ইসরায়েলের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। কিন্তু কোনো পক্ষই সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে নতুন সরকার গঠনের সম্ভাব্য সমীকরণ নিয়ে দলগুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে। এ পরিস্থিতিতে পুনরায় নির্বাচন এড়াতে রাজনৈতিক দলগুলোকে সব ধরনের বিকল্প বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ।
এরই মধ্যে নেতানিয়াহুর জোটের শরিক ইউটিজে নতুন রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়ার কথা ভাবছে। দলটির নেতারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী জোটের সরকারে যোগ না দিয়েও সেটিকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য সমঝোতা অনুযায়ী, ইউটিজে বিরোধী জোটের বাইরে থাকবে। তবে গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে কিংবা কোনো আইনের বিপক্ষে ভোট না দিয়ে ভোটদানে বিরত থাকতে পারে। এতে সরকারটি ক্ষমতায় টিকে থাকার সুযোগ পাবে।
চ্যানেল ১২-এর হিসাব অনুযায়ী, ইউটিজের সাতটি আসন বাদ দিলে নেতানিয়াহুর জোটের আসনসংখ্যা দাঁড়াবে ৪৬টি। বিপরীতে আইজেনকটের জোটের আসন থাকবে ৪৮টি। এ অবস্থায় আইজেনকট আরব দল রা’মের সমর্থন চাইতে পারেন। এবারের নির্বাচনে মনসুর আব্বাসের নেতৃত্বাধীন দলটি নেসেটে আটটি আসন পেয়েছে।
মূলত নেতানিয়াহুর প্রতি অসন্তোষ থেকেই জোট পরিবর্তনের চিন্তা করছে ইউটিজে। ইহুদি ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছে দলটি। কিন্তু নেতানিয়াহুর সরকার তাদের এ দাবি পূরণ করতে পারেনি।
ইউটিজের এক সূত্র চ্যানেল ১২-কে জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর কাছ থেকে দলটির আর পাওয়ার কিছু নেই। তার সঙ্গে জোটের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, বিশেষ করে এখন তাঁর হাতে ৬১টি আসন না থাকায়। নেসেটে আবারও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করাই দলটির লক্ষ্য।
তবে বিরোধী শিবিরের সঙ্গে ইউটিজের সমঝোতার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে সামরিক নিয়োগের প্রশ্নটি। সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট প্রকাশ্যেই ইহুদি ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের সামরিক বাহিনীতে যোগদান বাধ্যতামূলক করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে, ইউটিজে এ বাধ্যবাধকতা থেকে ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের অব্যাহতি চায়। যদিও দলটির কয়েকজন নেতা মনে করছেন, আলোচনার মাধ্যমে এমন একটি আইনের খসড়া তৈরি করা সম্ভব, যা উভয় পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।







