1. admin@jagratakhobor.com : admin-ferdous :
নবগ্রাম রোডে কলেজ ছাত্র মুন্না হত্যা চেষ্টার ঘটনায় আসামীদের পাল্টা মামলা টাকার বিনিময়ে আদালতে মিথ্যা চার্জশীট দেওয়ার অভিযোগ পিবিআই’র বিরুদ্ধে - জাগ্রত খবর - jagrata Khobor
শিরোনামঃ
ভারতে তাণ্ডব চালিয়ে বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ সতর্কতা জারি ঢামেকের অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে পাঁচ হোতা বিএনপির এমপি আজিজের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল ! বরিশালে হাফেজ শিক্ষার্থীদের স্পোকেন ইংলিশ কোর্স সম্পন্ন, সনদ ও বই বিতরণ ইসরায়েলে ক্ষমতার অঙ্কে জট, নেতানিয়াহুর সামনে চার পথ বৃহস্পতিবার যেসব এলাকায় সাড়ে ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না নবগ্রাম রোডে কলেজ ছাত্র মুন্না হত্যা চেষ্টার ঘটনায় আসামীদের পাল্টা মামলা টাকার বিনিময়ে আদালতে মিথ্যা চার্জশীট দেওয়ার অভিযোগ পিবিআই’র বিরুদ্ধে ফারাক্কার প্রভাব মোকাবিলায় পদ্মা-তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণে গুরুত্বারোপ রিজভীর যুক্তরাষ্ট্রকে শিক্ষা দিতে চায় ইরান, যুদ্ধের মূল্য চুকানোর হুঁশিয়ারি লিবিয়া থেকে বৃহস্পতিবার ফিরছেন আরও ১৭২ বাংলাদেশি

নবগ্রাম রোডে কলেজ ছাত্র মুন্না হত্যা চেষ্টার ঘটনায় আসামীদের পাল্টা মামলা টাকার বিনিময়ে আদালতে মিথ্যা চার্জশীট দেওয়ার অভিযোগ পিবিআই’র বিরুদ্ধে

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশিত সময় বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৬ বার পড়েছেন

