জাগ্রত ডেক্স:: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অন্তরঙ্গ ভিডিওকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে তুমুল বিতর্ক চলছে।ফ্যাক্টচেকভিত্তিক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম দ্য ডিসেন্ট ২৯ জুলাই প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও, ছবি ও সংশ্লিষ্ট কিছু উপকরণ তারা বিভিন্ন উৎস থেকে সংগ্রহ করে একাধিক এআই শনাক্তকরণ টুলের মাধ্যমে পরীক্ষা করেছে। পরীক্ষায় এগুলো এআই-নির্মিত—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভাইরাল হওয়া কিছু হোয়াটসঅ্যাপ স্ক্রিনশট বিশ্লেষণ করে একটি মোবাইল নম্বর শনাক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট নম্বরে যোগাযোগ করলে এক নারী নিজের পরিচয় নিশ্চিত করেন এবং স্ক্রিনশটে থাকা শাড়িপরা ছবিটি তার বলে স্বীকার করেন। তবে তিনি দাবি করেন, তার ছবি সেখানে কীভাবে এসেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। ভিডিও বা অন্যান্য উপকরণ সম্পর্কেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।দ্য ডিসেন্ট আরও জানায়, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক একটি মোবাইল নম্বর থেকে কল পান, যেখানে কলারের নাম হিসেবে “FORHAD HOSSAIN AZAD” প্রদর্শিত হয়। পরে ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে অপর প্রান্তের ব্যক্তি প্রতিবেদকের পরিচয় জানতে চান এবং সরাসরি অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে দপ্তরে গিয়ে সাক্ষাতের আহ্বান জানান। পরবর্তীতে পুনরায় যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ব্যস্ততার কথা বলে সংক্ষিপ্তভাবে ফোনালাপ শেষ করেন।এদিকে, মারিয়া সরকার এলিন নামে এক উপস্থাপিকা নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিবৃতিতে দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তার ছবি সম্পূর্ণ পেশাগত ও অনুষ্ঠানসংশ্লিষ্ট। তিনি বলেন, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে উপস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনের কারণে বহু ব্যক্তির সঙ্গে সৌজন্যমূলক ছবি রয়েছে। এসব ছবিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে তার বিরুদ্ধে চরিত্রহননের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে মিথ্যা ও মানহানিকর প্রচারণা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে প্রয়োজন হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও ঘোষণা দেন।এদিকে, প্রতিমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা পঞ্চগড়ে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সংবাদ সম্মেলন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন। তাদের দাবি, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। দলটির নেতারা এ ঘটনাকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করে কঠোর কর্মসূচিরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।