
সিলেট প্রতিনিধি::সিলেটে গতকাল প্রথম নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন তারেক রহমান।ফ্যাসিবাদের মতোই এখনো ভোট ডাকাতির ষড়যন্ত্র চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সিলেট নগরের সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে গতকাল প্রথম নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।ফ্যাসিবাদের মতোই এখনো ভোট ডাকাতির ষড়যন্ত্র চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সিলেট নগরের সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে গতকাল প্রথম নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় দেশবাসীর সাহায্য ও দোয়া কামনা করে তারেক রহমান ধানের শীষকে জয়যুক্ত করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।তারেক রহমান বলেন, কিছুদিন ধরে খেয়াল করে দেখছি, বাংলাদেশের ভেতরে কোনো কোনো মহল ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করছে। গত কয়েকদিন ধরে আপনারা দেখেছেন, পত্র-পত্রিকায় এসেছে, বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে এসেছে, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে যে পোস্টাল ব্যালটগুলো পাঠানো হয়েছে, সেগুলো কীভাবে ডাকাতি করা হয়েছে। যারা এদেশ থেকে পালিয়েছে তারা যেভাবে ভোট ডাকাতি করেছিল, ঠিক একইভাবে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। সে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে।বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ২৪-এর গণ-আন্দোলনে সিলেটের ১৩ জন জীবন দান করেছেন। ইলিয়াস আলী, দিদার, জুনায়েদসহ হাজারো মানুষের প্রাণের বিনিময়ে আমরা যে অধিকার পেয়েছি, এর বিরুদ্ধে একটি কুচক্রী মহল এরই মধ্যে ষড়যন্ত্র শুরু করে দিয়েছে। দেশের ভেতরেও তাদের ষড়যন্ত্র থেমে নেই। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের জনগণ প্রমাণ করে দিয়েছে, দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকলে দেশের মানুষ রাস্তায় নেমে এলে, যেকোনো ষড়যন্ত্রকে তারা প্রতিহত করতে পারে।সিলেট জেলা ও মহানগর এবং সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজন করা হয় এ জনসভার। সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীর পরিচালনায় জনসভার শুরুতে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। ১১টার দিকে সভাস্থলে পৌঁছান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সকালেই উপস্থিত হন সিলেট ও সুনামগঞ্জের ১১টি আসনের প্রার্থীরা। জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবারের সদস্যদেরও সমাবেশের মঞ্চের পাশে অবস্থান নিতে দেখা যায়।তারেক রহমান দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মঞ্চে ওঠেন। জনসভায় আসার পর নেতাকর্মীরা ‘দুলা ভাই, দুলা ভাই’ স্লোগানে চারপাশ মুখর করে তোলেন। মঞ্চে উঠে বিএনপি চেয়ারম্যান হাত নেড়ে উপস্থিত নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী জুবাইদা রহমান। ১২টা ৫৮ মিনিটে তিনি বক্তব্য শুরু করেন। এর আগে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর এলাকার গ্র্যান্ড সিলেট হোটেলে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তারেক রহমান।দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, অন্য কোনো দেশ নয়, সবার আগে বাংলাদেশ উল্লেখ করে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘যেমন দিল্লি নয়, তেমন পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ। সবার আগে বাংলাদেশ। আমরা যেহেতু বিশ্বাস করি, দেশের মানুষই হচ্ছে আমাদের রাজনৈতিক সব ক্ষমতার উৎস। সে জন্যই আমরা দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে বিশ্বাস করি।তারেক রহমান বলেন, ‘কেউ কেউ বলে, অমুককে দেখেছি, তমুককে দেখেছি। এবার একে দেখেন। প্রিয় ভাই-বোনেরা, ১৯৭১ সালে যে যুদ্ধ, যে যুদ্ধে লক্ষ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে, আমাদের এ প্রিয় মাতৃভূমি, সেই মাতৃভূমিকে স্বাধীন করার সময় অনেকের ভূমিকা আমরা দেখেছি। যাদের ভূমিকার জন্য এ দেশের লক্ষ লক্ষ ভাইয়েরা শহীদ হয়েছেন। এ দেশের লক্ষ লক্ষ মা-বোনদের সম্মানহানি হয়েছে। তাদের তো বাংলাদেশের মানুষ দেখেই নিয়েছে।বক্তব্যের একপর্যায়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান জনসভায় শ্রোতা হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকা একজনকে মঞ্চে ডেকে নিয়ে প্রশ্ন করেন, ‘আপনি কাবা শরিফে গেছেন, কাবা শরিফের মালিক কে?’ ওই ব্যক্তি উত্তর দেন, আল্লাহ’। বিএনপি চেয়ারম্যান তখন সবার উদ্দেশে জানতে চান, ‘আমরা মুসলমান সবাই, এই দিন-দুনিয়ার আমরা যে এই পৃথিবী দেখি, এই পৃথিবীর মালিক কে?’ উত্তর আসে, ‘আল্লাহ। তারেক রহমান আবার প্রশ্ন করেন, এই সূর্য-নক্ষত্র যা দেখি তার মালিক কে? বেহেশতের মালিক কে? জবাব আসে, আল্লাহ। বিএনপি চেয়ারম্যান এবার জানতে চান, দোজখের মালিক কে? উত্তর আসে, আল্লাহ, আল্লাহ।এরপর তারেক রহমান বলেন, ‘আপনারা সবাই সাক্ষ্য দিলেন, পৃথিবীর মালিক আল্লাহ, বেহেশতের মালিক আল্লাহ, কাবার মালিক আল্লাহ। আরে ভাই, যেটার মালিক আল্লাহ, সেটা কী অন্য কেউ দেয়ার ক্ষমতা রাখে? রাখে না। তাহলে কী দাঁড়াল? নির্বাচনের আগেই একটি দল এই দিব, ওই দিব বলছে, টিকিট দেব, বলছে না? যেটার মালিক মানুষ নয়, সেটার কথা যদি সে বলে, তাহলে সেটা শিরক করা হচ্ছে না? যেটার মালিক আল্লাহ একমাত্র। সবকিছুর ওপরে আল্লাহর অধিকার। কাজেই আগেই তো আপনাদের ঠকাচ্ছে, নির্বাচনের পর কেমন ঠকানো ঠকাবে, আপনারা বোঝেন এবার।’
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই কুফরির বিরুদ্ধে, এই হঠকারিতার বিরুদ্ধে, এই মিথ্যার বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমাদের টেক ব্যাক বাংলাদেশে থাকতে হবে। আমরা দেশকে স্বৈরাচার থেকে মুক্ত করেছি। এখন মানুষের অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। শুধু ভোট, শুধু কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করলে হবে না, মানুষকে স্বাবলম্বী করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে।’আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের নির্বাচন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ১৫ থেকে ১৬ বছর ধরে আমরা দেখেছি কীভাবে একের পর এক নির্বাচনে ব্যালট বক্স ছিনতাই হয়েছে, কীভাবে আমি-ডামি নির্বাচন হয়েছে, কীভাবে নিশিরাতে নির্বাচন হয়েছে। তথাকথিত এ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার তথা রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছিল।তিনি আরো বলেন, ‘আমরা দেখেছি, বিগত ১৫ থেকে ১৬ বছরে উন্নয়নের নাম করে কীভাবে দেশের মানুষের সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করে দেয়া হয়েছে।সিলেটের পর একই দিনে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ভৈরব, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জসহ বেশ কয়েকটি স্থানে জনসভা ও পথসভায় বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।