
নিজস্ব প্রতিবেদক::বরিশালে প্রশাসনের অভিযান সত্ত্বেও মাটি ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য থামছে না। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র কৃর্ষি জমি ও নদী খনন করে মাটি অবাধে বিক্রি করছে বিভিন্ন ইটভাটায়। এর আগে প্রশাসনের বাধায় নদের মাটি বিক্রি বন্ধ হলেও মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে গত কয়েকদিন ধরে রাতে পুনরায় তারা মহাসমারোহে মাটি কেটে বিক্রি শুরু করছে। তবে মাটি ব্যবসায়ীদের দাবি, জেলা-উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েই তাঁরা এ কর্মযজ্ঞ চালাচ্ছেন।বরিশালের নদী এলাকায় নদীর দুই পারসহ পার্শ্ববর্তী ব্যক্তিমালিকানা জমি মিলিয়ে প্রায় ২০ ফুট প্রস্থ ও ১০ ফুট উঁচু করে খননের মাটিগুলো বিক্রি হয়।নিয়মানুযায়ী এসব মাটি কোনো ব্যক্তি বিক্রির সুযোগ না থাকলেও স্থানীয় বিএনপির নেতারা, সহ অন্যরা নদ খননের মাটি অবৈধভাবে প্রতিপল্টন বোঝাই করে ৪৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকায় ইটভাটার মালিকদের কাছে বিক্রি করছেন ।প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে ভোররাত পর্যন্ত দুটি এক্সকাভেটর (ভেকু মেশিন) দিয়ে এসব মাটি কেটে প্রায় ট্রাক্টর, ট্রলার, পল্টনে করে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতি রাতে কমপক্ষে ৫০-১০০ট্রলার,পল্টনে মাটি জেলার সকল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হচ্ছে। এভাবে মাটি বিক্রি করে এ চক্রটি এক দিনে প্রায় দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এ বিষয়ে গত দিনে কয়েকটি সংবাদপত্রে সংবাদ প্রকাশিত হলে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে মাটি বিক্রি বন্ধ করে দেয়।কিন্তু বর্তমানে রাত থেকে তারা পুনরায় মাটি কেটে বিক্রি করা শুরু করেছে। মাটি বোঝাই শত শত ট্রাক্টর, ট্রলার, পল্টন, চলাচলে নদী পথ ও রাস্তাঘাটও নষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে মাটি কাটার আগে তারা স্থানীয় কৃষকদের রোপণ করা ফলবান কলাগাছসহ অন্যান্য গাছপালা নির্বিচারে কেটে ফেলায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তাঁরা।এরই মধ্যে মাটি ব্যবসায়ীরা নদের প্রায় অনেক জায়গা এলাকার মাটি কেটে বিক্রি করে দিয়েছেন। এ সময় সেখানে মাটি বিক্রির দায়িত্বে থাকা একজন বলেন, প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে জানিয়েই আমরা মাটি বিক্রি করছি।তবে নদী খননের মাটি বিক্রি করার এখতিয়ার উনাদের আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।দুই ইটভাটার মালিক তাদের নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, আমরা প্রতি পল্টনগাড়ি মাটি ৪৫ হাজার নগত টাকায় কিনে নিতে হচ্ছে। গত দুই সপ্তাহে মাটি বিক্রির কমপক্ষে ৪০ লাখ টাকা এরা ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়েছে।এব্যাপারে কয়েক উপজেলা ইউএনও জানান, নতুনভাবে মাটি বিক্রি শুরু করার বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।