায়িত করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তার ভাষা জ্ঞানে মারাত্মক সমস্যা রয়েছে।সরকারি বরিশাল কলেজের পরীক্ষার্থী জিসান মাহামুদ বলেন, সকল বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণ চলছে। এর মধ্যে একটি বোর্ডে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এসব সমস্যার সমাধান না করে আমাদেরকে নানা ভাবে কটুক্তি করছেন শিক্ষামন্ত্রী। এই পরীক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। তিনি পদত্যাগ না করলে আমরা আমাদের আন্দোলন থেকে সরব না।অন্যদিকে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের সামনে ঢাকা বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করায় কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নথুল্লাবাদ থেকে অভ্যন্তরীন ১৪ রুটে বাস চলাচল বন্ধ থাকার পাশাপাশি বরিশাল থেকে দূরপাল্লার সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে করে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ যাত্রীরা।জগলুল হায়দার নামে এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জানিয়েছেন, জরুরি চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যেতে হবে। সাকুরা পরিবহনের বাসে টিকেট কেটেছি। এখন সড়ক বন্ধ থাকায় বসে রয়েছি প্রায় ২ ঘন্টা যাবৎ। আন্দোলন আদায়ের একটি প্রক্রিয়া থাকা উচিত, সড়ক বন্ধ করে আন্দোলনের রেওয়াজ বন্ধ করা উচিত।যতীন কর্মকার নামে এক ব্যবসায়ীর ভাষ্য, সাধারণ জনগণ তো আর এদের পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো সমস্যা করেনি। তাহলে কেন সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলছে এরা। এদের অভিভাবক নেই, তারা কি এসব দেখেনা বোঝেনা। সরকারের সড়ক মহাসড়ক আটকে আন্দোলনের বিষয়ে বিধি নিষেধ আনা জরুরী কঠোর ভাবে। প্রতিনিয়ত এমন সমস্যায় কেন ভুগবো আমরা। জরুরি কাজে মাদারীপুর যেতে হবে, নিরুপায় হয়ে বসে আছি দেড় ঘন্টার বেশি সময় ধরে।এদিকে বিক্ষোভস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা রয়েছে জানিয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ওসি সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের সড়ক থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। তবে তারা আমাদের কথা শোনেনি। তারা তাদের আন্দোলন অব্যহত রেখেছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আমাদের ফোর্স সেখানে রয়েছে।