বিশেষ প্রতিবেদক:: নগরীর নবগ্রাম রোডের নলিতদাস পোল এলাকায় দ্বীন ইসলাম খান ওরফে মুন্নাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনায় দায়ের করা মামলার পর বাদীপক্ষের বিরুদ্ধে করা পাল্টা মামলার তদন্ত নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। আহত ও চিকিৎসাধীন মুন্নার সঙ্গে ঢাকায় অবস্থানরত স্বজনকেও পাল্টা মামলার চার্জশিটে আসামি করার অভিযোগ উঠেছে পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসআই আইয়ুব আলীর বিরুদ্ধে। একই কর্মকর্তাকে নগদ টাকা গ্রহণ করতে দেখেছেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী। এদিকে, তদন্ত নিয়ে জানতে চেয়ে এএসআই আইয়ুব আলীর সঙ্গে যোগাযোগের কিছুক্ষণ পর তিনজন অপরিচিত ব্যক্তি নিজেদের স্থানীয় সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে প্রতিবেদককে ফোন করে মামলাটি সম্পর্কে নানা প্রশ্ন করেন। তাদের কথার ধরন প্রতিবেদকের কাছে ভয় দেখানোর মতো মনে হয়েছে। সব মিলিয়ে মামলার তদন্তের নিরপেক্ষতা, চার্জশিটের ভিত্তি এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর স্বচ্ছ অনুসন্ধানের দাবি উঠেছে।
মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আদালতে মনগড়া তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন পিবিআই এর এক সহকারী উপপরিদর্শক এর বিরুদ্ধে। গত ১৫ অক্টোবর আদালতে এ প্রতিবেদন দাখিল করেন পিবিআই এর এএসআই মো: আইউব আলী। তদন্ত প্রতিবেদনে যেসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে তার সাথে বাস্তবতার কোন মিল নেই। এছাড়াও তদন্ত কর্মকর্তা বাদীর কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে আসামীদের হয়রানীর উদ্দেশ্যে এ ধরণের মিথ্যা ও বানোয়াট প্রতিবেদন দাখিল করেছেন আদালতে। এবিষয়ে মামলার আসামীরা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
আদালত সূত্রে জানাগেছে-গত ৩০ জুলাই মারামারি ও লুটপাটের অভিযোগ এনে ৮জনকে আসামী করে একটি মামলা করেন নগরীর নলিতদাসের পোল এলাকার বাসীন্দা কামাল উদ্দীনের স্ত্রী নার্গিস আকতার। ওই মামলা তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক। আদালতের নির্দেশনা পেয়ে বরিশাল পিবিআই এর পুলিশ সুপার, এএসআই আইউব আলীকে সরেজমিনে তদন্তের নির্দেশ দেন। এরপর তদন্তকারী কর্মকর্তা সরেজমিনে তদন্তে গিয়ে বাদী পক্ষের সাথে আঁতাত করে মনগড়া প্রতিবেদন তৈরী করেন।
মামলার ৩ নম্বর আসামী মজিবুর রহমান সুরুজ অভিযোগ করে বলেন-পুলিশ যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিয়েছেন তার সাথে বাস্তবতার কোন মিল নেই। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে ‘আমি বাদীর ঘরে প্রবেশ করে এক লাখ ৫ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করি এবং শ্লীলতাহানী করি। যাওয়ার সময় তাদের খুন জখমের হুমকী প্রদান করা হয়’। অথচ ঘটনার দিন আমি বরিশালেই ছিলাম না। ওইদিন আমি আমার শ্বশুর বাড়ী নলছিটি উপজেলার স্টেশন রোডে অবস্থান করছিলাম। যা মোবাইল ট্র্যাকিং করলেও সত্যতা পাওয়া যাবে। কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তা কোন কিছু যাচাই বাছাই ছাড়াই টাকার বিনিময়ে এ ধরণের মনগড়া প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। আমি পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এর সুষ্ঠু তদন্ত দাবী করছি।
একই মামলার ২ নম্বর আসামী মো: মারুফ খান ও ৬ নম্বর আসামী সত্তার খান অভিযোগ করে বলেন-যেদিন ওই বাড়ীতে ভাংচুরেরর ঘটনা ঘটে সেদিন আমরা  ঢাকায় ছিলাম। কুরবানীর ঈদ পালনের উদ্দেশ্যে ২৫ মে আমরা ঢাকায় চলে যাই। অথচ তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ‘আমরা নাকি বসতঘরে হামলা-ভাংচুর করে মোবাইল নিয়েছি। প্রশ্ন হলো ঢাকায় বসে আমরা কিভাবে বরিশালে হামলায় অংশ নিলাম।
