1. admin@jagratakhobor.com : admin-ferdous :
বরিশালে রাতের আঁধারে নদীর পারে কৃষি জমির মাটি যাচ্ছে ইটভাটায় - জাগ্রত খবর - jagrata Khobor
১১ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ২৮শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| গ্রীষ্মকাল| বৃহস্পতিবার| রাত ১০:৪১|

বরিশালে রাতের আঁধারে নদীর পারে কৃষি জমির মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়

মোঃ ফেরদাউস
  • প্রকাশিত সময় রবিবার, ৬ জুলাই, ২০২৫
  • ২০৫ বার পড়েছেন

নিজস্ব প্রতিবেদত::বরিশালের বিভিন্ন স্থানে আবাদ করা বোরো ক্ষেতের মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়। এতে কয়েক হাজার একর জমির ফসল নষ্ট হচ্ছে। একই সঙ্গে উর্বরতা হারিয়ে অনাবাদি হয়ে পড়ছে আবাদি জমি। কমতে শুরু করেছে ফসলের উৎপাদন।ইটভাটার মালিকরা কৃষকদের প্রলোভন দেখিয়ে রাতের আঁধারে ভেকু মেশিন দিয়ে এসব ফসলি জমির মাটি কেটে নিচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ভাটামালিকরা আবাদি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের ১০৫ জেএলর পশ্চিম কেউটিয়া মৌজায়সহ কয়েকটি মৌজায় বরিশাল সদর উপজেলার ৭নং চরকাউয়া ইউনিয়নের এজিএম ব্রিকর্স, ফুজি ব্রিকর্স, আরাফাত ব্রিকসসহ ইটভাটায় যাচ্ছে এই মাটি। ইটভাটাগুলোর আশপাশে বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি। এসব জমিতে প্রতি বছর ধান, সরিষা ও সবজির আবাদ করেন কৃষকরা।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভাটাগুলোতে ইট প্রস্তুত করতে বিপুল পরিমাণ মাটির প্রয়োজন হয়। এজন্য ইটভাটা মালিকরা কৃষকদের প্রলোভন দেখিয়ে আবাদি জমির মাটি কিনে নিচ্ছেন। জমির মালিকরা না বুঝেই ইটভাটার মালিকদের কাছে প্রতি শতাংশ জমির মাটি ১ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি করছেন। পরে ইটভাটা মালিকরা ভেকু মেশিনের দিয়ে ডাম্প ট্রাক ও নদী পথে ট্রলার এবং পল্টন ভর্তি করে ফসলি জমির মাটি ইটভাটায় নিচ্ছেন। এতে জমির উর্বরতা শক্তি কমতে শুরু করলেও এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের সতর্ক করা হচ্ছে না। এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মেহেন্দীগঞ্জ ১৮ টি ব্রিকর্সের মালিকরা আবাদ করা বোরো ধানের গাছসহ ধানের জমির মাটি প্রায় ১৫ থেকে ১৮ ফুট গভীর করে কেটে ইটভাটায় নিচ্ছেন। প্রতি রাতে ১৫ থেকে ২০টি ট্রাক, ট্রলার, পল্টনযোগে এসব জমির মাটি ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। এতে পাশের জমিরও ক্ষতি হচ্ছে।মেসার্স এজিএম ব্রিকসের ব্যবস্থাপক মোঃ কামরুল বলেন, আমরা ১৫ টাকা ফুটে মাটি ক্রয় করি রুপাতলীর আওয়ামীলীগ নেতা মিল্টন, হাতেম আলী কলেজ চৌমাথার বিএনপি নেতা স্বপনসহ ১০/১২ জনের থেকে । ফসলি জমির মাটি কেটে নেওয়ার কথা স্বীকারও করেন কামরুল । তিনি বলেন, অনেক ইটভাটায় ফসলি জমির মাটি নেওয়া হচ্ছে। আগে তাদের বন্ধ করতে বলেন তারপরই আমি বন্ধ করবো। পাশের জমির ক্ষতির কথাও স্বীকার করেন তিনি। ইটভাটার মালিক সাবেক নুরু বলেন, প্রতি বছর ইটভাটায় মাটি নেওয়া হয়। এ বছরও আবাদি জমির মাটি ভাটায় নেওয়া হচ্ছে এটা সত্য।এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, একজন কৃষক তার জমির মাটি বিক্রি করলে আমাদের কী আর করার আছে ।মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, প্রতিদিন ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে মাটি ব্যবসায়ীদের জরিমানা করা হচ্ছে। তবে ওই এলাকার বিষয়টি আমার জানা নেই। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বরিশাল জেলা প্রশাসক বলেন, আমরা গেলে ওরা পালিয়ে যায় জনগন ধরলে ভাল হয় । এদিকে এলাকাবাসী মাটি কাটায় বাধা দিলে মাটি খেকো চক্রটি তাদের হত্যার হুমকি দেয় । রাজনৈতিক পরিচয়ে এই খেকোগুলো মাটি গিলে খায় । জানা গেছে, বরিশাল সদর উপজেলার লাহারহাট এলাকায় কয়েকটি চক্র গজিয়ে উঠেছে মাটি বিক্রিতে । আর এতে চলে রাজনৈতিক পরিচয় ।

নিউজটি ফেসবুকে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
রমজান সময়সূচি

আজ ৩০ রমজান

সেহরির শেষ: --

ইফতার শুরু: --

.

Developed by Barishal Host

© All rights reserved © 2025 Jagratakhobor.com