প্রতিবেদনে ৬ ও ৭ নম্বর আসামীর সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা আইউব আলী। অথচ মামলার বাদি মামলায় তাদের ব্যাপারে কোন অভিযোগ করেননি। এএসআই টাকার বিনিময়ে অতি উৎসাহী হয়ে তাদের বিরুদ্ধেও মনগড়া প্রতিবেদন দিয়েছেন।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলে নিরপেক্ষ সাক্ষী হিসেবে রহিমা বেগম ও কালাম নামে দু’জনের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। কিন্তু যাদের নিরপেক্ষ সাক্ষী বলা হয়েছে তারা মামলার বাদীর নিকটাত্মীয়। প্রশ্ন হচ্ছে-যারা বাদীর আত্মীয় তারা কি কখনো নিরপেক্ষ সাক্ষী দেবেন? এখানে স্থানীয় কারো সাক্ষী গ্রহণ করা হয়নি। যারা নিরপেক্ষ ছিলো তাদের কোন বক্তব্য লিপিবদ্ধ করেননি তদন্তকারী কর্মকর্তা আইউব আলী। সুতরাং তিনি যে অর্থের বিনিময়ে এ মামলার চার্জশীট তৈরী করেছেন তাতে কোন সন্দেহ নেই।
অভিযোগের বিষয়ে সহকারী উপপরিদর্শক আইউব আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে চায়ের দাওয়াত দিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
উল্লেখ্য ঘটনার সূত্রপাত গত ৩১ মে সকালে নগরীর নবগ্রাম রোডের নলিদাস পোল এলাকায় নির্মাণাধীন ঘরের জন্য আনা বালু রাখা নিয়ে বিরোধের জেরে দ্বীন ইসলাম খান ওরফে মুন্না (৩১) গুরুতর জখম হন। মুন্না ওই এলাকার বাসিন্দা লিটন খানের ছেলে। পরিবারের অভিযোগ, এর আগে ২৯ মে রাতে বালু রাখা নিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়ার ঘটনা ঘটেছিল। পরে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে বলে তারা মনে করেছিলেন। কিন্তু ৩১ মে সকালে মুন্না কাজের উদ্দেশ্যে বের হলে প্রতিপক্ষের লোকজন মুন্নার ওপর হামলা চালায়।
মুন্নার বাবা লিটন খানের অভিযোগ, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ছেলেকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে রাস্তার ওপর ফেলে রেখে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) পাঠান।
এ ঘটনায় মুন্নার মা কুলসুম বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। এজাহারে একই এলাকার মিলন খান (৩০), রানা খান (২৮), হিমেল (২২), কালাম খান (৫৫), নার্গিস বেগমের (৫০), শুভ খান নাম উল্লেখ করা হয়। বাদীপক্ষের অভিযোগ, মূল মামলায় বিচার ও আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি তোলার পর তাদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ আনা হয়। ওই পাল্টা মামলার তদন্তের দায়িত্ব পান পিবিআইয়ের এএসআই আইয়ুব আলী।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, এএসআই মাত্র একদিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন, তখন আহত মুন্নাসহ তাদের স্বজনরা ঢাকার হাসপাতালে ছিলো। এএসআই আইউব দুজন লোক প্রতিপক্ষের ঘরে অবস্থান করেন এবং তখন তাদের মধ্যে নগদ অর্থ লেনদেন হয়েছে বলে দাবী করেন তিনি। একটি মামালার তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই ও তদন্তের দাবী সংশ্লিষ্টদের।
এই অভিযোগ ও চার্জশিটের বিষয় সম্পর্কে জানতে প্রতিবেদক এএসআই আইয়ুব আলী সঙ্গে যোগাযোগ করলে কর্মকর্তা তাকে চায়ের দাওয়াত করেন।
এর কিছুক্ষণ পরপরই তিনজন অপরিচিত ব্যক্তি নিজেদের স্থানীয় সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে প্রতিবেদককে ফোন করেন। তাদের একজন টিভি চ্যানেল এর ক্যামেরাম্যান এবং অন্যরা স্থানীয় পত্রিকার প্রতিনিধি বা রিপোর্টার বলে পরিচয় দেন। তারা জানতে চান, প্রতিবেদক কেন এসআই আইয়ুব আলীকে ফোন করেছেন, মামলাটি সম্পর্কে তিনি কী জানেন এবং কোথায় কাজ করেন।
গত ৪ জুন মুন্নার ওপর হামলার প্রতিবাদে নগরীর সিএন্ডবি মহাসড়কের চৌমাথায় মানববন্ধন ও সমাবেশ করেন স্থানীয় বাসিন্দা ও মুন্নার সহপাঠীরা। কর্মসূচিতে হামলার বিচার, দায়ীদের গ্রেপ্তার এবং নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাস, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধের দাবি জানানো হয়। ঐ মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সামান্য বিরোধকে কেন্দ্র করে এমন নৃশংস হামলার ঘটনা নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায়।

ফটোকার্ড বানান

নিউজটি ফেসবুকে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

[ramadan_somoysuci]

© All rights reserved © 2025 Jagratakhobor.com